
ডেস্ক সংবাদ : চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় চীন, জাপান ও তাইওয়ানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০টির বেশি ফ্লাইট, বন্ধ রয়েছে শতাধিক ফেরি রুট। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৯ আগস্ট) সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পাশের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝু বিমানবন্দরেও ২৭০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস সৃষ্টি করে টাইফুন ‘ডলফিন’। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার গভীর রাত অথবা সোমবারের প্রথম দিকে ঝেজিয়াং কিংবা পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে ঝড়টি।
ওকিনাওয়ার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে সেখানে সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শতবর্ষী এক ব্যক্তিও রয়েছেন। প্রবল বাতাসে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় আঘাত পান।
স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল পর্যন্ত ওকিনাওয়ার প্রায় ৫ হাজার ২৯০টি বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
এদিকে টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার অবনতির কারণে কয়েক ডজন ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) রোববার সকালে টাইফুন ‘ডলফিন’ নিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্য ও পূর্ব ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত সাংহাই ছাড়াও ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসুর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
চীনের উপকূলে আঘাত হানার পর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় টাইফুনটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড় আঘাত হানার আগেই শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুজিয়ান প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ানে ২০০টির বেশি ফেরি রুট বন্ধ রাখা হয়েছে। সমুদ্রভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৭৪টি নির্মাণ ও কাজের জাহাজকে নিরাপদে বন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রোববার কিছু ট্রেন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
Reporter Name 





















