ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ফের গ্যাস সংকট!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈরি আবহাওয়ায় জাহাজ থেকে টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বিঘিœত হওয়ায় দেশে ফের গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সেখানে বিকল মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালটিও পুরোদমে সচল হয়নি। এতে সংকট আরও বেড়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প কারখানায় উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে, গৃহস্থালি থেকে শুরু করে সিএনজি টার্মিনাল সর্বত্রই গ্যাসের চাপ কমে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতেই কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে।

 

এক্সিলারেট টার্মিনালে অগ্নিকা-ের ঘটনায় টানা ১৭ দিন ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। গত বৃহস্পতিবার টার্মিনালটির একাংশ চালু হলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। তখন বলা হয়েছিল ১০ আগস্টের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করা যাবে। কিন্তু সেটি চালু করার আগে এখন বিরূপ আবহাওয়ার কবলে পড়েছে এলএনজি স্টেশন। এর ফলে গ্যাস সংকট সামনে আরো বাড়তে পারে।

 

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একজন কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার জন্য আমদানি করে আসা জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এতে ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি সরবরাহ কমে গেছে। সমুদ্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আজ বুধবার থেকে সরবরাহ বাড়তে পারে। এলএনজির কার্গো (জাহাজ) পাশেই আছে। বৈরী আবহাওয়ার জন্য টার্মিনালে নেওয়া যায়নি। আবহাওয়া কিছুটা উন্নতি হলে জাহাজ ভেড়ানো যাবে। আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।

 

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে বৃহস্পতিবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার জন্য প্রস্তুত হলে তা পরীক্ষা করতে বর্তমানে চালু বয়লারটি বন্ধ করতে হবে। ওই সময় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। অন্তত ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তাই ছুটির দিনে গ্যাসের চাহিদা কম থাকার সময় এ কাজ করতে চায় পেট্রোবাংলা। এক্সিলারেট থেকে বর্তমানে দিনে গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করছে।

 

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর টানা চার দিন সক্ষমতার বেশি এলএনজি সরবরাহ করেছে সামিটের টার্মিনাল। দিনে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করেছে তারা। এর পর থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে দিনে গ্যাসের সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট পার হয়।

 

এলএনজি নিয়ে সোমবার একটি নতুন জাহাজ এসেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজটি থেকে এলএনজি নিতে পারেনি টার্মিনাল। তাই সামিটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে ২৫ কোটি ঘনফুট। এতে করে দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। এতে চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোকে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ফের গ্যাস সংকট!

Update Time : ০৫:০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈরি আবহাওয়ায় জাহাজ থেকে টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বিঘিœত হওয়ায় দেশে ফের গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সেখানে বিকল মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালটিও পুরোদমে সচল হয়নি। এতে সংকট আরও বেড়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প কারখানায় উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে, গৃহস্থালি থেকে শুরু করে সিএনজি টার্মিনাল সর্বত্রই গ্যাসের চাপ কমে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতেই কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে।

 

এক্সিলারেট টার্মিনালে অগ্নিকা-ের ঘটনায় টানা ১৭ দিন ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। গত বৃহস্পতিবার টার্মিনালটির একাংশ চালু হলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। তখন বলা হয়েছিল ১০ আগস্টের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করা যাবে। কিন্তু সেটি চালু করার আগে এখন বিরূপ আবহাওয়ার কবলে পড়েছে এলএনজি স্টেশন। এর ফলে গ্যাস সংকট সামনে আরো বাড়তে পারে।

 

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একজন কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার জন্য আমদানি করে আসা জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এতে ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি সরবরাহ কমে গেছে। সমুদ্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আজ বুধবার থেকে সরবরাহ বাড়তে পারে। এলএনজির কার্গো (জাহাজ) পাশেই আছে। বৈরী আবহাওয়ার জন্য টার্মিনালে নেওয়া যায়নি। আবহাওয়া কিছুটা উন্নতি হলে জাহাজ ভেড়ানো যাবে। আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।

 

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে বৃহস্পতিবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার জন্য প্রস্তুত হলে তা পরীক্ষা করতে বর্তমানে চালু বয়লারটি বন্ধ করতে হবে। ওই সময় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। অন্তত ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তাই ছুটির দিনে গ্যাসের চাহিদা কম থাকার সময় এ কাজ করতে চায় পেট্রোবাংলা। এক্সিলারেট থেকে বর্তমানে দিনে গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করছে।

 

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর টানা চার দিন সক্ষমতার বেশি এলএনজি সরবরাহ করেছে সামিটের টার্মিনাল। দিনে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করেছে তারা। এর পর থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে দিনে গ্যাসের সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট পার হয়।

 

এলএনজি নিয়ে সোমবার একটি নতুন জাহাজ এসেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজটি থেকে এলএনজি নিতে পারেনি টার্মিনাল। তাই সামিটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে ২৫ কোটি ঘনফুট। এতে করে দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। এতে চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোকে।