ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা : ডা. মনিরুজ্জামানকে স্ট্যান্ড রিলিজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছাত্র জনতার টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে বরিশালের সিভিল সার্জন পদে প্রশাসনিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সরকারি আদেশ হাতে পাওয়ার আগমুহূর্তেও আজ রবিবার সকাল থেকে আবারও বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় পরিচালকের জারি করা দুটি সরকারি আদেশের কপি পৌঁছে দেওয়া হয়।

যেখানে চিফ সিভিল সার্জন ডাঃ মবিন চলতি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), বরিশালের কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে চিফ সার্জন, বরিশালকে নতুন সিভিল সার্জন যোগদান না করা পর্যন্ত সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ডা. মনিরুজ্জামানের বরিশালে যোগদানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় তাকে এই পদে আনা হয়েছে। তার যোগদান ঠেকাতে ছাত্র-জনতা ধারাবাহিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি, তালাবদ্ধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালন করে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাবেক সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, যেহেতু সিভিল সার্জন অপসারণ দাবী মেনে নিয়ে সরকার এখানে নতুন সিভিল সার্জন না আসা পর্যন্ত চিফ সার্জন ডাঃ মবিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা তাই আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে বলে জানান সোহাগ।

এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আমাদের এই আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সরকারি আদেশ জারির ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৫ ই আগস্ট এর পূর্বে ডাক্তার মনিরুজ্জামান গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে ছিলেন। জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনি আহতদের কোন সহযোগিতা করেননি। এমনকি ৫ ই আগস্ট পরবর্তী আহতদের তালিকা চাওয়া হল তা তৈরিতে গাফিলতি করেন। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নিকটজন। আকস্মিকভাবে তাকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন পদে নিয়োগ দেওয়া হলে সচেতন জনগণ ব্যানারে শুরু হয় আন্দোলন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনে বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা : ডা. মনিরুজ্জামানকে স্ট্যান্ড রিলিজ

Update Time : ০৩:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছাত্র জনতার টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে বরিশালের সিভিল সার্জন পদে প্রশাসনিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সরকারি আদেশ হাতে পাওয়ার আগমুহূর্তেও আজ রবিবার সকাল থেকে আবারও বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় পরিচালকের জারি করা দুটি সরকারি আদেশের কপি পৌঁছে দেওয়া হয়।

যেখানে চিফ সিভিল সার্জন ডাঃ মবিন চলতি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), বরিশালের কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে চিফ সার্জন, বরিশালকে নতুন সিভিল সার্জন যোগদান না করা পর্যন্ত সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ডা. মনিরুজ্জামানের বরিশালে যোগদানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় তাকে এই পদে আনা হয়েছে। তার যোগদান ঠেকাতে ছাত্র-জনতা ধারাবাহিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি, তালাবদ্ধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালন করে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাবেক সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, যেহেতু সিভিল সার্জন অপসারণ দাবী মেনে নিয়ে সরকার এখানে নতুন সিভিল সার্জন না আসা পর্যন্ত চিফ সার্জন ডাঃ মবিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা তাই আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে বলে জানান সোহাগ।

এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আমাদের এই আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সরকারি আদেশ জারির ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৫ ই আগস্ট এর পূর্বে ডাক্তার মনিরুজ্জামান গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে ছিলেন। জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনি আহতদের কোন সহযোগিতা করেননি। এমনকি ৫ ই আগস্ট পরবর্তী আহতদের তালিকা চাওয়া হল তা তৈরিতে গাফিলতি করেন। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নিকটজন। আকস্মিকভাবে তাকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন পদে নিয়োগ দেওয়া হলে সচেতন জনগণ ব্যানারে শুরু হয় আন্দোলন।