ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট, সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : তীব্র লোডশেডিংয়ের সঙ্গে গ্যাস সংকটে নাজেহাল জনজীবন। বিদ্যুতের লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে পানি সরবরাহ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম।

 

বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। এদিকে, দেশজুড়ে ফের তীব্র গ্যাস সংকটে বাড়ছে বিড়ম্বনা। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না গ্যাস। চুলা না জ্বলায় বাসাবাড়িতে শেষ নেই দুর্ভোগের।

তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং। ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে নাভিশ্বাস। এর মধ্যে গ্যাস সংকট আরও তীব্র। রান্না করতেই হিমশিম দশা। রাজশাহী নগরজুড়ে দিনে বিদ্যুৎ থাকছে না দুই থেকে চার ঘণ্টা। আর গ্রামাঞ্চলে থাকছে না ছয় থেকে আট ঘণ্টা।

 

নেসকো বলছে, রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ঘাটতি ২৪ মেগাওয়াট। আর ৫ উপজেলায় ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট পাচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

 

একইভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল, নওগাঁসহ জেলায় জেলায় বিদ্যুৎ মিলছে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক। দিনে কিছুটা থাকলেও রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যাহত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

 

এদিকে, মাসখানেক ধরেই গ্যাস সংকটে ধুঁকছে সারা দেশ। মাঝে কয়েক দিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, ফের এলএনজি সরবরাহ কমায় আবারও তীব্র ভোগান্তিতে মানুষ। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস।

 

মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের অজুহাত, নাকি গ্যাস সংকটের পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত; সেই প্রশ্নও তুলছেন গ্যাস সংগ্রহে আসা সাধারণ মানুষ।

গ্যাসের হাহাকারে সংকটে আবাসিক খাতও। কলাবাগান, ধানমন্ডি, মিরপুর, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর অনেক এলাকার বাসাবাড়িতে জ্বলছে না চুলা। আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোর।

 

এদিকে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত আটটার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে সব ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে, হাসপাতাল, খাবার ও ওষুধের দোকানকে এ নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে।

 

এদিকে, অতীতের ভুল নীতির ফলেই দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। কৌশলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

বুধবার থেকেই ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির ব্যাপারেও আশাবাদী প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো অসম্ভব, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে হাঁটছে মন্ত্রণালয়। এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো মাত্রায় সক্ষমতা আনতে ৭২ ঘণ্টার জন্য এটি বন্ধ রাখতে হবে। তবে কখন থেকে বন্ধ হবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় সাগরে জালে উঠলো বিরল কাঁকড়া, দেখে অবাক জেলেরা

বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট, সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন

Update Time : ০৫:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : তীব্র লোডশেডিংয়ের সঙ্গে গ্যাস সংকটে নাজেহাল জনজীবন। বিদ্যুতের লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে পানি সরবরাহ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম।

 

বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। এদিকে, দেশজুড়ে ফের তীব্র গ্যাস সংকটে বাড়ছে বিড়ম্বনা। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না গ্যাস। চুলা না জ্বলায় বাসাবাড়িতে শেষ নেই দুর্ভোগের।

তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং। ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে নাভিশ্বাস। এর মধ্যে গ্যাস সংকট আরও তীব্র। রান্না করতেই হিমশিম দশা। রাজশাহী নগরজুড়ে দিনে বিদ্যুৎ থাকছে না দুই থেকে চার ঘণ্টা। আর গ্রামাঞ্চলে থাকছে না ছয় থেকে আট ঘণ্টা।

 

নেসকো বলছে, রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ঘাটতি ২৪ মেগাওয়াট। আর ৫ উপজেলায় ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট পাচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

 

একইভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল, নওগাঁসহ জেলায় জেলায় বিদ্যুৎ মিলছে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক। দিনে কিছুটা থাকলেও রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যাহত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

 

এদিকে, মাসখানেক ধরেই গ্যাস সংকটে ধুঁকছে সারা দেশ। মাঝে কয়েক দিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, ফের এলএনজি সরবরাহ কমায় আবারও তীব্র ভোগান্তিতে মানুষ। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস।

 

মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের অজুহাত, নাকি গ্যাস সংকটের পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত; সেই প্রশ্নও তুলছেন গ্যাস সংগ্রহে আসা সাধারণ মানুষ।

গ্যাসের হাহাকারে সংকটে আবাসিক খাতও। কলাবাগান, ধানমন্ডি, মিরপুর, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর অনেক এলাকার বাসাবাড়িতে জ্বলছে না চুলা। আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোর।

 

এদিকে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত আটটার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে সব ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে, হাসপাতাল, খাবার ও ওষুধের দোকানকে এ নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে।

 

এদিকে, অতীতের ভুল নীতির ফলেই দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। কৌশলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

বুধবার থেকেই ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির ব্যাপারেও আশাবাদী প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো অসম্ভব, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে হাঁটছে মন্ত্রণালয়। এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো মাত্রায় সক্ষমতা আনতে ৭২ ঘণ্টার জন্য এটি বন্ধ রাখতে হবে। তবে কখন থেকে বন্ধ হবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।