ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালতলীতে ৫টি এসির আউটডোর যন্ত্রাংশ চুরি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৩২ Time View
৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে দুটি সরকারি দপ্তরের ৫টি এসির আউটডোর ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সরকারি দপ্তরের ছাদে থাকা এসির যন্ত্রাংশ চুরির এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দপ্তরে স্থাপিত এসিগুলোর আউটডোর ইউনিট থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। চুরির ঘটনাটি কয়েকদিন আগে ঘটলেও বুধবার (৩ জুন) বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এসিগুলোর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ৪টি এবং উপজেলা কৃষি অফিসের ১টি এসি রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরে নাইটগার্ড নিয়োজিত থাকলেও তারা নিয়মিত রাতের দায়িত্ব পালন করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই রাতের পরিবর্তে সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অফিস সময়েই দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাতের বেলায় সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও সেগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হয় না। সরকারি বরাদ্দে সিসি ক্যামেরা মেরামত ও নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হলেও বাস্তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায় না। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, জনগণের করের টাকায় কেনা সরকারি এসির যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন। এদিকে সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এমন চুরির ঘটনা ঘটায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবনের ছাদে থাকা একাধিক এসির যন্ত্রাংশ চুরি হওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন,গতকাল থেকেই এসি চলছিল না। আজ সকালে ছাদে গিয়ে দেখি আউটডোর ইউনিটের বিভিন্ন অংশ কাটাছেঁড়া করা এবং খুলে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন,চুরির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। থানায় জিডি করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করা হচ্ছে। এছাড়াও নাইটগার্ডদের শোকজ করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে আ.লীগ নেতা, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

তালতলীতে ৫টি এসির আউটডোর যন্ত্রাংশ চুরি

Update Time : ০৩:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে দুটি সরকারি দপ্তরের ৫টি এসির আউটডোর ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সরকারি দপ্তরের ছাদে থাকা এসির যন্ত্রাংশ চুরির এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দপ্তরে স্থাপিত এসিগুলোর আউটডোর ইউনিট থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। চুরির ঘটনাটি কয়েকদিন আগে ঘটলেও বুধবার (৩ জুন) বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এসিগুলোর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ৪টি এবং উপজেলা কৃষি অফিসের ১টি এসি রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরে নাইটগার্ড নিয়োজিত থাকলেও তারা নিয়মিত রাতের দায়িত্ব পালন করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই রাতের পরিবর্তে সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অফিস সময়েই দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাতের বেলায় সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও সেগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হয় না। সরকারি বরাদ্দে সিসি ক্যামেরা মেরামত ও নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হলেও বাস্তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায় না। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, জনগণের করের টাকায় কেনা সরকারি এসির যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন। এদিকে সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এমন চুরির ঘটনা ঘটায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবনের ছাদে থাকা একাধিক এসির যন্ত্রাংশ চুরি হওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন,গতকাল থেকেই এসি চলছিল না। আজ সকালে ছাদে গিয়ে দেখি আউটডোর ইউনিটের বিভিন্ন অংশ কাটাছেঁড়া করা এবং খুলে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন,চুরির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। থানায় জিডি করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করা হচ্ছে। এছাড়াও নাইটগার্ডদের শোকজ করা হচ্ছে।