ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বনের কাঠে সাবার ভোলার পরিবেশ: নেপথ্যে প্রশাসনের যোগসাজশ!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ১৭৩ Time View
৩১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ইট। পরিবেশ আইনকে উপেক্ষা করে এভাবে ইট পোড়ানোর ফলে ধ্বংস হচ্ছে সবুজ বনায়ন, বাড়ছে ভয়াবহ বায়ুদূষণ। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

ভোলা জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ১২০টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি ভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হয়। বাকি অধিকাংশ ভাটায় প্রকাশ্যে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। অনেক ভাটারই বৈধ লাইসেন্স নেই, আবার অনেকেই লাইসেন্স নবায়ন করেননি।

 

সম্প্রতি কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, ভাটার ভেতরে হাজার হাজার মণ কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার ভাটার ভেতরেই স-মিল বসিয়ে কাঠ কেটে তা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ভোলা সদর উপজেলার, বাংলাবাজার বাঘমারায় সাবাব ব্রিকস, মায়ের দোয়া ব্রিকস এবং লালমোহন উপজেলার গজারিয়া এলাকায় শাপলা ইটভাটায় প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করতে দেখা গেছে।

শুধু এসব ইট ভাটাই নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় থাকা অসংখ্য ইটভাটায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে কাঠ পোড়ানোর ফলে ভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমির ফসল, শুকিয়ে যাচ্ছে গাছপালা আর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় এলাকায় শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বিভিন্ন অ্যালার্জিজনিত রোগ বাড়ছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ভাটার মালিকরা নির্বিঘ্নেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোঃ তোতা মিয়া, ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম না মানায় চলতি বছরে ১৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩২লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডাঃ মোঃ মনিরুল ইসলাম সিভিল সার্জন, ভোলা তিনি বলেন, ইটভাটার কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। এতে মানুষের ফুসফুসে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথাসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

 

স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে। না হলে ধ্বংসের মুখে পড়বে পরিবেশ, আর ঝুঁকিতে থাকবে সাধারণ মানুষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বনের কাঠে সাবার ভোলার পরিবেশ: নেপথ্যে প্রশাসনের যোগসাজশ!

Update Time : ০৬:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
৩১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ইট। পরিবেশ আইনকে উপেক্ষা করে এভাবে ইট পোড়ানোর ফলে ধ্বংস হচ্ছে সবুজ বনায়ন, বাড়ছে ভয়াবহ বায়ুদূষণ। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

ভোলা জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ১২০টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি ভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হয়। বাকি অধিকাংশ ভাটায় প্রকাশ্যে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। অনেক ভাটারই বৈধ লাইসেন্স নেই, আবার অনেকেই লাইসেন্স নবায়ন করেননি।

 

সম্প্রতি কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, ভাটার ভেতরে হাজার হাজার মণ কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার ভাটার ভেতরেই স-মিল বসিয়ে কাঠ কেটে তা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ভোলা সদর উপজেলার, বাংলাবাজার বাঘমারায় সাবাব ব্রিকস, মায়ের দোয়া ব্রিকস এবং লালমোহন উপজেলার গজারিয়া এলাকায় শাপলা ইটভাটায় প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করতে দেখা গেছে।

শুধু এসব ইট ভাটাই নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় থাকা অসংখ্য ইটভাটায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে কাঠ পোড়ানোর ফলে ভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমির ফসল, শুকিয়ে যাচ্ছে গাছপালা আর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় এলাকায় শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বিভিন্ন অ্যালার্জিজনিত রোগ বাড়ছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ভাটার মালিকরা নির্বিঘ্নেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোঃ তোতা মিয়া, ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম না মানায় চলতি বছরে ১৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩২লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডাঃ মোঃ মনিরুল ইসলাম সিভিল সার্জন, ভোলা তিনি বলেন, ইটভাটার কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। এতে মানুষের ফুসফুসে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথাসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

 

স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে। না হলে ধ্বংসের মুখে পড়বে পরিবেশ, আর ঝুঁকিতে থাকবে সাধারণ মানুষ।