ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগস্টে চালু হবে বরিশাল শিশু হাসপাতাল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৪৭ Time View
৭৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই বরিশাল শিশু হাসপাতাল চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সোমবার (১১ মে) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নির্মাণাধীন ক্যানসার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

 

তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু কমাতে দ্রুত শিশু হাসপাতালটি চালু করা জরুরি। এ লক্ষ্যে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত চাহিদার তালিকা হাসপাতাল পরিচালকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।

 

 

মন্ত্রী জানান, ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১০টি নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, একটি সিটি স্ক্যান মেশিন, দুটি এক্স-রে মেশিন, একটি পোর্টেবল এক্স-রে, ২০টি মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ১০টি ফটোথেরাপি মেশিন এবং ১০টি ওয়ার্মার। এসব যন্ত্রপাতি জুলাই মাসের মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, কিছু সরঞ্জাম টেন্ডারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে এবং কিছু স্থানীয়ভাবে ক্রয় করা হবে। অর্থসংকট দেখা দিলে সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

 

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি চাই আগামী ১ আগস্ট থেকেই শিশু হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হোক। এ সময় তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথাও তুলে ধরেন। সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে দুই ধাপে পাঁচজন করে মোট ১০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, সিভিল সার্জন মঞ্জুর এ এলাহী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০০ শয্যার এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন দফায় এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রথম দফায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে করা হয় চারতলা মূল ভবন। দ্বিতীয় দফায় সাড়ে তিন কোটি টাকায় লিফট কেনা, ড্রেন, সীমানা প্রাচীর ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়।

 

 

২০২৬ সালে এসেও নিশ্চিত হয়নি বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এই সংকট কাটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৃতীয় দফায় আরও ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকরাই হবেন তথ্য কমপ্লেক্সের প্রথম ব্যবহারকারী : তথ্যমন্ত্রী

আগস্টে চালু হবে বরিশাল শিশু হাসপাতাল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Update Time : ০১:২৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
৭৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই বরিশাল শিশু হাসপাতাল চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সোমবার (১১ মে) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নির্মাণাধীন ক্যানসার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

 

তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু কমাতে দ্রুত শিশু হাসপাতালটি চালু করা জরুরি। এ লক্ষ্যে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত চাহিদার তালিকা হাসপাতাল পরিচালকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।

 

 

মন্ত্রী জানান, ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১০টি নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, একটি সিটি স্ক্যান মেশিন, দুটি এক্স-রে মেশিন, একটি পোর্টেবল এক্স-রে, ২০টি মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ১০টি ফটোথেরাপি মেশিন এবং ১০টি ওয়ার্মার। এসব যন্ত্রপাতি জুলাই মাসের মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, কিছু সরঞ্জাম টেন্ডারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে এবং কিছু স্থানীয়ভাবে ক্রয় করা হবে। অর্থসংকট দেখা দিলে সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

 

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি চাই আগামী ১ আগস্ট থেকেই শিশু হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হোক। এ সময় তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথাও তুলে ধরেন। সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে দুই ধাপে পাঁচজন করে মোট ১০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, সিভিল সার্জন মঞ্জুর এ এলাহী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০০ শয্যার এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন দফায় এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রথম দফায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে করা হয় চারতলা মূল ভবন। দ্বিতীয় দফায় সাড়ে তিন কোটি টাকায় লিফট কেনা, ড্রেন, সীমানা প্রাচীর ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়।

 

 

২০২৬ সালে এসেও নিশ্চিত হয়নি বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এই সংকট কাটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৃতীয় দফায় আরও ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।