
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝালকাঠির রাজাপুরে একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি।
গত বুধবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নির্ধারিত নকশা ও পরিমাপের চেয়ে কাজের ব্যাপক অসঙ্গতি দেখতে পান। এ সময় সরকারি প্রকৌশলীরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি পুনঃখননে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ইউএনও আঙ্গারিয়া এলাকায় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে ফিতা দিয়ে মেপে দেখা যায়, নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থের পরিবর্তে খালের বিভিন্ন অংশে কোথাও ২৬ ফুট আবার কোথাও ২৮ ফুট কাজ করা হয়েছে।
সুবিধাভোগী কৃষকদের অভিযোগ, খালটির মাঝখান থেকে সামান্য পলি তুলে নালার মতো করে রাখা হয়েছে। অথচ খননকাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আঙ্গারিয়া এলাকার এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিয়ম মেনে খাল খনন হলে আমরা সেচ সুবিধা পেতাম। এখন গাছও হারিয়েছি, আবার সরকারি টাকা খরচ করেও কোনো উপকার পাচ্ছি না।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান, কাজে যেসব ত্রুটি পাওয়া গেছে, তা সংশোধন না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও রিফাত আরা মৌরি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরেজমিনে পরিমাপে ৩০ ফুট প্রস্থ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, রাজাপুর উপজেলায় মোট ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি খালের প্রায় ৫ কিলোমিটার খননেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
Reporter Name 




















