ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় সাগরে জালে উঠলো বিরল কাঁকড়া, দেখে অবাক জেলেরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে মো. ইলিয়াছ মাঝির জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির বক্স ক্রাব বা লজ্জাবতী কাঁকড়া।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে অন্য মাছের সাথে কাঁকড়াটি পটুয়াখালীর মহীপুর মৎস্যবন্দরের আঁখি ফিশ আড়তে নেওয়া হয়।

 

অদ্ভুত আকৃতির কাঁকড়াটি খাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে জেলেদের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়। পরে বিক্রি না করে আড়তঘাট-সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীতে কাঁকড়াটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

জেলেরা জানান, কাঁকড়াটির খোলস সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় বেশ গোল ও চওড়া। খোলসটি শক্ত ও উঁচু এবং ওপরের অংশ দেখতে অনেকটা গম্বুজের মতো। এর ওপর ঘন কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ রয়েছে। দুই পাশে থাকা বড় ও মোটা দাঁড়াও এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

 

আঁখি ফিশের মো. আলামিন বলেন, অনেক মাছের সাথে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। তবে এ ধরনের কাঁকড়া সাধারণত দেখা যায় না। পরে জীবিত কাঁকড়াটিকে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। সাধারণত বালুময় ও কাদাময় নরম সমুদ্রতলে এবং কখনো প্রবাল প্রাচীরের আশপাশে ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়। তবে কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে এটি সচরাচর দেখা যায় না। এ কারণে স্থানীয় মানুষও সাধারণত এটি খায় না।

 

শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া। এগুলো সামনে ভাঁজ করে মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমাতেও এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ না করে প্রজাতির পরিচয়, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় সাগরে জালে উঠলো বিরল কাঁকড়া, দেখে অবাক জেলেরা

কুয়াকাটায় সাগরে জালে উঠলো বিরল কাঁকড়া, দেখে অবাক জেলেরা

Update Time : ০৫:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে মো. ইলিয়াছ মাঝির জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির বক্স ক্রাব বা লজ্জাবতী কাঁকড়া।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে অন্য মাছের সাথে কাঁকড়াটি পটুয়াখালীর মহীপুর মৎস্যবন্দরের আঁখি ফিশ আড়তে নেওয়া হয়।

 

অদ্ভুত আকৃতির কাঁকড়াটি খাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে জেলেদের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়। পরে বিক্রি না করে আড়তঘাট-সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীতে কাঁকড়াটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

জেলেরা জানান, কাঁকড়াটির খোলস সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় বেশ গোল ও চওড়া। খোলসটি শক্ত ও উঁচু এবং ওপরের অংশ দেখতে অনেকটা গম্বুজের মতো। এর ওপর ঘন কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ রয়েছে। দুই পাশে থাকা বড় ও মোটা দাঁড়াও এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

 

আঁখি ফিশের মো. আলামিন বলেন, অনেক মাছের সাথে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। তবে এ ধরনের কাঁকড়া সাধারণত দেখা যায় না। পরে জীবিত কাঁকড়াটিকে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। সাধারণত বালুময় ও কাদাময় নরম সমুদ্রতলে এবং কখনো প্রবাল প্রাচীরের আশপাশে ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়। তবে কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে এটি সচরাচর দেখা যায় না। এ কারণে স্থানীয় মানুষও সাধারণত এটি খায় না।

 

শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া। এগুলো সামনে ভাঁজ করে মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমাতেও এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ না করে প্রজাতির পরিচয়, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।