ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলই সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

ডেস্ক সংবাদ : মো. সাহাবুদ্দীন পদত্যাগ করার পর থেকেই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট পদে ভোগ গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে সরকারি দল বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে? দল ও দলের বাইরে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে পৃথকভাবে পরামর্শও করেছেন। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নামই প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখান থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। সম্ভাব্য পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদে তিনিই প্রায় চূড়ান্ত বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর পরের পছন্দে রয়েছেন ড. মঈন খান। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আজই। দুপুরে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।

 

এদিকে প্রেসিডেন্ট পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়ন পেলে শূণ্য হবে দলের মহাসচিবের পদ। ফলে সেখানেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে দলটিকে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরবর্তী মহাসচিব পদ নিয়ে এখনো স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করলেও কয়েকটি নাম আলোচিত হচ্ছে দলের মধ্যেই। এর মধ্যে রয়েছেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, মো. সাহাবুদ্দীন পদত্যাগ করার পর থেকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে আলোচনা শুরু হয়। দলটির স্থায়ী কমিটির সভায় এই পদে প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তিনিও ইতোমধ্যে কমিটির সদস্যদের সাথে পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে কাকে প্রার্থী করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, তাদের কাউকে কাউকে ফোন করে, কাউকে আবার ডেকে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি (স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য) কাকে যোগ্য মনে করেন? এর উত্তরে বেশিরভাগ সদস্যই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম প্রস্তাব করেন। এরমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দের নামও উল্লেখ করেন। যেখানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এরপরই ড. মঈন খান। যদিও নজরুল ইসলাম খান নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি শারীরিকভাবে অবস্থতার কারণে এই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।

স্থায়ী কমিটির একটি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট পদে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা কেবল প্রধানমন্ত্রীই জানেন। তবে শর্ট লিস্টে মির্জা ফখরুল ও মঈন খানের নাম এসেছে বলে ওই সূত্র জানতে পেরেছে। এর মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই-সংগ্রামে দলকে দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দেয়া, প্রচ- চাপের মধ্যে দল ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় এগিয়ে থাকছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে এবং সেই সময় প্রেসিডেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও চাপ নিতে হবে- সেটি মাথায় রেখেই বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন করছে। এক্ষেত্রেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই এগিয়ে রাখছে বিএনপি। ফলে প্রেসিডেন্ট পদে তার মনোনয়ন পাওয়ায়ও প্রায় চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আজই। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পুনরায় মতামত জানতে চাইতে পারেন এবং নিজে ওই পদে নাম প্রস্তাব করবেন। পরবর্তীতে যাকে মনোনয়নের জন্য চূড়ান্ত করা হবে সেটি বেলা ২টা-৩টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছি, উনি ঠিক করবেন কাকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেয়া যায়। অপেক্ষা করেন, বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ উনার সাথে সাক্ষাত করবেন। এরপরই হয়তো ঘোষণা করা হবে।

মহাসচিব পদে আলোচনা: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পেলে বিএনপি মহাসচিব পদ শূণ্য হবে। বর্তমানে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন রুহুল কবির রিজভী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোন কারণে মহাসচিব পদ শূণ্য হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করলে ২০ মার্চ তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

 

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, বর্তমান মহাসচিব প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে মহাসচিব পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। আবার দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যান চাইলে এই পদে যে কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন এবং তিনি পরবর্তীতে স্থায়ী কমিটির সভায় সেটি অনুমোদন করে নিবেন।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার সাথে প্রেসিডেন্ট পদের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন। মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে সেই আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। কারণ যদি মির্জা ফখরুল প্রেসিডেন্ট হন সেক্ষেত্রে এটি আলোচনার বিষয়, আর যদি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তাহলে এর প্রয়োজন হবে না। তাই আগে দেখতে হবে প্রেসিডেন্ট পদে কাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।

এদিকে মির্জা ফখরুলকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদে ধরে নিয়েই মহাসচিব পদে কে বসতে যাচ্ছেন সেটি নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেলের নাম আলোচনা হচ্ছে।

 

দলটির স্থায়ী কমিটি ও একাধিক সূত্র জানায়, মহাসচিব পদেও কাকে বসানো হবে সেই সিদ্ধান্ত নিবেন তারেক রহমান। তবে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান, দলের প্রতি ডেডিকেশন, জিয়া পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে দায়িত্ব দেয়া হবে।

আলোচনায় থাকা নেতৃবৃন্দের মধ্যে- সালাহউদ্দীন আহমদকে আওয়ামী শাসনামলে গুম অবস্থায় ভারতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তিনি ২০২৪’র ৫ আগস্ট পর্যন্ত শিলংয়ে ছিলেন। রুহুল কবির রিজভী দলের দুর্দিনে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। যখন রাজপথে নামতে অনেকের বুক কাপতো তখন তিনি প্রতিবাদ-মিছিল করেছেন, একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জেলে গেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের গ্রেফতার-হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে দীর্ঘদিন একাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ফ্যাসিবাদের পুরোটা সময় রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে। হাবিব উন নবী খান সোহেল ছিলেন আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মামলার আসামী। এর সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এখনো মহাসচিব নিয়ে কোন আলোচনা শুনিনি। প্রয়োজন হলে তখন দল আলোচনা করে ঠিক করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

