ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিপুরে কেয়ার মডেল হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, আতঙ্কে রোগী-কর্মীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৯ Time View
১০৭
এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়াঃ মহিপুর-এ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কেয়ার মডেল হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনায় হাসপাতালে থাকা রোগী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল-এর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়ামের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন যুবককে হাসপাতালে ঢুকে গ্লাস, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। এ সময় রোগী ও স্বজনরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
হামলায় আহত মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদল-এর প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনের দুই হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সিয়াম মাহমুদ, আকরাম, মো. বাপ্পী, ইসমাইল, রিফাত পারভেজ, আব্দুল্লাহ, সৌরভ, ইমরান, আরিফ ও জয়ানালসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
অভিযুক্ত সিয়াম বলেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ও কামরুল তাদের কয়েকজনকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হাসপাতালে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়।
কেয়ার মডেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, হাসপাতালের বাইরে দুই পক্ষের মারামারির এক পর্যায়ে এক পক্ষ হাসপাতালে ঢুকে পড়ে। তাদের পিছু নিয়ে ১০-১২ জন যুবক ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী-কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
মহিপুর থানা বিএনপি-র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপিতে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই।
মহিপুর থানা-র ওসি মহব্বত খান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় এক পক্ষ হাসপাতালে ঢুকে গেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাকেরগঞ্জে গাছ পড়ে ঘরচাপায় শিশু সহ গৃহবধূ আহত

মহিপুরে কেয়ার মডেল হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, আতঙ্কে রোগী-কর্মীরা

Update Time : ০৩:৪৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১০৭
এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়াঃ মহিপুর-এ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কেয়ার মডেল হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনায় হাসপাতালে থাকা রোগী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল-এর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়ামের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন যুবককে হাসপাতালে ঢুকে গ্লাস, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। এ সময় রোগী ও স্বজনরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
হামলায় আহত মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদল-এর প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনের দুই হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সিয়াম মাহমুদ, আকরাম, মো. বাপ্পী, ইসমাইল, রিফাত পারভেজ, আব্দুল্লাহ, সৌরভ, ইমরান, আরিফ ও জয়ানালসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
অভিযুক্ত সিয়াম বলেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ও কামরুল তাদের কয়েকজনকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হাসপাতালে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়।
কেয়ার মডেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, হাসপাতালের বাইরে দুই পক্ষের মারামারির এক পর্যায়ে এক পক্ষ হাসপাতালে ঢুকে পড়ে। তাদের পিছু নিয়ে ১০-১২ জন যুবক ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী-কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
মহিপুর থানা বিএনপি-র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপিতে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই।
মহিপুর থানা-র ওসি মহব্বত খান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় এক পক্ষ হাসপাতালে ঢুকে গেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।