ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভরা মৌসুমেও বিষখালী নদীতে ইলিশের দেখা নেই, হতাশ জেলেরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার বেতাগীতে ইলিশের ভরা মৌসুমেও বিষখালী নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। প্রতিদিন জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা। মৌসুমকে ঘিরে দাদন ও ধারদেনা করে নৌকা মেরামত, জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে নদীতে নামলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

 

বেতাগীর জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের এ সময়টিকে ইলিশ আহরণের প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই মৌসুম শুরুর আগেই অনেক জেলে দাদন ও ধারদেনা করে নৌকা মেরামত এবং নতুন জালসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে বিষখালী নদীতে ইলিশের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় তাদের আয়-রোজগারেও ভাটা পড়েছে।

 

উপজেলার ঝোপখালী গ্রামের জেলে আফজাল হোসেন ও সোহেল বলেন, ‘এ বছর যতবারই জাল ফেলছি, তেমন ইলিশ পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে দাদনের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়েও চিন্তায় আছি।

 

মোকামিয়া ও বদনিখালী এলাকার জেলেরাও একই ধরনের হতাশার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিবছর এ সময়ে বিষখালী নদীতে কমবেশি ইলিশ পাওয়া গেলেও চলতি মৌসুমে ইলিশের পরিমাণ অনেকটাই কম। ফলে জাল ও নৌকা নিয়ে দিনের পর দিন নদীতে অবস্থান করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বেতাগী উপজেলা সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘প্রতিবছর কমবেশি বিষখালী নদীতে ইলিশ পাওয়া গেলেও এ বছর ইলিশের পরিমাণ খুবই কম। নদীতে নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীতে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের কারণে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে বলে তাদের ধারণা। নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

ভরা মৌসুমেও বিষখালী নদীতে ইলিশের দেখা নেই, হতাশ জেলেরা

Update Time : ১১:৪০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার বেতাগীতে ইলিশের ভরা মৌসুমেও বিষখালী নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। প্রতিদিন জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা। মৌসুমকে ঘিরে দাদন ও ধারদেনা করে নৌকা মেরামত, জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে নদীতে নামলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

 

বেতাগীর জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের এ সময়টিকে ইলিশ আহরণের প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই মৌসুম শুরুর আগেই অনেক জেলে দাদন ও ধারদেনা করে নৌকা মেরামত এবং নতুন জালসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে বিষখালী নদীতে ইলিশের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় তাদের আয়-রোজগারেও ভাটা পড়েছে।

 

উপজেলার ঝোপখালী গ্রামের জেলে আফজাল হোসেন ও সোহেল বলেন, ‘এ বছর যতবারই জাল ফেলছি, তেমন ইলিশ পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে দাদনের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়েও চিন্তায় আছি।

 

মোকামিয়া ও বদনিখালী এলাকার জেলেরাও একই ধরনের হতাশার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিবছর এ সময়ে বিষখালী নদীতে কমবেশি ইলিশ পাওয়া গেলেও চলতি মৌসুমে ইলিশের পরিমাণ অনেকটাই কম। ফলে জাল ও নৌকা নিয়ে দিনের পর দিন নদীতে অবস্থান করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বেতাগী উপজেলা সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘প্রতিবছর কমবেশি বিষখালী নদীতে ইলিশ পাওয়া গেলেও এ বছর ইলিশের পরিমাণ খুবই কম। নদীতে নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীতে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের কারণে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে বলে তাদের ধারণা। নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।