
লাাইফস্টাইল ডেস্ক : ঈদ, বিয়ে, দাওয়াত কিংবা পারিবারিক আয়োজন-পোলাও ছাড়া যেন বাঙালির উৎসবই পূর্ণতা পায় না। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন, সব উপকরণ ঠিকভাবে ব্যবহার করার পরও পোলাও ঝরঝরে হয় না। কখনও চাল ভেঙে যায়, কখনও আবার অতিরিক্ত নরম হয়ে একেবারে লেপ্টে যায়।
রান্নাবিদদের মতে, ঝরঝরে পোলাও তৈরির রহস্য শুধু রেসিপিতে নয়, বরং কয়েকটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলে লুকিয়ে আছে।
১. ভালো মানের চাল নির্বাচন করুন
ঝরঝরে পোলাওয়ের প্রথম শর্ত হলো উন্নত মানের চাল। বাংলাদেশে কালিজিরা, চিনিগুঁড়া কিংবা বাসমতি চাল দিয়ে চমৎকার পোলাও তৈরি করা যায়। পুরোনো চাল সাধারণত নতুন চালের তুলনায় বেশি ঝরঝরে হয়।
২. চাল ধোয়ার পর বিশ্রাম দিন
চাল কয়েকবার ধুয়ে পরিষ্কার করার পর অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট ঝরিয়ে রাখুন। এতে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায় এবং রান্নার সময় চালের দানা শক্ত থাকে।
৩. ঘি ও তেলে চাল ভালোভাবে ভেজে নিন
রান্নার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো চালকে হালকা আঁচে ৩ থেকে ৫ মিনিট ঘি বা তেলের সঙ্গে নাড়াচাড়া করা। এতে চালের বাইরের স্তর শক্ত হয় এবং রান্নার পর দানাগুলো আলাদা থাকে।
৪. পানির পরিমাণই আসল রহস্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পানি পোলাও নষ্ট করার সবচেয়ে বড় কারণ। চালের ধরন অনুযায়ী পরিমিত পানি ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে প্রথমবার কম পানি দিয়ে পরে অল্প গরম পানি যোগ করা নিরাপদ।
৫. ফুটন্ত পানি ব্যবহার করুন
ঠান্ডা পানির পরিবর্তে ফুটন্ত পানি ব্যবহার করলে রান্না দ্রুত ও সমানভাবে হয়। এতে চালের দানা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
৬. রান্নার সময় বারবার নাড়বেন না
অনেকেই বারবার নেড়ে দেখেন পোলাও হয়েছে কি না। এতে চাল ভেঙে যায় এবং ঝরঝরে ভাব নষ্ট হয়। এক-দুবারের বেশি নাড়ার প্রয়োজন নেই।
৭. ঢাকনা খুলতে তাড়াহুড়ো করবেন না
রান্না শেষ হওয়ার পর চুলা বন্ধ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ঢাকনা বন্ধ রাখুন। এই সময়ের মধ্যে ভেতরের বাষ্প ধীরে ধীরে চালকে নিখুঁতভাবে সেদ্ধ করে।
৮. কাঁটাচামচ দিয়ে আলগা করুন
পরিবেশনের আগে চামচের পরিবর্তে একটি কাঁটাচামচ দিয়ে আস্তে আস্তে চাল আলাদা করুন। এতে প্রতিটি দানা অক্ষত থাকবে এবং দেখতে আরও আকর্ষণীয় লাগবে।
৯. অতিরিক্ত ভিজিয়ে রাখবেন না
অনেকে দীর্ঘ সময় চাল পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। এতে চাল অতিরিক্ত নরম হয়ে যায়। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখাই যথেষ্ট।
১০. সুগন্ধ বাড়ানোর ছোট্ট কৌশল
দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, তেজপাতা এবং সামান্য জয়ত্রী বা জায়ফল ব্যবহার করলে পোলাওয়ের ঘ্রাণ অনেক বেড়ে যায়। রান্নার একেবারে শেষে অল্প ঘি ছড়িয়ে দিলে স্বাদ ও সুবাস আরও সমৃদ্ধ হয়।
বাংলাদেশের রান্নাঘরের জন্য বাড়তি পরামর্শ
দেশের অনেক এলাকায় গ্যাসের আঁচ ওঠানামা করে। তাই পোলাওয়ের পানি শুকিয়ে এলে চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে দিন। সম্ভব হলে নিচে একটি তাওয়া বসিয়ে ‘দম’ দিন। এতে পাত্রের নিচে চাল পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং পুরো পোলাও সমানভাবে রান্না হয়।
ঝরঝরে পোলাও তৈরির জন্য দামি উপকরণের চেয়ে বেশি জরুরি সঠিক কৌশল। ভালো মানের চাল, পরিমিত পানি, নিয়ন্ত্রিত আঁচ এবং পর্যাপ্ত দম-এই চারটি বিষয় মেনে চললেই ঘরেই তৈরি করা সম্ভব রেস্টুরেন্টের মতো সুগন্ধি ও ঝরঝরে পোলাও। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোই আপনার প্রতিটি উৎসবের খাবারকে করে তুলতে পারে আরও সুস্বাদু ও নিখুঁত।
Reporter Name 

























