ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রী তোমার ওপর বিরক্ত হইছে, বলার পর কাদেরকে যা বলেছিলেন হারুন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। আন্দোলন তখন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে চলছিল নানা তৎপরতা। হেফাজতে নেওয়া হয় প্রধান সমন্বয়কদেরও। তবে তাদের খাবার খাওয়ানোর একটি ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নানা আলোচনা। সেই ছবি প্রকাশ করা নিয়ে তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়েন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ডিবির হারুন ও কাদেরের সেই কথোপকথনের একটি ফোনালাপ বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এদিন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রসিকিউশন জানায়, ষষ্ঠ দিনের মতো আজ এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করবেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এরপরই নিজেদের যুক্তি তুলে ধরবেন পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের ও হারুন অর রশীদের মধ্যে আন্দোলনের সমন্বয়কদের হেফাজতে রাখা, তাদের খাবার খাওয়ানো এবং সেই ছবি প্রকাশের বিষয় নিয়ে কথা হয়। কাদের প্রশ্ন করেন, ভালো কাজ করতে করতে আবার কেন তাদের খাবার খাওয়ানোর ছবি তোলা ও প্রকাশ করা হলো।

জবাবে হারুন বলেন, খাবার খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এসবি প্রধানের নির্দেশেই তাদের খাবার দেওয়া হয়েছে। ছবি তোলা এবং বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

একপর্যায়ে কাদের বলেন, ছবিটি নিজেদের কাছে রেখে দেওয়া উচিত ছিল। জবাবে হারুন দাবি করেন, ছবি প্রকাশের জন্যও তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ সময় তিনি এসবি প্রধান মনিরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে হেফাজতে থাকা ছয়জনের প্রসঙ্গ ওঠে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে হারুন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রতিদিন বৈঠক হয় এবং সেখান থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়, তিনি সেটিই পালন করেন। একজন ডিবি প্রধান হিসেবে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় নিজের বদলির বিষয়টিও কাদেরকে জানান হারুন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিশনারকে তাকে বদলি করার কথা বলেছেন। নিজের অপরাধ কী—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। হারুন দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশের বাইরে তিনি কোনো কাজ করেননি।

অন্যদিকে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং হারুনকে কেউ রক্ষা করছেন না। একপর্যায়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে আ.লীগ নেতা, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নেত্রী তোমার ওপর বিরক্ত হইছে, বলার পর কাদেরকে যা বলেছিলেন হারুন

Update Time : ১০:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। আন্দোলন তখন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে চলছিল নানা তৎপরতা। হেফাজতে নেওয়া হয় প্রধান সমন্বয়কদেরও। তবে তাদের খাবার খাওয়ানোর একটি ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নানা আলোচনা। সেই ছবি প্রকাশ করা নিয়ে তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়েন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ডিবির হারুন ও কাদেরের সেই কথোপকথনের একটি ফোনালাপ বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এদিন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রসিকিউশন জানায়, ষষ্ঠ দিনের মতো আজ এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করবেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এরপরই নিজেদের যুক্তি তুলে ধরবেন পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের ও হারুন অর রশীদের মধ্যে আন্দোলনের সমন্বয়কদের হেফাজতে রাখা, তাদের খাবার খাওয়ানো এবং সেই ছবি প্রকাশের বিষয় নিয়ে কথা হয়। কাদের প্রশ্ন করেন, ভালো কাজ করতে করতে আবার কেন তাদের খাবার খাওয়ানোর ছবি তোলা ও প্রকাশ করা হলো।

জবাবে হারুন বলেন, খাবার খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এসবি প্রধানের নির্দেশেই তাদের খাবার দেওয়া হয়েছে। ছবি তোলা এবং বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

একপর্যায়ে কাদের বলেন, ছবিটি নিজেদের কাছে রেখে দেওয়া উচিত ছিল। জবাবে হারুন দাবি করেন, ছবি প্রকাশের জন্যও তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ সময় তিনি এসবি প্রধান মনিরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে হেফাজতে থাকা ছয়জনের প্রসঙ্গ ওঠে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে হারুন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রতিদিন বৈঠক হয় এবং সেখান থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়, তিনি সেটিই পালন করেন। একজন ডিবি প্রধান হিসেবে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় নিজের বদলির বিষয়টিও কাদেরকে জানান হারুন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিশনারকে তাকে বদলি করার কথা বলেছেন। নিজের অপরাধ কী—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। হারুন দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশের বাইরে তিনি কোনো কাজ করেননি।

অন্যদিকে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং হারুনকে কেউ রক্ষা করছেন না। একপর্যায়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।