
নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার কামারপল্লী ও হাট-বাজারগুলোতে কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে। পশু কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরি এবং পুরনো সরঞ্জামে শান দেওয়ার কাজে দিন-রাত টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামার দোকানগুলো।
সরেজমিন দেখা যায়, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের ভাটিতে লোহা পুড়িয়ে চলছে ধারালো অস্ত্র তৈরির কাজ। কেউ পুরনো ছুরি-চাপাতিতে শান দিচ্ছেন, আবার কেউ নতুন সরঞ্জাম তৈরি করছেন। কোরবানির পশুজবাই ও গোশত প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে গ্রাহকদের ভিড়ও বাড়ছে প্রতিদিন।
স্থানীয় কামারদের ভাষ্য, একসময় কৃষিকাজে ব্যবহৃত হাঁসুয়া, কাস্তে, কোদাল ও কুড়ালের কাজেই বছরের অধিকাংশ সময় কেটে যেত। কিন্তু আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারে সেই চাহিদা অনেক কমে গেছে। ফলে এখন কোরবানির ঈদই তাদের বছরের প্রধান আয়ের মৌসুমে পরিণত হয়েছে। পাড়েরহাট বাজারের কামার উত্তম কর্মকার জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি এ পেশার সাথে যুক্ত। সারা বছর সীমিত কাজ থাকলেও ঈদের সময়ই সবচেয়ে বেশি আয় হয়। ছোট ছুরি থেকে বড় চাপাতিতে শান দিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। নতুন ছুরি ও চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায়।
তিনি বলেন, ‘আগে কৃষিকাজের সরঞ্জামের চাহিদা ছিল বেশি। এখন মেশিনের কারণে সেই কাজ কমে গেছে। তাই কোরবানির ঈদকে ঘিরেই আমাদের মূল ব্যবসা চলে।
স্থানীয়দের মতে, কোরবানির ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্পের জন্যও একটি বড় অর্থনৈতিক মৌসুম। বছরের অন্য সময় অনেক কামার পেশা বদলালেও ঈদের আগে আবারো তারা ফিরে আসেন পুরনো ভাটিতে। এতে কিছুদিনের জন্য হলেও প্রাণ ফিরে পায় হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্যবাহী পেশা।
Reporter Name 





















