ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়মিত অফিস না করায় বিসিসির গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৪১ Time View
৭১

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিয়মিত অফিস না করায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) সেবাপ্রত্যাশীদের ফাইল ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারের ডাকবাংলোয় দিনের পর দিন পরে থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সেবা গ্রহিতাদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পরার পর সিটি কর্পোরেশনের দিকে আরো বেশি অমনোযোগী হয়ে পরেছেন বিসিসির প্রশাসক। এরসাথে যোগ হয়েছে বিএনপিপন্থী সাবেক কাউন্সিলর এবং ঠিকাদারদের উৎপাত। ফলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে একটি বিশৃংখল পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখা, বিদ্যুৎ শাখা, ট্রেড লাইসেন্স শাখা, হাট-বাজার শাখা, কর আদায় শাখা, হিসাব শাখাসহ বিভিন্ন শাখার ফাইল প্রশাসকের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় ১০/১৫ দিন ধরে পরে রয়েছে। প্রশাসকের স্বাক্ষর না হওয়ার কারণে ফাইলগুলো নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শাখা প্রধান বলেন, প্রশাসক স্যারের ডাকবাংলোয় ফাইল জমা দিয়ে আসছি। সিও, সচিব স্যারের স্বাক্ষর হয়েছে কিন্তু প্রশাসক স্যার স্বাক্ষর না করায় সেবা গ্রহিতারা অফিসে আসছে আর কাজ না হওয়ায় আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই বিএনপিপন্থী সাবেক কাউন্সিলর এবং বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

বিসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি পন্থি সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ আকবর, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান টিপুসহ বেশ কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলর প্রায়ই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও প্রকৌশলীদের রুমে গিয়ে ঠিকাদারী কাজ দেওয়ার জন্য চাঁপ সৃষ্টি করেন। এমনকি গত ১৫/২০ বছর আগের ঠিকাদারী বিল উত্তোলনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের সিইও এবং বিভাগীয় কমিশনারকেও নানাভাবে চাঁপ প্রয়োগ করছেন।  অভিযোগ রয়েছেন, ওইসব কাউন্সিলররা প্রায়ই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে সিওকে বিভিন্নধরনের চাঁপ প্রয়োগ করে আসছে। হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশনে তাদের এই আনাগোনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এছাড়াও অন্যসব নেতাকর্মীরা শাখা প্রধানদের কাছে কেউ স্টল নেওয়ার তদবির, কেউ প্লান ছাড়ানোর তদবির, কেউ টিউবওয়েলের জন্য তদবির, কেউ ট্যাক্স কমানোর তদবির, কেউ কবে টেন্ডার হওয়ার সম্ভাবনা তার খবর নিতে ছুটে যাচ্ছেন। কয়েকটি শাখা প্রধানরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ পুরোপুরি  অস্বীকার করে সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ আকবর ও হাবিবুর রহমান টিপু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর সিটি করর্পোরেশনে ঢুকতে পারিনি।

 

দীর্ঘসময়ে আমাদের ব্যক্তিগত ও শোভাকাঙ্খীদের কিছু কাজ আটকে রয়েছে। সেইসব কাজের ব্যাপারে খোঁজ নিতেই বিসিসিতে যাওয়া। সেখানে কারো রুম আটকে হুমকি কিংবা ভয়ভীতির অভিযোগের কোন সত্যতা নেই।

 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারি বলেন, কোন ফাইল পরে থাকেনা। প্রশাসক স্যার তার সময় সুযোগ মতো সবগুলোই স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন।

 

বিএনপিপন্থী সাবেক কাউন্সিলর এবং নেতাকর্মীদের উৎপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, একেকজন একেকটা কাজে আসেন। আমিতো আর কাউকে চলে যেতে বলতে পারিনা। বিসিসির প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিয়মিত অফিস না করায় বিসিসির গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি

Update Time : ০১:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
৭১

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিয়মিত অফিস না করায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) সেবাপ্রত্যাশীদের ফাইল ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারের ডাকবাংলোয় দিনের পর দিন পরে থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সেবা গ্রহিতাদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পরার পর সিটি কর্পোরেশনের দিকে আরো বেশি অমনোযোগী হয়ে পরেছেন বিসিসির প্রশাসক। এরসাথে যোগ হয়েছে বিএনপিপন্থী সাবেক কাউন্সিলর এবং ঠিকাদারদের উৎপাত। ফলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে একটি বিশৃংখল পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখা, বিদ্যুৎ শাখা, ট্রেড লাইসেন্স শাখা, হাট-বাজার শাখা, কর আদায় শাখা, হিসাব শাখাসহ বিভিন্ন শাখার ফাইল প্রশাসকের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় ১০/১৫ দিন ধরে পরে রয়েছে। প্রশাসকের স্বাক্ষর না হওয়ার কারণে ফাইলগুলো নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শাখা প্রধান বলেন, প্রশাসক স্যারের ডাকবাংলোয় ফাইল জমা দিয়ে আসছি। সিও, সচিব স্যারের স্বাক্ষর হয়েছে কিন্তু প্রশাসক স্যার স্বাক্ষর না করায় সেবা গ্রহিতারা অফিসে আসছে আর কাজ না হওয়ায় আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই বিএনপিপন্থী সাবেক কাউন্সিলর এবং বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

বিসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি পন্থি সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ আকবর, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান টিপুসহ বেশ কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলর প্রায়ই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও প্রকৌশলীদের রুমে গিয়ে ঠিকাদারী কাজ দেওয়ার জন্য চাঁপ সৃষ্টি করেন। এমনকি গত ১৫/২০ বছর আগের ঠিকাদারী বিল উত্তোলনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের সিইও এবং বিভাগীয় কমিশনারকেও নানাভাবে চাঁপ প্রয়োগ করছেন।  অভিযোগ রয়েছেন, ওইসব কাউন্সিলররা প্রায়ই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে সিওকে বিভিন্নধরনের চাঁপ প্রয়োগ করে আসছে। হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশনে তাদের এই আনাগোনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এছাড়াও অন্যসব নেতাকর্মীরা শাখা প্রধানদের কাছে কেউ স্টল নেওয়ার তদবির, কেউ প্লান ছাড়ানোর তদবির, কেউ টিউবওয়েলের জন্য তদবির, কেউ ট্যাক্স কমানোর তদবির, কেউ কবে টেন্ডার হওয়ার সম্ভাবনা তার খবর নিতে ছুটে যাচ্ছেন। কয়েকটি শাখা প্রধানরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ পুরোপুরি  অস্বীকার করে সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ আকবর ও হাবিবুর রহমান টিপু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর সিটি করর্পোরেশনে ঢুকতে পারিনি।

 

দীর্ঘসময়ে আমাদের ব্যক্তিগত ও শোভাকাঙ্খীদের কিছু কাজ আটকে রয়েছে। সেইসব কাজের ব্যাপারে খোঁজ নিতেই বিসিসিতে যাওয়া। সেখানে কারো রুম আটকে হুমকি কিংবা ভয়ভীতির অভিযোগের কোন সত্যতা নেই।

 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারি বলেন, কোন ফাইল পরে থাকেনা। প্রশাসক স্যার তার সময় সুযোগ মতো সবগুলোই স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন।

 

বিএনপিপন্থী সাবেক কাউন্সিলর এবং নেতাকর্মীদের উৎপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, একেকজন একেকটা কাজে আসেন। আমিতো আর কাউকে চলে যেতে বলতে পারিনা। বিসিসির প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।