ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোরহানউদ্দিনে আইন অমান্য করে ফসলি জমির মাটি বিক্রি : হুমকিতে কৃষি পরিবেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ৭৬ Time View
১১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন মৌজার ৮ নং ওয়ার্ডে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কৃষি জমি থেকে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে রণজিৎ চন্দ্র দে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।শুধু ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রিই নয়,আদালতের আদেশ কার্যকর করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপরও তারা চড়াও হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মুলাইপত্তন মৌজার এসএ ৫৫৫ খতিয়ানের কৃষি জমিটি দীর্ঘদিন ধরে হাছনাইনের দখলে ছিল। রণজিৎ চন্দ্র দে ও তার লোকজন জোরপূর্বক লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার চেষ্টা করলে আদালত উক্ত জমিতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী হাছনাইন এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।তিনি ড্রেজার চালকসহ সংশ্লিষ্টদের নথিপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও রণজিৎ পক্ষ তা তোয়াক্কা করেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি পুলিশ সহ একটি টিম সঙ্গীও ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নির্দেশ পড়ে শোনালে অভিযুক্তরা আইন ও আদালতের তোয়াক্কা করে না বলেন এবং পুলিশের সাথে খারাপ আচরণ করেন ও চড়াও হন।১৪৪/১৪৫ ভঙ্গ করে তারা জমিতে প্রবেশ করা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার এই বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, প্রভাবশালী মহলের মদদে রণজিৎ বাহিনী প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী ভাড়া করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের কৃষি জমি সুরক্ষা ও বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, কৃষি জমির মাটি কাটা বা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ প্রশাসনের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও এখানে আইন অমান্য করে মাটি লুট করছে।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা যে আচরণ করেছে তা কাম্য নয়। আদালতের সুনির্দিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি দেখা যায়, তারা বলেন, ফসলি জমিটি নিয়ে প্রায় ৭/৮ মাস ধরে ঝামেলা চলছে, রনজিৎ চন্দ্র দে বিরোধী ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি অন্যথায় বিক্রি করছে, অথচ থানা থেকে একাধিক বার প্রশাসন এসেও ড্রেজার মেশিন বন্ধ করতে পারেনাই। প্রশাসন আসলে তারা ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে দূরে সরে থাকে, ঘটনাস্থল থেকে প্রশাসন সরলে পুনরায় ড্রেজার মেশিন চালু করে। এযেন এক চোখ পোলা নির মতো,দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার জব্দ করার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী হাছনাইন বলেন, ​”আদালত আগামী ১৬ই মার্চ উভয় পক্ষকে তলব করেছেন। কিন্তু বিবাদী পক্ষের মূল উদ্দেশ্য হলো আদালতের ধার্যকৃত সময়ের সুযোগ নিয়ে এর আগেই কয়েক লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি করে দেওয়া। এতে আমার ফসলি জমির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

 

বিষয়টি আমি আদালতকে অবহিত করলে মাননীয় আদালত আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে আইনগত সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এখন প্রশাসন দ্রুত এই অবৈধ ড্রেজার বন্ধ না করলে আমার জমিটি মরুভূমিতে পরিণত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বেগম জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত

বোরহানউদ্দিনে আইন অমান্য করে ফসলি জমির মাটি বিক্রি : হুমকিতে কৃষি পরিবেশ

Update Time : ০৩:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
১১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন মৌজার ৮ নং ওয়ার্ডে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কৃষি জমি থেকে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে রণজিৎ চন্দ্র দে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।শুধু ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রিই নয়,আদালতের আদেশ কার্যকর করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপরও তারা চড়াও হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মুলাইপত্তন মৌজার এসএ ৫৫৫ খতিয়ানের কৃষি জমিটি দীর্ঘদিন ধরে হাছনাইনের দখলে ছিল। রণজিৎ চন্দ্র দে ও তার লোকজন জোরপূর্বক লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার চেষ্টা করলে আদালত উক্ত জমিতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী হাছনাইন এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।তিনি ড্রেজার চালকসহ সংশ্লিষ্টদের নথিপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও রণজিৎ পক্ষ তা তোয়াক্কা করেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি পুলিশ সহ একটি টিম সঙ্গীও ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নির্দেশ পড়ে শোনালে অভিযুক্তরা আইন ও আদালতের তোয়াক্কা করে না বলেন এবং পুলিশের সাথে খারাপ আচরণ করেন ও চড়াও হন।১৪৪/১৪৫ ভঙ্গ করে তারা জমিতে প্রবেশ করা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার এই বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, প্রভাবশালী মহলের মদদে রণজিৎ বাহিনী প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী ভাড়া করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের কৃষি জমি সুরক্ষা ও বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, কৃষি জমির মাটি কাটা বা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ প্রশাসনের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও এখানে আইন অমান্য করে মাটি লুট করছে।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা যে আচরণ করেছে তা কাম্য নয়। আদালতের সুনির্দিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি দেখা যায়, তারা বলেন, ফসলি জমিটি নিয়ে প্রায় ৭/৮ মাস ধরে ঝামেলা চলছে, রনজিৎ চন্দ্র দে বিরোধী ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি অন্যথায় বিক্রি করছে, অথচ থানা থেকে একাধিক বার প্রশাসন এসেও ড্রেজার মেশিন বন্ধ করতে পারেনাই। প্রশাসন আসলে তারা ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে দূরে সরে থাকে, ঘটনাস্থল থেকে প্রশাসন সরলে পুনরায় ড্রেজার মেশিন চালু করে। এযেন এক চোখ পোলা নির মতো,দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার জব্দ করার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী হাছনাইন বলেন, ​”আদালত আগামী ১৬ই মার্চ উভয় পক্ষকে তলব করেছেন। কিন্তু বিবাদী পক্ষের মূল উদ্দেশ্য হলো আদালতের ধার্যকৃত সময়ের সুযোগ নিয়ে এর আগেই কয়েক লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি করে দেওয়া। এতে আমার ফসলি জমির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

 

বিষয়টি আমি আদালতকে অবহিত করলে মাননীয় আদালত আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে আইনগত সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এখন প্রশাসন দ্রুত এই অবৈধ ড্রেজার বন্ধ না করলে আমার জমিটি মরুভূমিতে পরিণত হবে।