ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় ভয়াবহ নদীভাঙন : ঝুঁকিতে খাদ্যগুদাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৪১ Time View
৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই উপকূলীয় জেলা বরগুনাজুড়ে ভয়াবহ নদীভাঙন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে বসতঘর, ফসলি জমি, সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ঝুঁকিতে পড়েছে সরকারি খাদ্যগুদাম, আবাসন প্রকল্প ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আতঙ্কে দিন কাটছে হাজারো উপকূলবাসীর।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া ও দক্ষিণ রামনা এলাকায়। বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার একমাত্র সরকারি খাদ্যগুদাম ও সরকারি আবাসন প্রকল্প। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে এসব স্থাপনা। খাদ্যগুদামটিতে সাধারণত ১২০০ থেকে ১৫০০ টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকে। এটি বিলীন হলে সরকারি সম্পদের বড় ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে। আবাসন প্রকল্পে থাকা শতাধিক পরিবারও গৃহহীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

 

দক্ষিণ রামনা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধটি ধসে পড়লে বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। বামনা ও বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বেতাগীর কালিকাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে। সম্প্রতি জোয়ারের পানিতে বিদ্যালয়ের রাস্তা ও ভবনের ফ্লোর প্লাবিত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বেড়েছে।

 

বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা, বড় বালিয়াতলী, লতাকাটা ও ডালভাঙা; বামনার দক্ষিণ রামনা ও কলাগাছিয়া; বেতাগীর কালিকাবাড়ি ও মোকামিয়া; পাথরঘাটার কাকচিড়া ও কালমেঘাসহ অন্তত কয়েকটি এলাকা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কাগজে-কলমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থাকলেও বাস্তবে অনেক স্থানে বাঁধের অস্তিত্ব নেই। কোথাও দায়সারাভাবে নির্মিত রিং বাঁধ জোয়ারের তোড়ে টিকছে না। ফলে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে জোয়ারের পানি।

 

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি পোল্ডারে মোট ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। কয়েকটি এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নতুন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে উপকূলবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর একই আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই তাদের জীবন কাটছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ১৫

বরগুনায় ভয়াবহ নদীভাঙন : ঝুঁকিতে খাদ্যগুদাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

Update Time : ১০:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই উপকূলীয় জেলা বরগুনাজুড়ে ভয়াবহ নদীভাঙন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে বসতঘর, ফসলি জমি, সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ঝুঁকিতে পড়েছে সরকারি খাদ্যগুদাম, আবাসন প্রকল্প ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আতঙ্কে দিন কাটছে হাজারো উপকূলবাসীর।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া ও দক্ষিণ রামনা এলাকায়। বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার একমাত্র সরকারি খাদ্যগুদাম ও সরকারি আবাসন প্রকল্প। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে এসব স্থাপনা। খাদ্যগুদামটিতে সাধারণত ১২০০ থেকে ১৫০০ টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকে। এটি বিলীন হলে সরকারি সম্পদের বড় ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে। আবাসন প্রকল্পে থাকা শতাধিক পরিবারও গৃহহীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

 

দক্ষিণ রামনা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধটি ধসে পড়লে বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। বামনা ও বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বেতাগীর কালিকাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে। সম্প্রতি জোয়ারের পানিতে বিদ্যালয়ের রাস্তা ও ভবনের ফ্লোর প্লাবিত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বেড়েছে।

 

বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা, বড় বালিয়াতলী, লতাকাটা ও ডালভাঙা; বামনার দক্ষিণ রামনা ও কলাগাছিয়া; বেতাগীর কালিকাবাড়ি ও মোকামিয়া; পাথরঘাটার কাকচিড়া ও কালমেঘাসহ অন্তত কয়েকটি এলাকা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কাগজে-কলমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থাকলেও বাস্তবে অনেক স্থানে বাঁধের অস্তিত্ব নেই। কোথাও দায়সারাভাবে নির্মিত রিং বাঁধ জোয়ারের তোড়ে টিকছে না। ফলে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে জোয়ারের পানি।

 

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি পোল্ডারে মোট ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। কয়েকটি এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নতুন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে উপকূলবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর একই আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই তাদের জীবন কাটছে।