ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ২৪ Time View
৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে আসছেন প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। শিক্ষক নিয়োগ, ক্লাস বণ্টন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীরা জানান, এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষককে নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ঘুষ না দেওয়ায় সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামানকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

সিনিয়র শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিগত সময়ে বিদ্যালয়ে ক্লাস বাণিজ্য, এসএসসি পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে নকলের সুযোগ দেওয়া, বিদ্যালয় জাতীয়করণের কথা বলে সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় এবং ২০২৩ সালে সরকার প্রদত্ত উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ও এতিম শিক্ষার্থী, লাইব্রেরি ও ল্যাব উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভৌতবিজ্ঞান) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ২০২২ সালে যোগদানের পর এমপিওভুক্তি ও বেতনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না রেখেই পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করানো হয়, যার কারণে প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

 

সহকারী শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, “এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যোগদানের জন্য বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে। গত ১৫ বছরে এমন কোনো অনিয়ম নেই যা তারা করেননি। দুজন মিলে বিদ্যালয়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।” মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক পারভিন সুলতানা, আফিয়া সুলতানা, রওশান আরা খাতুন, রিফাত খাইরুল মোরছালিন, সংগীতা রানী দেবনাথ, বাসন্তী রানী দাস, ফারজানা পলিন, মৌসুমি আক্তার মিতু, রাশেদুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। তারপরও মানববন্ধনের মাধ্যমে আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বেগম জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত

পটুয়াখালীতে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন

Update Time : ০১:৪১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে আসছেন প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। শিক্ষক নিয়োগ, ক্লাস বণ্টন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীরা জানান, এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষককে নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ঘুষ না দেওয়ায় সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামানকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

সিনিয়র শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিগত সময়ে বিদ্যালয়ে ক্লাস বাণিজ্য, এসএসসি পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে নকলের সুযোগ দেওয়া, বিদ্যালয় জাতীয়করণের কথা বলে সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় এবং ২০২৩ সালে সরকার প্রদত্ত উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ও এতিম শিক্ষার্থী, লাইব্রেরি ও ল্যাব উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভৌতবিজ্ঞান) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ২০২২ সালে যোগদানের পর এমপিওভুক্তি ও বেতনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না রেখেই পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করানো হয়, যার কারণে প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

 

সহকারী শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, “এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যোগদানের জন্য বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে। গত ১৫ বছরে এমন কোনো অনিয়ম নেই যা তারা করেননি। দুজন মিলে বিদ্যালয়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।” মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক পারভিন সুলতানা, আফিয়া সুলতানা, রওশান আরা খাতুন, রিফাত খাইরুল মোরছালিন, সংগীতা রানী দেবনাথ, বাসন্তী রানী দাস, ফারজানা পলিন, মৌসুমি আক্তার মিতু, রাশেদুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। তারপরও মানববন্ধনের মাধ্যমে আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।