ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিভাগের সংঘর্ষ, আহত ১০

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দেয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দুটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হাতাহাতি ও মারধরের এই ঘটনায় ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় এই উত্তেজনা বিরাজ করে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় মুসা জোরপূর্বক ছাত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় পরবর্তীতে ওই ছাত্রীকে মুসা উত্ত্যক্ত করেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

 

উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে শনিবার রাত ৯টার দিকে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে মুসাকে মারধর করা হলে তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। এরপরই দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় মধ্যরাতে। রাত পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের আহত পাঁচ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়ার পথে ৩ নম্বর গেট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে তাদের নামিয়ে পুনরায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের বিভাগের এক জুনিয়র ছাত্রীকে ইংরেজি বিভাগের মুসা উত্ত্যক্ত করে এবং প্রেমের প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় তাকে আটকে রাখার অভিযোগও আমরা পাই। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হই। এ সময় ইংরেজি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী মারমুখী হয়ে এগিয়ে এলে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়।

তবে মুসাকে মারধরের ঘটনা কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মূলত উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। মুসা কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়া যেত, মারধর করাটা অনাকাঙ্ক্ষিত।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘বর্তমানে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন বারবার এ ধরনের সংঘাতে জড়াচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করতে প্রক্টরিয়াল টিম বসে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ১৫

প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিভাগের সংঘর্ষ, আহত ১০

Update Time : ১১:১৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দেয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দুটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হাতাহাতি ও মারধরের এই ঘটনায় ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় এই উত্তেজনা বিরাজ করে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় মুসা জোরপূর্বক ছাত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় পরবর্তীতে ওই ছাত্রীকে মুসা উত্ত্যক্ত করেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

 

উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে শনিবার রাত ৯টার দিকে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে মুসাকে মারধর করা হলে তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। এরপরই দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় মধ্যরাতে। রাত পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের আহত পাঁচ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়ার পথে ৩ নম্বর গেট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে তাদের নামিয়ে পুনরায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের বিভাগের এক জুনিয়র ছাত্রীকে ইংরেজি বিভাগের মুসা উত্ত্যক্ত করে এবং প্রেমের প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় তাকে আটকে রাখার অভিযোগও আমরা পাই। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হই। এ সময় ইংরেজি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী মারমুখী হয়ে এগিয়ে এলে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়।

তবে মুসাকে মারধরের ঘটনা কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মূলত উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। মুসা কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়া যেত, মারধর করাটা অনাকাঙ্ক্ষিত।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘বর্তমানে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন বারবার এ ধরনের সংঘাতে জড়াচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করতে প্রক্টরিয়াল টিম বসে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।