ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শৈশব হারিয়ে ভিক্ষার ঝুলিতে জীবন, নির্বাক এক শিশুর গল্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৩২ Time View
৬২

নিজস্ব প্রতিবেদক : সমাজে এমন কিছু বাস্তবতা আছে, যা চোখে দেখা সত্ত্বেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। ঠিক তেমনই এক করুণ ও হৃদয়বিদারক চিত্র উঠে এসেছে ৫ বছর বয়সী এক শিশুর জীবনে। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা রঙিন বই, খেলনা আর স্কুল ব্যাগ- সেই বয়সেই তাকে বেছে নিতে হয়েছে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষার জীবন।

 

কথা পুরোপুরি বলতে না শেখা শিশুটি এখন অনায়াসে বলতে পারে, “আমাকে কয়েকটা টাকা দেন।” এই একটি বাক্যই তার জীবিকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, কখনো রাস্তায়, কখনো দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে হাত পাততে হয়। তার শৈশব যেন থেমে গেছে অনিশ্চয়তা আর দারিদ্র্যের ভারে।

 

সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, এই কাজটি তাকে করাচ্ছেন তার নিজের জন্মদাতা মা। শিশুটির কাঁধে একটি ব্যাগ ঝুলিয়ে দিয়ে তাকে ভিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। যে হাতে থাকার কথা ছিল খাতা-কলম, সেখানে এখন মানুষের দয়া পাওয়ার আশা। খেলাধুলার মাঠে দৌড়ানোর বদলে তার দিন কাটে রোদ-বৃষ্টি-ধুলো মেখে রাস্তায়।

 

শিশুটির মা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। জীবিকার কোনো স্থায়ী উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, “অভাবের কারণে সন্তানকে এই কাজে নামাতে বাধ্য হয়েছি।” তিনি আরও জানান, সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বেতন দিতে না পারায় তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

 

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের দুর্দশা নয়, বরং দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। একটি শিশু যেখানে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী হওয়ার কথা, সেখানে সে আজ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের বড় উদাহরণ। দারিদ্র্য বিমোচন, বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার না হলে এমন বাস্তবতা আরও বাড়তে পারে।

 

 

এই নিষ্পাপ শিশুটির গল্প তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়- এটি আমাদের সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করার মতো এক কঠিন সত্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

শৈশব হারিয়ে ভিক্ষার ঝুলিতে জীবন, নির্বাক এক শিশুর গল্প

Update Time : ০৯:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
৬২

নিজস্ব প্রতিবেদক : সমাজে এমন কিছু বাস্তবতা আছে, যা চোখে দেখা সত্ত্বেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। ঠিক তেমনই এক করুণ ও হৃদয়বিদারক চিত্র উঠে এসেছে ৫ বছর বয়সী এক শিশুর জীবনে। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা রঙিন বই, খেলনা আর স্কুল ব্যাগ- সেই বয়সেই তাকে বেছে নিতে হয়েছে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষার জীবন।

 

কথা পুরোপুরি বলতে না শেখা শিশুটি এখন অনায়াসে বলতে পারে, “আমাকে কয়েকটা টাকা দেন।” এই একটি বাক্যই তার জীবিকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, কখনো রাস্তায়, কখনো দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে হাত পাততে হয়। তার শৈশব যেন থেমে গেছে অনিশ্চয়তা আর দারিদ্র্যের ভারে।

 

সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, এই কাজটি তাকে করাচ্ছেন তার নিজের জন্মদাতা মা। শিশুটির কাঁধে একটি ব্যাগ ঝুলিয়ে দিয়ে তাকে ভিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। যে হাতে থাকার কথা ছিল খাতা-কলম, সেখানে এখন মানুষের দয়া পাওয়ার আশা। খেলাধুলার মাঠে দৌড়ানোর বদলে তার দিন কাটে রোদ-বৃষ্টি-ধুলো মেখে রাস্তায়।

 

শিশুটির মা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। জীবিকার কোনো স্থায়ী উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, “অভাবের কারণে সন্তানকে এই কাজে নামাতে বাধ্য হয়েছি।” তিনি আরও জানান, সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বেতন দিতে না পারায় তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

 

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের দুর্দশা নয়, বরং দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। একটি শিশু যেখানে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী হওয়ার কথা, সেখানে সে আজ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের বড় উদাহরণ। দারিদ্র্য বিমোচন, বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার না হলে এমন বাস্তবতা আরও বাড়তে পারে।

 

 

এই নিষ্পাপ শিশুটির গল্প তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়- এটি আমাদের সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করার মতো এক কঠিন সত্য।