
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে আগামী ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের জারিকৃত এই নিষেধাজ্ঞা টানা ৬১ দিন ভোলার দুই প্রধান নদীর মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কার্যকর থাকবে।
মৎস্য বিভাগের এই নির্দেশনার ফলে নদীর নির্ধারিত অভয়াশ্রমগুলোতে জাল ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রাকৃতিকভাবে ইলিশের পোনা বা জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ করে দিতে এবং অন্যান্য মাছের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছরই এই নির্দিষ্ট সময়ে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, এই দুই মাস মাছের অভয়াশ্রমগুলোতে পোনা ইলিশের বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম ছাড়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে মৎস্য বিভাগ কড়া নজরদারি চালাবে এবং কেউ আইন অমান্য করে মাছ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে দীর্ঘ দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ভোলার উপকূলীয় জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব এবং পরিবার পরিচালনার ব্যয়ভার নিয়ে অনেক জেলেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
আঃ রহিম, ইলিয়াস ও মাইনুদ্দিনের মতো ভোলার ক্ষুদ্র জেলেরা অভিযোগ করেছেন, গত মৌসুমেও নদীতে ইলিশের তীব্র সংকট থাকায় তাদের আয় আশানুরূপ হয়নি। এর ওপর নতুন করে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আসায় সংসারের খরচ এবং কিস্তি পরিশোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অনেক জেলেই এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল তৈরি করেছেন। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন ভোলার ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল সঠিক সময়ে প্রকৃত জেলেদের হাতে পৌঁছানো নিয়েও অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
মৎস্য আড়তদারদের মতে, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় স্থানীয় মৎস্যঘাট ও আড়তগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরো জেলার অর্থনীতির ওপর। ভোলায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার নিবন্ধিত এবং আরও প্রায় দুই লাখ অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যাদের জীবন এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে।
এনজিও কিস্তির বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা জানান, এ ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দ্রুত চাল বিতরণ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ ও মৎস্যজীবী সংগঠনগুলো।
Reporter Name 



















