ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেমিক্যাল রঙের বিকল্প আবিষ্কার বরিশালে, ফলের রসে রঙিন হবে খাবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

নিউজ ডেস্ক : কৃত্রিম কেমিক্যাল রঙের পরিবর্তে দেশীয় ফল, শাকসবজি ও ফুলের রস ব্যবহার করে খাবারে প্রাকৃতিক রং তৈরির নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এরই মধ্যে এ পদ্ধতিতে পিঠা, লাড্ডু, কেক ও ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করে সফল হয়েছেন এক নারী উদ্যোক্তা।

বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের কাছে ফলের রস থেকে তৈরি প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে প্রস্তুত করা পিঠা, লাড্ডু ও কেক প্রদর্শন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) এস. এম. মাহবুব আলম এবং মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়ন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ও জে-টেস্টি নেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে জান্নাতুল ফেরদৌসকে দেশীয় বিভিন্ন ফল, শাকসবজি ও ফুল থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। খুলনায় তিন দিন এবং ঢাকায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণসহ মোট ছয় দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তিনি সফলভাবে এই পদ্ধতি আয়ত্ত করেন।

উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ড্রাগন ফল, অপরাজিতা ফুল, গাজর, জবা ফুল, বিটরুট, পালং শাক ও পুঁই শাকসহ বিভিন্ন দেশীয় উপকরণ থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি করা হয়েছে। এসব রং ব্যবহার করে পিঠা, লাড্ডু, কেক ও ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিশুদের খাবারে কৃত্রিম রঙের পরিবর্তে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা গেলে তা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে ফল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি রং ব্যবহার করে প্রস্তুত করা খাদ্যপণ্য ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা হলে সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, “কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যদি এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়, তাহলে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভালো বাজার তৈরি হলে দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নিরাপদ খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”

বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) এস. এম. মাহবুব আলম বলেন, প্রতিবছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম খাদ্য রং আমদানি করতে হয়। দেশীয় ফল ও কৃষিপণ্য থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি করে খাবারে ব্যবহার করা গেলে একদিকে ভোক্তারা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাবেন, অন্যদিকে বিদেশ থেকে রং আমদানিতে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে।
তিনি দেশের শিক্ষিত ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, দেশীয় ফল, শাকসবজি ও ফুল থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি করে খাবারে ব্যবহার করার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। কৃত্রিম রঙের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের খাবারে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার বাড়ানো গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশীয় উপকরণ থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরির এই উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমিক্যাল রঙের বিকল্প আবিষ্কার বরিশালে, ফলের রসে রঙিন হবে খাবার

Update Time : ১১:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক : কৃত্রিম কেমিক্যাল রঙের পরিবর্তে দেশীয় ফল, শাকসবজি ও ফুলের রস ব্যবহার করে খাবারে প্রাকৃতিক রং তৈরির নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এরই মধ্যে এ পদ্ধতিতে পিঠা, লাড্ডু, কেক ও ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করে সফল হয়েছেন এক নারী উদ্যোক্তা।

বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের কাছে ফলের রস থেকে তৈরি প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে প্রস্তুত করা পিঠা, লাড্ডু ও কেক প্রদর্শন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) এস. এম. মাহবুব আলম এবং মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়ন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ও জে-টেস্টি নেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে জান্নাতুল ফেরদৌসকে দেশীয় বিভিন্ন ফল, শাকসবজি ও ফুল থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। খুলনায় তিন দিন এবং ঢাকায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণসহ মোট ছয় দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তিনি সফলভাবে এই পদ্ধতি আয়ত্ত করেন।

উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ড্রাগন ফল, অপরাজিতা ফুল, গাজর, জবা ফুল, বিটরুট, পালং শাক ও পুঁই শাকসহ বিভিন্ন দেশীয় উপকরণ থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি করা হয়েছে। এসব রং ব্যবহার করে পিঠা, লাড্ডু, কেক ও ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিশুদের খাবারে কৃত্রিম রঙের পরিবর্তে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা গেলে তা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে ফল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি রং ব্যবহার করে প্রস্তুত করা খাদ্যপণ্য ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা হলে সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, “কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যদি এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়, তাহলে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভালো বাজার তৈরি হলে দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নিরাপদ খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”

বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) এস. এম. মাহবুব আলম বলেন, প্রতিবছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম খাদ্য রং আমদানি করতে হয়। দেশীয় ফল ও কৃষিপণ্য থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি করে খাবারে ব্যবহার করা গেলে একদিকে ভোক্তারা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাবেন, অন্যদিকে বিদেশ থেকে রং আমদানিতে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে।
তিনি দেশের শিক্ষিত ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, দেশীয় ফল, শাকসবজি ও ফুল থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি করে খাবারে ব্যবহার করার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। কৃত্রিম রঙের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের খাবারে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার বাড়ানো গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশীয় উপকরণ থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরির এই উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।