ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন চাষের সম্ভাবনা: ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দুমকিতে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আমনের চারা রোপন শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দুমকি উপজেলার কৃষকরা আমন ধান চাষে অধিক আগ্রহী।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমিতে আমন ধান রোপনের কাজ করছে কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরিতে বিলম্ব, কোন কোন কৃষক ২ বার‌ও বীজ বুনেছেন। তবে বর্তমানে বীজের অবস্থা ভালো বলে জানান কৃষকরা। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দ্বারা জমি চাষ থেকে শুরু করে চারা রোপন পর্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটছে চাষীদের।

 

শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উঁচু জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধানের চারা রোপণ শেষ করেছেন। বর্তমানে আমন চারা রোপনের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন তারা। সময়মতো বৃষ্টি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের চারা রোপন সহজ হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। কোন কোন জমিতে চলছে চাষ, বীজ তলা থেকে তোলা হচ্ছে আমন চারা।

দুমকি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর। তবে বাস্তবে ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমি চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, নলদোয়ানী, হাজীর হাট, লেবুখালী, কার্তিকপাশা, আঠারোগগাছিয়া, আঙ্গারিয়া, বাহেরচর, জলিশা, শ্রীরামপুর‌, রাজাখালী, চরবয়ড়া, উত্তর মুরাদিয়া ও দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার কৃষকরা জানান অধিকাংশ জমিতে বছরে তিনবার ফসল করার উপযোগী। ভাদ্র মাসের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

 

দক্ষিণ শ্রীরামপুর স্যানের চরের কৃষক সুলতান ফকির (৭০) বলেন, তিনি একই জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন, ধান কেটে এখন পুনরায় আমন ধান চারা বপনের জন্য জমি তৈরি ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

দক্ষিণ মুরাদিয়ার অপর এক কৃষক শূশীল মৌয়ালী (৫০) জানান, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও লেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় জমি চাষাবাদে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তা ছাড়াও চরা মূল্যে শ্রমিক দিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে।

 

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন বলেন,মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে কৃষকদের বীজতলা তৈরি ও বীজ বুননে বিঘ্ন ঘটলে ও বর্তমানে বীজের অবস্থা বেশ ভালো। কৃষকদের দেশী জাতের আমন ধান চাষের প্রবনতা থাকলেও আমরা উচ্চ ফলনশীল ব্রী-ধান ১০৩ জাতের চিকন ও সুগন্ধি ধান চাষের জন্য পরামর্শ দিয়েছি।এছাড়াও কৃষকরা ব্রিধান ৪৯,৭৫,৮০,৯৮ এবং বিনা ধান ৭,১৭ ও ২৬ চাষাবাদ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমনের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জমি চাষাবাদ‌, সঠিক সময়ে, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, আমন চারা বপনের ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ‌ প্রদান করা হচ্ছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন

দুমকিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন চাষের সম্ভাবনা: ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা

Update Time : ১১:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দুমকিতে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আমনের চারা রোপন শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দুমকি উপজেলার কৃষকরা আমন ধান চাষে অধিক আগ্রহী।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমিতে আমন ধান রোপনের কাজ করছে কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরিতে বিলম্ব, কোন কোন কৃষক ২ বার‌ও বীজ বুনেছেন। তবে বর্তমানে বীজের অবস্থা ভালো বলে জানান কৃষকরা। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দ্বারা জমি চাষ থেকে শুরু করে চারা রোপন পর্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটছে চাষীদের।

 

শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উঁচু জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধানের চারা রোপণ শেষ করেছেন। বর্তমানে আমন চারা রোপনের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন তারা। সময়মতো বৃষ্টি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের চারা রোপন সহজ হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। কোন কোন জমিতে চলছে চাষ, বীজ তলা থেকে তোলা হচ্ছে আমন চারা।

দুমকি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর। তবে বাস্তবে ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমি চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, নলদোয়ানী, হাজীর হাট, লেবুখালী, কার্তিকপাশা, আঠারোগগাছিয়া, আঙ্গারিয়া, বাহেরচর, জলিশা, শ্রীরামপুর‌, রাজাখালী, চরবয়ড়া, উত্তর মুরাদিয়া ও দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার কৃষকরা জানান অধিকাংশ জমিতে বছরে তিনবার ফসল করার উপযোগী। ভাদ্র মাসের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

 

দক্ষিণ শ্রীরামপুর স্যানের চরের কৃষক সুলতান ফকির (৭০) বলেন, তিনি একই জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন, ধান কেটে এখন পুনরায় আমন ধান চারা বপনের জন্য জমি তৈরি ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

দক্ষিণ মুরাদিয়ার অপর এক কৃষক শূশীল মৌয়ালী (৫০) জানান, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও লেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় জমি চাষাবাদে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তা ছাড়াও চরা মূল্যে শ্রমিক দিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে।

 

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন বলেন,মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে কৃষকদের বীজতলা তৈরি ও বীজ বুননে বিঘ্ন ঘটলে ও বর্তমানে বীজের অবস্থা বেশ ভালো। কৃষকদের দেশী জাতের আমন ধান চাষের প্রবনতা থাকলেও আমরা উচ্চ ফলনশীল ব্রী-ধান ১০৩ জাতের চিকন ও সুগন্ধি ধান চাষের জন্য পরামর্শ দিয়েছি।এছাড়াও কৃষকরা ব্রিধান ৪৯,৭৫,৮০,৯৮ এবং বিনা ধান ৭,১৭ ও ২৬ চাষাবাদ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমনের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জমি চাষাবাদ‌, সঠিক সময়ে, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, আমন চারা বপনের ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ‌ প্রদান করা হচ্ছে।