ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন করালেন কলেজের শিক্ষার্থীরা : রাঙ্গাবালীতে শিক্ষক বরখাস্ত, তোলপাড়

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততার অভিযোগে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো উত্তরপত্র কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে থাকার অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ঘটনার পর অভিযুক্ত পরীক্ষক, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে বসে চারজন তরুণকে কয়েকটি উত্তরপত্র নিয়ে কাজ করতে এবং খাতায় লেখালেখি করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে থাকা চারজনই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (বিএমটি) শাখা থেকে গত ৪ জুলাই জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) ৩৫০টি উত্তরপত্র প্রতিষ্ঠানটির বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও পরীক্ষক মো. রিপন হোসেনের কাছে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষক কোড ১৪০৫-এর আওতায় থাকা এসব উত্তরপত্র আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে মূল্যায়ন শেষে বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।

 

‎অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক নিজে সব উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 

‎প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর বলেন, “পরীক্ষক নিজেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে উত্তরপত্রের মলাটে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণের কাজে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছিল। ভিডিওটি আমিও দেখেছি।

 

‎অভিযুক্ত পরীক্ষক মো. রিপন হোসেন বলেন, “আমার খাতা দেখা শেষ হয়েছিল। শুধু উপরের নম্বরের ঘর পূরণের কাজ চলছিল। আমি বাইরে যাওয়ার সুযোগে আমার কাছে পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী অতিউৎসাহী হয়ে খাতাগুলো ধরেছিল। কে বা কারা ভিডিও করেছে জানি না। আমার দায়িত্বে কিছুটা অবহেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকব।

 

তবে ভিডিওতে উত্তরপত্র হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির দৃশ্য দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী, কেবল মনোনীত পরীক্ষকই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারবেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

 

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতো সংবেদনশীল কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হলে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

‎উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন, “এটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্র, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নয়। যতটুকু জেনেছি, পরীক্ষকই খাতা মূল্যায়ন করেছেন। তবে কোনো এক ফাঁকে শিক্ষার্থীরা খাতাগুলো উল্টে দেখেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

রাঙ্গাবালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, ঘটনার পর সোমবার প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও পরীক্ষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

আদেশে বলা হয়েছে, এইচএসসি (বিএমটি)-২০২৬ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ এবং অনলাইন সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকেও অবহিত করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, ডিলারকে অর্থদণ্ড

এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন করালেন কলেজের শিক্ষার্থীরা : রাঙ্গাবালীতে শিক্ষক বরখাস্ত, তোলপাড়

Update Time : ১২:৪২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততার অভিযোগে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো উত্তরপত্র কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে থাকার অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ঘটনার পর অভিযুক্ত পরীক্ষক, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে বসে চারজন তরুণকে কয়েকটি উত্তরপত্র নিয়ে কাজ করতে এবং খাতায় লেখালেখি করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে থাকা চারজনই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (বিএমটি) শাখা থেকে গত ৪ জুলাই জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) ৩৫০টি উত্তরপত্র প্রতিষ্ঠানটির বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও পরীক্ষক মো. রিপন হোসেনের কাছে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষক কোড ১৪০৫-এর আওতায় থাকা এসব উত্তরপত্র আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে মূল্যায়ন শেষে বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।

 

‎অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক নিজে সব উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 

‎প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর বলেন, “পরীক্ষক নিজেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে উত্তরপত্রের মলাটে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণের কাজে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছিল। ভিডিওটি আমিও দেখেছি।

 

‎অভিযুক্ত পরীক্ষক মো. রিপন হোসেন বলেন, “আমার খাতা দেখা শেষ হয়েছিল। শুধু উপরের নম্বরের ঘর পূরণের কাজ চলছিল। আমি বাইরে যাওয়ার সুযোগে আমার কাছে পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী অতিউৎসাহী হয়ে খাতাগুলো ধরেছিল। কে বা কারা ভিডিও করেছে জানি না। আমার দায়িত্বে কিছুটা অবহেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকব।

 

তবে ভিডিওতে উত্তরপত্র হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির দৃশ্য দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী, কেবল মনোনীত পরীক্ষকই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পারবেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

 

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতো সংবেদনশীল কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হলে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

‎উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন, “এটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্র, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নয়। যতটুকু জেনেছি, পরীক্ষকই খাতা মূল্যায়ন করেছেন। তবে কোনো এক ফাঁকে শিক্ষার্থীরা খাতাগুলো উল্টে দেখেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

রাঙ্গাবালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, ঘটনার পর সোমবার প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও পরীক্ষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

আদেশে বলা হয়েছে, এইচএসসি (বিএমটি)-২০২৬ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ এবং অনলাইন সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকেও অবহিত করা হয়েছে।