ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন কোটি টাকার বিদ্যুৎ খায় অটোরিকশা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

অনলাইন ডেস্ক : বরিশাল নগরীতে সাধারণ মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান বাহন এখন ব্যাটারিচালিত হলুদ অটোরিকশা ও রিকশা। তবে এসব যান চালাতে নেই নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা কার্যকর অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা। ফলে দিন দিন বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। একই সঙ্গে এসব যান চার্জ দিতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হওয়ায় নগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। নগরীতে ঠিক কতটি ব্যাটারিচালিত অটো ও রিকশা চলছে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই কোনো দপ্তরের কাছে। বরিশাল মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সম্ভাব্য হিসাবে, নগরে হলুদ অটোরিকশা রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রায় ৪০ হাজার। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন ৭ হাজার ৬১০টি হলুদ অটোরিকশার অনুমোদন দিয়েছিল। তবে এসব অনুমোদনের মেয়াদও শেষ হয়েছে। নতুন করে কোনো অনুমোদন নবায়ন হয়নি।

 

ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর আওতাধীন এলাকায় অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার গ্যারেজের প্রকৃত সংখ্যা তাদের জানা নেই। শুধু গ্যারেজ নয়, বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও গ্যারেজ করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এসব বন্ধে কার্যকর উপায় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তিনি বলেন, একটি অটোরিকশার ব্যাটারিতে একবার চার্জ দিতে প্রায় ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। অনেকেই দিনে দুইবার চার্জ দেন। সে হিসাবে একটি অটোরিকশায় দিনে প্রায় ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। নগরে হাজার হাজার অটোরিকশা থাকায় এতে বিপুল বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিটি যান একবার চার্জে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ ধরে ৭০ হাজার যানবাহনে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নগরে ১২৭টি ব্যাটারি চার্জিং গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক মিটারবিহীন গ্যারেজের সংখ্যা প্রায় ২০০।

 

এসবের কিছুতে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার এবং কোথাও বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্টেডিয়াম কলোনির এক গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিদ্যুতের লোকজনকে। যাতে লাইন কেটে না দেয়। আবাসিক মিটার ব্যবহার করেই বেশি যানবাহন চার্জ দেয়া যায়।

 

বিসিক এলাকার আরেক গ্যারেজ মালিক বলেন, রাত ১টার পর মেইন লাইনে হুক দিয়ে দিই। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মিটার রিডারকেও মাঝেমধ্যে টাকা দিতে হয়। এদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরিচালিত গত ছয় মাসের অভিযানে ৬৮১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে। ওজোপাডিকোর (পরিচালন ও সংরক্ষণ) বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, বরিশাল নগরীর আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ অটোরিকশা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো শহরে নেই। কোথাও ব্যাটারিচালিত যান চার্জে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিদিন কোটি টাকার বিদ্যুৎ খায় অটোরিকশা

প্রতিদিন কোটি টাকার বিদ্যুৎ খায় অটোরিকশা

Update Time : ০১:৪৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক : বরিশাল নগরীতে সাধারণ মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান বাহন এখন ব্যাটারিচালিত হলুদ অটোরিকশা ও রিকশা। তবে এসব যান চালাতে নেই নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা কার্যকর অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা। ফলে দিন দিন বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। একই সঙ্গে এসব যান চার্জ দিতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হওয়ায় নগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। নগরীতে ঠিক কতটি ব্যাটারিচালিত অটো ও রিকশা চলছে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই কোনো দপ্তরের কাছে। বরিশাল মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সম্ভাব্য হিসাবে, নগরে হলুদ অটোরিকশা রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রায় ৪০ হাজার। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন ৭ হাজার ৬১০টি হলুদ অটোরিকশার অনুমোদন দিয়েছিল। তবে এসব অনুমোদনের মেয়াদও শেষ হয়েছে। নতুন করে কোনো অনুমোদন নবায়ন হয়নি।

 

ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর আওতাধীন এলাকায় অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার গ্যারেজের প্রকৃত সংখ্যা তাদের জানা নেই। শুধু গ্যারেজ নয়, বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও গ্যারেজ করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এসব বন্ধে কার্যকর উপায় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তিনি বলেন, একটি অটোরিকশার ব্যাটারিতে একবার চার্জ দিতে প্রায় ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। অনেকেই দিনে দুইবার চার্জ দেন। সে হিসাবে একটি অটোরিকশায় দিনে প্রায় ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। নগরে হাজার হাজার অটোরিকশা থাকায় এতে বিপুল বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিটি যান একবার চার্জে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ ধরে ৭০ হাজার যানবাহনে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নগরে ১২৭টি ব্যাটারি চার্জিং গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক মিটারবিহীন গ্যারেজের সংখ্যা প্রায় ২০০।

 

এসবের কিছুতে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার এবং কোথাও বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্টেডিয়াম কলোনির এক গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিদ্যুতের লোকজনকে। যাতে লাইন কেটে না দেয়। আবাসিক মিটার ব্যবহার করেই বেশি যানবাহন চার্জ দেয়া যায়।

 

বিসিক এলাকার আরেক গ্যারেজ মালিক বলেন, রাত ১টার পর মেইন লাইনে হুক দিয়ে দিই। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মিটার রিডারকেও মাঝেমধ্যে টাকা দিতে হয়। এদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরিচালিত গত ছয় মাসের অভিযানে ৬৮১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে। ওজোপাডিকোর (পরিচালন ও সংরক্ষণ) বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, বরিশাল নগরীর আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ অটোরিকশা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো শহরে নেই। কোথাও ব্যাটারিচালিত যান চার্জে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।