ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ শিক্ষকের ১১ শিক্ষার্থীর স্কুলের পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নাম জানেন না প্রধান শিক্ষক!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View
রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি: পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী  (নেছারাবাদ) উপজেলারউ মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। অথচ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল প্রায় একই। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন মাত্র একজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে পাঁচ-ছয়জনের বেশি নয়। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময়েও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন।
তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়।স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কেন পাস করলেন? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা, পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে।
গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল। পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।’ ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলে তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’ স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত করা ও পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও।
দীর্ঘদিনের এই দুরবস্থার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ১২ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা, খুড়িয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা

১১ শিক্ষকের ১১ শিক্ষার্থীর স্কুলের পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নাম জানেন না প্রধান শিক্ষক!

Update Time : ১১:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি: পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী  (নেছারাবাদ) উপজেলারউ মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। অথচ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল প্রায় একই। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন মাত্র একজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে পাঁচ-ছয়জনের বেশি নয়। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময়েও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন।
তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়।স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কেন পাস করলেন? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা, পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে।
গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল। পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।’ ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলে তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’ স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত করা ও পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও।
দীর্ঘদিনের এই দুরবস্থার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।