ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে দাফনের ৬ মাস পরে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৮ Time View
৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মুলাদীতে দাফনের প্রায় ৬ মাস পরে রহিমা বেগম নামের এক গৃহবধুর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে গত ১৫ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কবর হতে লাশ উত্তোলনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের অফিস আদেশ জারি করেন।

 

 

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর রহিমা বেগমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। ওই ঘটনার ১ মাস ১৮ দিন পর রহিমা বেগমের মেয়ে স্কুল শিক্ষক মোসা. হাসিনা বাদী হয়ে ২৪জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছিলেন।  রহিমা বেগম উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের চিঠিরচর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী হাওলাদারের স্ত্রী। পূর্বশত্রুতা ও জমি বিরোধের জেরধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন মামলার বাদী মোসা. হাসিনা।

 

 

মোসা. হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশি মিলন খান ও তার লোকজনের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ৫অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার মা রহিমা বেগমকে ঘরের মধ্য একা পেয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রতিবেশিরা তড়িঘড়ি করে দাফন করায়। ঘটনার দেড় মাস পরে প্রতিবেশিরা একদিন ঝগড়ার সময় আমাকে হত্যার হুমকি দেন ওই সময় তারা আমার মা রহিমা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।’  পরে মোসা. হাসিনা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর চিঠিরচর গ্রামের মিলন খান (২৩), রাশেদ ব্যাপারী (৩০), ডালিয়া বেগম (২৬), ছালমা বেগম (৫০), মিনারা বেগম (২৮), মিতু আক্তার (২০), কলি বেগম (২০), কালাই ব্যাপারী (৩৫), চাদমিয়া হাওলাদার ও অজ্ঞাতনামা ১৫জনসহ ২৪ জনকে আসামি করে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

 

 

বাদীর আইনজীবী রাবেয়া সুলতানা দোয়েল জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেন। পরে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

 

 

সিআইডির উপপরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে রহিমা বেগম হত্যার অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট পরাগ সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে ৫৭টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের কাজ শিগগিরই শুরু হবে : শওকত হোসেন সরকার

বরিশালে দাফনের ৬ মাস পরে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

Update Time : ০১:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মুলাদীতে দাফনের প্রায় ৬ মাস পরে রহিমা বেগম নামের এক গৃহবধুর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে গত ১৫ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কবর হতে লাশ উত্তোলনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের অফিস আদেশ জারি করেন।

 

 

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর রহিমা বেগমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। ওই ঘটনার ১ মাস ১৮ দিন পর রহিমা বেগমের মেয়ে স্কুল শিক্ষক মোসা. হাসিনা বাদী হয়ে ২৪জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছিলেন।  রহিমা বেগম উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের চিঠিরচর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী হাওলাদারের স্ত্রী। পূর্বশত্রুতা ও জমি বিরোধের জেরধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন মামলার বাদী মোসা. হাসিনা।

 

 

মোসা. হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশি মিলন খান ও তার লোকজনের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ৫অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার মা রহিমা বেগমকে ঘরের মধ্য একা পেয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রতিবেশিরা তড়িঘড়ি করে দাফন করায়। ঘটনার দেড় মাস পরে প্রতিবেশিরা একদিন ঝগড়ার সময় আমাকে হত্যার হুমকি দেন ওই সময় তারা আমার মা রহিমা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।’  পরে মোসা. হাসিনা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর চিঠিরচর গ্রামের মিলন খান (২৩), রাশেদ ব্যাপারী (৩০), ডালিয়া বেগম (২৬), ছালমা বেগম (৫০), মিনারা বেগম (২৮), মিতু আক্তার (২০), কলি বেগম (২০), কালাই ব্যাপারী (৩৫), চাদমিয়া হাওলাদার ও অজ্ঞাতনামা ১৫জনসহ ২৪ জনকে আসামি করে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

 

 

বাদীর আইনজীবী রাবেয়া সুলতানা দোয়েল জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেন। পরে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

 

 

সিআইডির উপপরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে রহিমা বেগম হত্যার অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট পরাগ সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।