মির্জা ফখরুলই সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট

Update Time : ০৪:৫৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ডেস্ক সংবাদ : মো. সাহাবুদ্দীন পদত্যাগ করার পর থেকেই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট পদে ভোগ গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে সরকারি দল বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে? দল ও দলের বাইরে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে পৃথকভাবে পরামর্শও করেছেন। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নামই প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখান থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। সম্ভাব্য পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদে তিনিই প্রায় চূড়ান্ত বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর পরের পছন্দে রয়েছেন ড. মঈন খান। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আজই। দুপুরে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।

 

এদিকে প্রেসিডেন্ট পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়ন পেলে শূণ্য হবে দলের মহাসচিবের পদ। ফলে সেখানেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে দলটিকে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরবর্তী মহাসচিব পদ নিয়ে এখনো স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করলেও কয়েকটি নাম আলোচিত হচ্ছে দলের মধ্যেই। এর মধ্যে রয়েছেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, মো. সাহাবুদ্দীন পদত্যাগ করার পর থেকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে আলোচনা শুরু হয়। দলটির স্থায়ী কমিটির সভায় এই পদে প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তিনিও ইতোমধ্যে কমিটির সদস্যদের সাথে পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে কাকে প্রার্থী করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, তাদের কাউকে কাউকে ফোন করে, কাউকে আবার ডেকে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি (স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য) কাকে যোগ্য মনে করেন? এর উত্তরে বেশিরভাগ সদস্যই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম প্রস্তাব করেন। এরমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দের নামও উল্লেখ করেন। যেখানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এরপরই ড. মঈন খান। যদিও নজরুল ইসলাম খান নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি শারীরিকভাবে অবস্থতার কারণে এই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।

স্থায়ী কমিটির একটি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট পদে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা কেবল প্রধানমন্ত্রীই জানেন। তবে শর্ট লিস্টে মির্জা ফখরুল ও মঈন খানের নাম এসেছে বলে ওই সূত্র জানতে পেরেছে। এর মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই-সংগ্রামে দলকে দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দেয়া, প্রচ- চাপের মধ্যে দল ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় এগিয়ে থাকছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে এবং সেই সময় প্রেসিডেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও চাপ নিতে হবে- সেটি মাথায় রেখেই বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন করছে। এক্ষেত্রেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই এগিয়ে রাখছে বিএনপি। ফলে প্রেসিডেন্ট পদে তার মনোনয়ন পাওয়ায়ও প্রায় চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আজই। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পুনরায় মতামত জানতে চাইতে পারেন এবং নিজে ওই পদে নাম প্রস্তাব করবেন। পরবর্তীতে যাকে মনোনয়নের জন্য চূড়ান্ত করা হবে সেটি বেলা ২টা-৩টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছি, উনি ঠিক করবেন কাকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেয়া যায়। অপেক্ষা করেন, বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ উনার সাথে সাক্ষাত করবেন। এরপরই হয়তো ঘোষণা করা হবে।

মহাসচিব পদে আলোচনা: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পেলে বিএনপি মহাসচিব পদ শূণ্য হবে। বর্তমানে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন রুহুল কবির রিজভী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোন কারণে মহাসচিব পদ শূণ্য হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করলে ২০ মার্চ তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

 

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, বর্তমান মহাসচিব প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে মহাসচিব পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। আবার দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যান চাইলে এই পদে যে কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন এবং তিনি পরবর্তীতে স্থায়ী কমিটির সভায় সেটি অনুমোদন করে নিবেন।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার সাথে প্রেসিডেন্ট পদের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন। মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে সেই আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। কারণ যদি মির্জা ফখরুল প্রেসিডেন্ট হন সেক্ষেত্রে এটি আলোচনার বিষয়, আর যদি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তাহলে এর প্রয়োজন হবে না। তাই আগে দেখতে হবে প্রেসিডেন্ট পদে কাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।

এদিকে মির্জা ফখরুলকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদে ধরে নিয়েই মহাসচিব পদে কে বসতে যাচ্ছেন সেটি নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেলের নাম আলোচনা হচ্ছে।

 

দলটির স্থায়ী কমিটি ও একাধিক সূত্র জানায়, মহাসচিব পদেও কাকে বসানো হবে সেই সিদ্ধান্ত নিবেন তারেক রহমান। তবে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান, দলের প্রতি ডেডিকেশন, জিয়া পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে দায়িত্ব দেয়া হবে।

আলোচনায় থাকা নেতৃবৃন্দের মধ্যে- সালাহউদ্দীন আহমদকে আওয়ামী শাসনামলে গুম অবস্থায় ভারতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তিনি ২০২৪’র ৫ আগস্ট পর্যন্ত শিলংয়ে ছিলেন। রুহুল কবির রিজভী দলের দুর্দিনে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। যখন রাজপথে নামতে অনেকের বুক কাপতো তখন তিনি প্রতিবাদ-মিছিল করেছেন, একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জেলে গেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের গ্রেফতার-হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে দীর্ঘদিন একাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ফ্যাসিবাদের পুরোটা সময় রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে। হাবিব উন নবী খান সোহেল ছিলেন আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মামলার আসামী। এর সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এখনো মহাসচিব নিয়ে কোন আলোচনা শুনিনি। প্রয়োজন হলে তখন দল আলোচনা করে ঠিক করবে।