
নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে ৫৪ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি তবলা মাছ। মঙ্গলবার সকালে মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে ডাকের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রুবেল ঘরামী ৩৬ হাজার টাকায় এটি কিনে নেন। এতে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়ে প্রায় ৬৬৭ টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছটি জায়ান্ট ট্রেভ্যালি (Caranx ignobilis)। এটি ক্যারাঙ্গিডি (Carangidae) পরিবারের শক্তিশালী সামুদ্রিক শিকারি মাছ। সাধারণত বঙ্গোপসাগরের গভীর জলরাশি, উপকূলীয় অঞ্চল ও প্রবাল প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় এদের বিচরণ দেখা যায়। এ প্রজাতির মাছ দৈর্ঘ্যে এক মিটারের বেশি এবং ওজনে প্রায় ৮০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, জায়ান্ট ট্রেভ্যালি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মাঝেমধ্যে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কুয়াকাটা ও মহিপুর অঞ্চলে এটি তবলা, বোগা বা খন্দোয়া মাছ নামে পরিচিত। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে এ মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ছোট মাছ, কাঁকড়া ও স্কুইডের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বড় আকৃতির এ মাছের উপস্থিতি সুস্থ সামুদ্রিক পরিবেশের একটি ইতিবাচক সূচক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান রাজিব সরকার বলেন, জায়ান্ট ট্রেভ্যালি দ্রুত বর্ধনশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যবান একটি সামুদ্রিক মাছ। টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার জন্য এ ধরনের বড় মাছের সঠিক শনাক্তকরণ, আকার-ওজন এবং আহরণের স্থান নথিভুক্ত করা জরুরি। প্রয়োজনে ডিএনএ বারকোডিংয়ের মাধ্যমে প্রজাতি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জেলের জালে ধরা পড়া মাছটি ক্যারাঙ্গিডি পরিবারের একটি মূল্যবান সামুদ্রিক মাছ। এ মাছ আকারে বড় হয় এবং এর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মাছের উপস্থিতি বাড়লে জেলেরা আরও আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
Reporter Name 




















