
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদ উল আজহা’তেও স্থাণীয় গবাদিপশু দিয়েই কোরবানি করবেন বরিশালের মানুষ। ৪ লক্ষাধিক পশু কোরবানির পরেও ৬৫ হাজার উদ্বৃত্ত থাকবে। বিগত এক দশক ধরে প্রতিবেশী দেশের পশু রপ্তানী বন্ধের সুযোগে সারা দেশের মত বরিশালের প্রাণি সম্পদ খাতেও এক নিরব বিপ্লব ঘটে গেছে। নিকট অতীতে কোরবানির সময় ভারতীয় গরু আমদানী ও চোরাই পথে প্রবেস করাকেই নিয়ম করে ফেলেছিল একটি মহল।
কিন্তু ভারত সরকার গরু রপ্তানী বন্ধের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীরও কঠোর নজরদারীর ফলে দেশি গরুতেই কোরবানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। সাথে গত এক দশকে সারা দেশের মত বরিশাল অঞ্চলেও গবাদিপশুর উৎপাদন বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। ফলে গত কয়েক বছর ধরে বরিশালেও স্থানীয় গবাদী পশুতেই ঈদ উল আজহায় কোরবানী সম্পন্ন হচ্ছে।
প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মোঃ মাহফুজুল হক জানিয়েছেন, গত বছর এ অঞ্চলে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫২টি পশু কোরবাণির প্রাক্কলনের বিপরিতে প্রাপ্যতা ছিল প্রায় ৪.৬০ লাখ। ফলে ৬৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে গত বছর এ অঞ্চলে কিছু বেশি ৪ লাখ ৭৮৩টি পশু কোরবানি হলেও প্রায় ৫৯ হাজারেরও বেশি পশু উদ্বৃত্ত ছিল।
একইভাবে চলতি বছর বরিশাল অঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় গত বছরের মতই ৪ লাখ ৭৮৩টি পশু কোরবানির প্রাক্কলন করেছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। তবে এবার গবাদি পশুর প্রাপ্যতা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি, ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। ফলে আসন্ন ঈদ উল আজহাতে বরিশাল অঞ্চলে গত বছরের প্রাক্কলনের চেয়ে বেশী কোরবানি হলেও ৬০ হাজার থেকে ৬৭ হাজার পর্যন্ত গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর।
প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের এ পরিসংখ্যানটি সরেজমিনে এ অঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার খামারীর কাছে মজুদ গবাদি পশুর হিসেব থেকে তৈরী করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও এ অঞ্চলের গৃহস্থ্য পর্যায়েও লক্ষাধিক গবাদি পশু রয়েছে। যা পারিবারিক পর্যায়ে লালন পালন করে কোরবানির সময় বিক্রীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে মনে করছে দায়িত্বশীল মহল। এছাড়া বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল থেকে সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের বকনা বাছুর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বানিজ্যিক খামারিরা কিনে নিয়ে বছর যুড়ে হৃষ্ট-পুষ্ট করে আবার এ অঞ্চলেই বিক্রীর জন্য নিয়ে আসে। সড়ক ও নৌ পথে এধরনের অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক গরু বরিশাল অঞ্চলে আসবে বলেও মনে করছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর।
ফলে আসন্ন ঈদ উল আজহায় পুরো দক্ষিণাঞ্চলে কোরবানির পশুর ঘাটতি দুরের কথা, উদ্বৃত্ত পশু নিয়ে খামারীদের কিছুটা মানিষক চাপেও থাকতে হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবাহাল মহল।
এদিকে এবার বরিশালের ৪২টি উপজেলায় ৩০৬টি কোরবানির পশুর হাট মিলবে বলে আশা করছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর থেকে এসব হাটের জন্য ১০২টি ভেটারিনারী মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল টিমগুলো প্রতিটি হাটের পশুর চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরিক্ষা ছাড়াও রোগ নিরাময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করবে। পাশাপাশ এসব পশুর গর্ভাবস্থা পরিক্ষা, বয়স নির্ধারন ছাড়াও ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সেচতনতা ও পরমর্শ প্রদানের পাশাপাশি হাটের সনিটেশন ও বায়োসিকিউরিটি তদারকি করবে।
এদিকে আসন্ন ঈদ উল আজহায় কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, বিশেষকরে ‘প্রেডনিসোলন, ডেক্সামিথাসন, হাইড্রোকরটিসন, কর্টিসোন, ট্রাইসাইসিলোন ও বিটামিথাসন’ জাতীয় ওষুধগুলো রেজিষ্টার্ড ভেটেরিয়ান’র প্রেসক্রিপশন ছাড়া যাতে ব্যবহার না হয়, সে ব্যাপারে সব জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে সতর্ককরে দেয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপতর থেকে এ ব্যপারে সব জেলা প্রশাসনকেও অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আসন্ন ঈদ উল অজহায় বরিশালে যে ৪.৭০ লাখ গবাদি পশু মজুদের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে ষাড়,বলদ, গাভী সহ মেট গরুর সংখ্যা প্রায় সোয়া ৩ লাখ। এছাড়া প্রায় ১০ হাজার মহিষ, প্রায় ১.২০ লাখ ছাগল এবং ১৪ হাজারেরও বেশি ভেড়া রয়েছে।
এমনকি মঞ্জুরিকৃত জনবলের প্রায় ৬০ ভাগ ঘাটতির পরেও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি উপজেলাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবার কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক নজরদারী অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।
প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের মতে, দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৯১ লাখ জনসংখ্যার প্রটিন চাহিদার একটি বড় অংশই পুরন হচ্ছে স্থানীয় গোসত, দুধ ও ডিম থেকে। বরিশাল অঞ্চল ইতোমধ্যে দুধ, গোসত ও ডিমে সয়ম্ভরতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।
বরিশালের বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের মতে, এ অঞ্চলের ৪২টি উপজেলার খামার ও গৃহস্থ্য পর্যায়ে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ ১৯ হাজার গরু ও মহিষ ছাড়াও ১১ লাখ ৬৭ হাজার ছাগল, ১ লাখ ৩ হাজার ৬শ ভেড়া লালন পালন হচ্ছে। এছাড়াও ২ কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার মুরগি, ৮৩ লাখ ৫ হাজার হাঁস এবং ১৪ লাখ ৪০ হাজারের মত কবুতরও লালন পালন হচ্ছে। ফাশাপাশি আরো ১ লাখ ৩০ হাজারের মত অন্যান্য প্রাণি লালন পালন হচ্ছে গৃহস্থ্য ও খামার পর্যায়ে। তবে এ অঞ্চল যুড়ে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের ব্যাপক জনবল সংকটে খামারি সহ গৃহস্থ পর্যায়ে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের সেবা কার্যক্রম প্রায় মুখ থুবড়ে পরার উপ্রক্রম
এসব বিষয়ে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ মাহফুজুল হক জানান, এ অঞ্চলের প্রাণি সম্পদ খাত ক্রম বর্ধনশীল। গত কয়েক বছরের মত আসন্ন ঈদ উল আজাহাতেও এ অঞ্চলে কোরবানির পশুর চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সুস্থ সবল পশু দিয়ে কোরবানি করার লক্ষ্যে প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম রাখছি। যেকোন মানুষ চাহিবা মাত্র আমরা সেবা প্রদনে প্রস্তুত থাকব। তবে জনবল সংকট প্রসঙ্গটি স্বীকার করে পরিচালক জানান, এ লক্ষ্যে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর মন্ত্রনালয়ের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। অচিরেই এসংকট থেকে কিছুটা হলেও উত্তরন ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
Reporter Name 

























