ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে হার্ট অ্যাটাক? এই ৩টি টেকনিক জানলে পকেটও বাঁচবে, মনও হাসবে!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫৪ Time View
২৩৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : মাসের প্রথম দিকে মনে হয় জীবনটা বেশ সুন্দরই চলছে। কিন্তু মাস শেষে যখন বিদ্যুৎ বিলের এসএমএস আসে, তখন মনে হয়—”আমি কি বাসায় থাকি, নাকি ছোটখাটো কোনো শিল্পকারখানা চালাই!”অনেকেই তখন দোষ দেন এসি, ফ্রিজ, বাচ্চাদের, এমনকি পাশের বাসার লোকজনকেও! অথচ সত্যিটা হলো, আমাদেরই কিছু ছোট ছোট অভ্যাস চুপিসারে মিটারের চাকাকে ম্যারাথন দৌড় করায়।

তাই আজ জেনে নিন এমন তিনটি টেকনিক, যেগুলো মানলে বিদ্যুৎ বিল কমবে, আর বিল হাতে নিয়ে আর “ইন্না লিল্লাহ…” পড়তে হবে না!

টেকনিক নম্বর ১: এসিকে অ্যান্টার্কটিকা বানাবেন না!অনেকের ধারণা, এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে চালালেই বুঝি ঘর পাঁচ মিনিটে সুইজারল্যান্ড হয়ে যাবে!বাস্তবতা হলো, তাতে শুধু ঘর নয়, আপনার বিদ্যুৎ বিলও জমে বরফের পাহাড় হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালানোর পরামর্শ দেন। এতে ঘরও ঠান্ডা থাকবে, বিদ্যুৎও কম খরচ হবে। আর মাসে একবার ফিল্টার পরিষ্কার করলে এসি কম কষ্ট করবে, আপনিও কম বিল দেবেন।

টেকনিক নম্বর ২: চার্জারকে বাসার স্থায়ী সদস্য বানাবেন না মোবাইল খুলে ফেলেছেন, কিন্তু চার্জার এখনও প্লাগে। টিভি বন্ধ, কিন্তু শুধু রিমোট দিয়ে। সেট-টপ বক্স, মাইক্রোওয়েভ, ডেস্কটপ—সবাই চুপচাপ বসে থেকেও বিদ্যুৎ খাচ্ছে!এটাকেই বলে Standby Power। বাইরে থেকে নিরীহ, কিন্তু মাস শেষে বিল বাড়ানোর গোপন নায়ক। কাজ শেষ? মূল সুইচ বন্ধ করুন। চার্জার খুলে রাখুন। অপ্রয়োজনীয় লাইট-ফ্যান বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, বিদ্যুতেরও সম্মান আছে—অকারণে তাকে দৌড় করাবেন না!

টেকনিক নম্বর ৩: LED বাল্ব লাগান, পকেটকে একটু হাসতে দিন পুরোনো বাল্বগুলো এমনভাবে বিদ্যুৎ খায়, যেন মাস শেষে বিলটা ওদের আত্মীয়ের বাড়ি যাবে!LED বাল্ব কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, বেশি আলো দেয় এবং অনেক দিন টিকে। নতুন ফ্রিজ, এসি বা ওয়াশিং মেশিন কিনলে অবশ্যই Energy Efficient বা উচ্চ Energy Rating-এর মডেল বেছে নিন। শুরুতে একটু বেশি খরচ হলেও পরে বিদ্যুৎ বিলে সেই টাকা সুদে-আসলে উঠে আসে।

বোনাস টিপস: এগুলোও ভুলবেন না!
দিনের আলো থাকতে লাইট জ্বালিয়ে “রাতের পরিবেশ” বানাবেন না। ফ্রিজের দরজা গল্প করার জন্য খুলে রাখবেন না। ওয়াশিং মেশিনে দুইটা জামা ধোয়ার জন্য আলাদা সাইকেল চালাবেন না।বাসা থেকে বের হওয়ার আগে একবার দেখে নিন—লাইট, ফ্যান, টিভি সত্যিই বন্ধ তো?

বিদ্যুৎ বিল কমানোর কোনো জাদুর মন্ত্র নেই। তবে এই তিনটি অভ্যাস যদি আজ থেকেই শুরু করেন, তাহলে পরের মাসে বিল হাতে নিয়ে অন্তত বলবেন, “আরে! এবার তো একটু কম এসেছে! পকেট বাঁচান, বিদ্যুৎ বাঁচান, আর নিজের অভ্যাসটাও একটু বদলান। কারণ মিটার কখনো মিথ্যা বলে না!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে হার্ট অ্যাটাক? এই ৩টি টেকনিক জানলে পকেটও বাঁচবে, মনও হাসবে!

