ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় অভিমান কেড়ে নিল প্রাণ : প্রতিবেশীর অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রের আত্মহনন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ৪১ Time View
৮১
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া পৌর শহরে প্রতিবেশীর গালমন্দ ও বাবা–মায়ের সঙ্গে অভিমান করে নাহিদ (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ  সংলগ্ন ‘লুৎফা ভিলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাহিদ  ওই এলাকার লুৎফা ভিলার ভাড়াটিয়া ও একটি এনজিওর সাবেক কর্মী মো. জাকির হোসেনের ছেলে এবং বানারীপাড়া সরকারী ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পার্শ্ববর্তী এক ভাড়াটিয়ার জানালায় ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেই ভাড়াটিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভবন মালিক মজিবর রহমান বুধবার (৪ মার্চ)) রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশী নাহিদের বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষন পূর্বে একই বিষয় নিয়ে মজিবর রহমানের পুত্রবধু পায়েলও স্কুল শিক্ষার্থী নাহিদ ও তার মাকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা ও মা নাহিদকে বকাঝকা এবং বাবা তাকে বেদম মারধর করেন। এতে অপমানবোধ ও অভিমান করে নাহিদ বাসার একটি কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখার হুকের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। নাহিদের মৃত্যুতে পরিবারে বইছে শোকের মাতম এবং এলাকায়  শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নাহিদের বিক্ষুদ্ধ সহপাঠীরা অভিযুক্ত ভবন মালিক মজিবর রহমানের বাসায় ইটপাটকেল মেরে জানালার গ্লাস  ভাংচুর করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এদিন (বৃহস্পতিবার) বেলা ১২টার দিকে দাফনের জন্য  নাহিদের মরদেহ তাদের  গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বরিশাল জেলা প্রশাসকের নিকট ছেলের মরদেহের পোস্টমর্টেম না করার জন্য লিখিত আবেদন করেন।
বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে আত্মহত্যার এ বিষয়টিকে পুঁজি করে একটি মহল অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পায়তারা করছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, বানারীপাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু-কিশোর। গত মাসে পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মুগ্ধ সাহা নামের এক কিশোর স্কুল শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মুগ্ধ সাহা একই বিদ্যালয়ে নাহিদের সহপাঠী ছিল। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পারিবারিক ও মানসিক বিষয়গুলোতে আরও সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা প্রয়োজন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বানারীপাড়ায় অভিমান কেড়ে নিল প্রাণ : প্রতিবেশীর অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রের আত্মহনন

Update Time : ০৪:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
৮১
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া পৌর শহরে প্রতিবেশীর গালমন্দ ও বাবা–মায়ের সঙ্গে অভিমান করে নাহিদ (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ  সংলগ্ন ‘লুৎফা ভিলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাহিদ  ওই এলাকার লুৎফা ভিলার ভাড়াটিয়া ও একটি এনজিওর সাবেক কর্মী মো. জাকির হোসেনের ছেলে এবং বানারীপাড়া সরকারী ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পার্শ্ববর্তী এক ভাড়াটিয়ার জানালায় ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেই ভাড়াটিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভবন মালিক মজিবর রহমান বুধবার (৪ মার্চ)) রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশী নাহিদের বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষন পূর্বে একই বিষয় নিয়ে মজিবর রহমানের পুত্রবধু পায়েলও স্কুল শিক্ষার্থী নাহিদ ও তার মাকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা ও মা নাহিদকে বকাঝকা এবং বাবা তাকে বেদম মারধর করেন। এতে অপমানবোধ ও অভিমান করে নাহিদ বাসার একটি কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখার হুকের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। নাহিদের মৃত্যুতে পরিবারে বইছে শোকের মাতম এবং এলাকায়  শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নাহিদের বিক্ষুদ্ধ সহপাঠীরা অভিযুক্ত ভবন মালিক মজিবর রহমানের বাসায় ইটপাটকেল মেরে জানালার গ্লাস  ভাংচুর করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এদিন (বৃহস্পতিবার) বেলা ১২টার দিকে দাফনের জন্য  নাহিদের মরদেহ তাদের  গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বরিশাল জেলা প্রশাসকের নিকট ছেলের মরদেহের পোস্টমর্টেম না করার জন্য লিখিত আবেদন করেন।
বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে আত্মহত্যার এ বিষয়টিকে পুঁজি করে একটি মহল অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পায়তারা করছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, বানারীপাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু-কিশোর। গত মাসে পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মুগ্ধ সাহা নামের এক কিশোর স্কুল শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মুগ্ধ সাহা একই বিদ্যালয়ে নাহিদের সহপাঠী ছিল। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পারিবারিক ও মানসিক বিষয়গুলোতে আরও সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা প্রয়োজন।