ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জের কামারশালায় ব্যস্ততা তুঙ্গে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ২৮ Time View
৫০
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কামারশালায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপে ঘাম ঝরিয়ে ছুরি, চাপাতি, দা, বটি ও কোরবানির সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আগের মতো সারা বছর কাজ না থাকায় এই পেশার মানুষদের অনেকেই এখন অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
উপজেলার রহমতপুর, মাধবপাশা, চাঁদপাশা ও জাহাঙ্গীরনগর  এলাকার কয়েকটি কামারশালায় ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে পুরোনো ছুরি-চাপাতি শান দেওয়া এবং নতুন সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কেউ আগুনে লোহা গরম করছেন, আবার কেউ হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
স্থানীয় কামাররা জানান, একসময় কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত দা, কাস্তে, কোদালসহ নানা সরঞ্জামের ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সেই চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় তাদের কাজ কম থাকে। ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করেই মূলত কিছুটা আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরি হয়।
বাবুগঞ্জ বাজারের সাধু কর্মকার জানান, আগে সারা বছরই কাজ থাকতো। এখন ঈদের সময় ছাড়া তেমন কাজ পাওয়া যায় না। সারাদিন পরিশ্রম করেও যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আরেক কারিগর বলেন, লোহার দাম, কয়লা ও অন্যান্য উপকরণের খরচ বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী মজুরি বাড়েনি। মানুষ এখন অনেকেই বাজার থেকে তৈরি জিনিস কিনে নেয়, তাই হাতে তৈরি সরঞ্জামের কদর আগের মতো নেই।
তবে কোরবানির ঈদ এলেই পুরোনো ব্যস্ততা কিছুটা ফিরে আসে। স্থানীয় মানুষজন ছুরি, চাপাতি ও বটি শান দিতে কামারশালায় ভিড় করছেন। এতে কয়েকদিনের জন্য হলেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছেন এই পেশার মানুষরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঐতিহ্যবাহী এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। অন্যথায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে গ্রামীণ জনপদের শত বছরের পুরোনো কামারশিল্প।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ১২ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা, খুড়িয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা

ঈদকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জের কামারশালায় ব্যস্ততা তুঙ্গে

Update Time : ০৬:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
৫০
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কামারশালায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপে ঘাম ঝরিয়ে ছুরি, চাপাতি, দা, বটি ও কোরবানির সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আগের মতো সারা বছর কাজ না থাকায় এই পেশার মানুষদের অনেকেই এখন অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
উপজেলার রহমতপুর, মাধবপাশা, চাঁদপাশা ও জাহাঙ্গীরনগর  এলাকার কয়েকটি কামারশালায় ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে পুরোনো ছুরি-চাপাতি শান দেওয়া এবং নতুন সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কেউ আগুনে লোহা গরম করছেন, আবার কেউ হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
স্থানীয় কামাররা জানান, একসময় কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত দা, কাস্তে, কোদালসহ নানা সরঞ্জামের ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সেই চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় তাদের কাজ কম থাকে। ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করেই মূলত কিছুটা আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরি হয়।
বাবুগঞ্জ বাজারের সাধু কর্মকার জানান, আগে সারা বছরই কাজ থাকতো। এখন ঈদের সময় ছাড়া তেমন কাজ পাওয়া যায় না। সারাদিন পরিশ্রম করেও যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আরেক কারিগর বলেন, লোহার দাম, কয়লা ও অন্যান্য উপকরণের খরচ বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী মজুরি বাড়েনি। মানুষ এখন অনেকেই বাজার থেকে তৈরি জিনিস কিনে নেয়, তাই হাতে তৈরি সরঞ্জামের কদর আগের মতো নেই।
তবে কোরবানির ঈদ এলেই পুরোনো ব্যস্ততা কিছুটা ফিরে আসে। স্থানীয় মানুষজন ছুরি, চাপাতি ও বটি শান দিতে কামারশালায় ভিড় করছেন। এতে কয়েকদিনের জন্য হলেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছেন এই পেশার মানুষরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঐতিহ্যবাহী এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। অন্যথায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে গ্রামীণ জনপদের শত বছরের পুরোনো কামারশিল্প।