Update Time : ০৫:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
২৩৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : মাসের প্রথম দিকে মনে হয় জীবনটা বেশ সুন্দরই চলছে। কিন্তু মাস শেষে যখন বিদ্যুৎ বিলের এসএমএস আসে, তখন মনে হয়—”আমি কি বাসায় থাকি, নাকি ছোটখাটো কোনো শিল্পকারখানা চালাই!”অনেকেই তখন দোষ দেন এসি, ফ্রিজ, বাচ্চাদের, এমনকি পাশের বাসার লোকজনকেও! অথচ সত্যিটা হলো, আমাদেরই কিছু ছোট ছোট অভ্যাস চুপিসারে মিটারের চাকাকে ম্যারাথন দৌড় করায়।

তাই আজ জেনে নিন এমন তিনটি টেকনিক, যেগুলো মানলে বিদ্যুৎ বিল কমবে, আর বিল হাতে নিয়ে আর “ইন্না লিল্লাহ…” পড়তে হবে না!

টেকনিক নম্বর ১: এসিকে অ্যান্টার্কটিকা বানাবেন না!অনেকের ধারণা, এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে চালালেই বুঝি ঘর পাঁচ মিনিটে সুইজারল্যান্ড হয়ে যাবে!বাস্তবতা হলো, তাতে শুধু ঘর নয়, আপনার বিদ্যুৎ বিলও জমে বরফের পাহাড় হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালানোর পরামর্শ দেন। এতে ঘরও ঠান্ডা থাকবে, বিদ্যুৎও কম খরচ হবে। আর মাসে একবার ফিল্টার পরিষ্কার করলে এসি কম কষ্ট করবে, আপনিও কম বিল দেবেন।

টেকনিক নম্বর ২: চার্জারকে বাসার স্থায়ী সদস্য বানাবেন না মোবাইল খুলে ফেলেছেন, কিন্তু চার্জার এখনও প্লাগে। টিভি বন্ধ, কিন্তু শুধু রিমোট দিয়ে। সেট-টপ বক্স, মাইক্রোওয়েভ, ডেস্কটপ—সবাই চুপচাপ বসে থেকেও বিদ্যুৎ খাচ্ছে!এটাকেই বলে Standby Power। বাইরে থেকে নিরীহ, কিন্তু মাস শেষে বিল বাড়ানোর গোপন নায়ক। কাজ শেষ? মূল সুইচ বন্ধ করুন। চার্জার খুলে রাখুন। অপ্রয়োজনীয় লাইট-ফ্যান বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, বিদ্যুতেরও সম্মান আছে—অকারণে তাকে দৌড় করাবেন না!

টেকনিক নম্বর ৩: LED বাল্ব লাগান, পকেটকে একটু হাসতে দিন পুরোনো বাল্বগুলো এমনভাবে বিদ্যুৎ খায়, যেন মাস শেষে বিলটা ওদের আত্মীয়ের বাড়ি যাবে!LED বাল্ব কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, বেশি আলো দেয় এবং অনেক দিন টিকে। নতুন ফ্রিজ, এসি বা ওয়াশিং মেশিন কিনলে অবশ্যই Energy Efficient বা উচ্চ Energy Rating-এর মডেল বেছে নিন। শুরুতে একটু বেশি খরচ হলেও পরে বিদ্যুৎ বিলে সেই টাকা সুদে-আসলে উঠে আসে।

বোনাস টিপস: এগুলোও ভুলবেন না!
দিনের আলো থাকতে লাইট জ্বালিয়ে “রাতের পরিবেশ” বানাবেন না। ফ্রিজের দরজা গল্প করার জন্য খুলে রাখবেন না। ওয়াশিং মেশিনে দুইটা জামা ধোয়ার জন্য আলাদা সাইকেল চালাবেন না।বাসা থেকে বের হওয়ার আগে একবার দেখে নিন—লাইট, ফ্যান, টিভি সত্যিই বন্ধ তো?

বিদ্যুৎ বিল কমানোর কোনো জাদুর মন্ত্র নেই। তবে এই তিনটি অভ্যাস যদি আজ থেকেই শুরু করেন, তাহলে পরের মাসে বিল হাতে নিয়ে অন্তত বলবেন, “আরে! এবার তো একটু কম এসেছে! পকেট বাঁচান, বিদ্যুৎ বাঁচান, আর নিজের অভ্যাসটাও একটু বদলান। কারণ মিটার কখনো মিথ্যা বলে না!