ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রী সুমিসহ দুইজন গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নগরীর পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-বরিশাল মহানগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু সিকদার (৫১) ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য হোসনেয়ারা সুমি (৪৬)।

 

রবিবার দিবাগত রাতে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জুন দিবাগত গভীর রাতে কোতয়ালী মডেল থানা ও বন্দর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে বন্দর থানার টুমচর এলাকার নিজ বাসা থেকে বাচ্চু সিকদারকে এবং কোতয়ালী মডেল থানাধীন চাঁদমারী মাদ্রাসা গলি এলাকার নিজ বাসা থেকে নারী পুলিশের সহায়তায় হোসনেয়ারা সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে গ্রেপ্তারকৃতরা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অস্ত্র ও অর্থের জোগানদাতা এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে জড়িত ছিলেন। ২৪ এর ২৬ জুলাই বিকেলে কোতয়ালী মডেল থানাধীন হাতেম আলী কলেজের পশ্চিম পাশে নবগ্রাম রোডে খ্রীষ্টান মিশনারী দাতব্য সংস্থার সামনের সড়কে ছাত্র-জনতার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়।

 

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামদা, চাপাতি, লোহার রড, পাইপগান, পিস্তল ও ককটেলসহ মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পরে। হামলায় প্রায় আট থেকে এক হাজার ছাত্র-জনতা গুরুত্বর আহত হন। ঘটনার দিন মামলার বাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে শর্টগান ও পাইপগান দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করা হলে বেশ কিছু রাবারের গুলি ও ছররা গুলি বাদির শরীরে বিদ্ধ হয়।

 

এ সময় কতিপয় আসামি বাদীকে চেঁপে ধরে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে কুপিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়াও আসামিরা পেট্রোল ঢেলে স্থানীয় দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

 

কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদ্বয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ বিধি মোতাবেক আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ জানিয়েছেন, মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেন্দিগঞ্জে মসজিদে নামাজরত সৌদি প্রবাসী ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করল বড় ভাই

বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রী সুমিসহ দুইজন গ্রেপ্তার

Update Time : ০৪:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নগরীর পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-বরিশাল মহানগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু সিকদার (৫১) ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য হোসনেয়ারা সুমি (৪৬)।

 

রবিবার দিবাগত রাতে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জুন দিবাগত গভীর রাতে কোতয়ালী মডেল থানা ও বন্দর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে বন্দর থানার টুমচর এলাকার নিজ বাসা থেকে বাচ্চু সিকদারকে এবং কোতয়ালী মডেল থানাধীন চাঁদমারী মাদ্রাসা গলি এলাকার নিজ বাসা থেকে নারী পুলিশের সহায়তায় হোসনেয়ারা সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে গ্রেপ্তারকৃতরা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অস্ত্র ও অর্থের জোগানদাতা এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে জড়িত ছিলেন। ২৪ এর ২৬ জুলাই বিকেলে কোতয়ালী মডেল থানাধীন হাতেম আলী কলেজের পশ্চিম পাশে নবগ্রাম রোডে খ্রীষ্টান মিশনারী দাতব্য সংস্থার সামনের সড়কে ছাত্র-জনতার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়।

 

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামদা, চাপাতি, লোহার রড, পাইপগান, পিস্তল ও ককটেলসহ মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পরে। হামলায় প্রায় আট থেকে এক হাজার ছাত্র-জনতা গুরুত্বর আহত হন। ঘটনার দিন মামলার বাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে শর্টগান ও পাইপগান দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করা হলে বেশ কিছু রাবারের গুলি ও ছররা গুলি বাদির শরীরে বিদ্ধ হয়।

 

এ সময় কতিপয় আসামি বাদীকে চেঁপে ধরে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে কুপিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়াও আসামিরা পেট্রোল ঢেলে স্থানীয় দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

 

কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদ্বয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ বিধি মোতাবেক আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ জানিয়েছেন, মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।