ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৌরনদী উপজেলায় খাল খননে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের নতুন সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ Time View
১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর-সরিকলের প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন নাব্যতা হারিয়ে সংকুচিত হয়ে পরা খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি, সেচ ব্যবস্থা, মৎস্যসম্পদ, পানি নিষ্কাশন এবং পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা দেখছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

‎স্থানীয়দের মতে, বছরের পর বছর পলি জমে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পরতাে, আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পরতেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতো। পুনঃখননের পর খালটি আবারও পানি ধারণ ও স্বাভাবিক প্রবাহের সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব আলী শেখ বলেন, এই খাল পুনঃখনন আমাদের কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আগে সময়মতো জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন ছিল। এখন সেচব্যবস্থা সহজ হয়েছে, কৃষকরা অধিক জমিতে আবাদ করতে পারবেন। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে। কৃষক নিতাই মালি বলেন, আগে বছরে দুইবার ফসল ফলানো যেত। এখন পর্যাপ্ত পানি পাওয়ার কারণে তিনটি মৌসুমেই চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আমাদের জন্য বড় একটি অর্জন। ‎স্থানীয় কৃষক মো. কামাল ফকির বলেন, খাল পুনঃখননের সুফল শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় দেশীয় মাছের উৎপাদনও বাড়বে। কৃষি ও মৎস্য দুই খাতেই এই খাল এলাকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। স্থানীয় বাসিন্দা অধীর কুমার বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে পানির প্রবাহ অনেক বেড়েছে। এতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এলাকাবাসী এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সুফল পাওয়ার আশা করছেন।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‎গত ১৩ জুলাই গৌরনদীর পুনঃখননকৃত বাটাজোর-সরিকল খালের দুইপাশে বিভিন্ন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। একই অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খালের দুই তীরে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রীর রোপণ করা গাছগুলো বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিয়মিতভাবে পরিচর্যা করা হচ্ছে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, এই ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেন, খালের দুই পাশে রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করছে। কোথাও খালের পাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বা ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এই খাল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সুফল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনে বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

গৌরনদী উপজেলায় খাল খননে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের নতুন সম্ভাবনা

Update Time : ০৩:৩১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর-সরিকলের প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন নাব্যতা হারিয়ে সংকুচিত হয়ে পরা খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি, সেচ ব্যবস্থা, মৎস্যসম্পদ, পানি নিষ্কাশন এবং পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা দেখছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

‎স্থানীয়দের মতে, বছরের পর বছর পলি জমে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পরতাে, আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পরতেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতো। পুনঃখননের পর খালটি আবারও পানি ধারণ ও স্বাভাবিক প্রবাহের সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব আলী শেখ বলেন, এই খাল পুনঃখনন আমাদের কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আগে সময়মতো জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন ছিল। এখন সেচব্যবস্থা সহজ হয়েছে, কৃষকরা অধিক জমিতে আবাদ করতে পারবেন। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে। কৃষক নিতাই মালি বলেন, আগে বছরে দুইবার ফসল ফলানো যেত। এখন পর্যাপ্ত পানি পাওয়ার কারণে তিনটি মৌসুমেই চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আমাদের জন্য বড় একটি অর্জন। ‎স্থানীয় কৃষক মো. কামাল ফকির বলেন, খাল পুনঃখননের সুফল শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় দেশীয় মাছের উৎপাদনও বাড়বে। কৃষি ও মৎস্য দুই খাতেই এই খাল এলাকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। স্থানীয় বাসিন্দা অধীর কুমার বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে পানির প্রবাহ অনেক বেড়েছে। এতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এলাকাবাসী এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সুফল পাওয়ার আশা করছেন।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‎গত ১৩ জুলাই গৌরনদীর পুনঃখননকৃত বাটাজোর-সরিকল খালের দুইপাশে বিভিন্ন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। একই অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খালের দুই তীরে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রীর রোপণ করা গাছগুলো বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিয়মিতভাবে পরিচর্যা করা হচ্ছে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, এই ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেন, খালের দুই পাশে রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করছে। কোথাও খালের পাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বা ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এই খাল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সুফল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।