ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজানে সবাইকে স্বস্তি দিয়ে বরিশালের বাজারে পেয়াঁজের কেজি ৩০ টাকা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৩ Time View
১৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে রমজানের অন্যতম অনুষঙ্গ পেয়াঁজের কেজি এখন ৩০ টাকা। পাশাপাশি চিনি, ছোলাবুট, গোলআলু, ডিম সহ অনেক নিত্যপণ্যের দামে জনজীবনে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এলেও সবজির দাম এখনো সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। তবে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলেই সবজির দামে পাইকারি আড়তের সাথে খোলাবাজারে খুচরা পর্যায়ে বিশাল ফাড়াক ভোক্তাদের পকেট খালি করছে। চালের বাজার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না নামলেও সরকারি নানা উদ্যোগ বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষণে।

রমজানের শুরুতে বরিশালের খোলাবাজারে যে পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হত, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ৪০টায় নামার পরে এখন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি খোদ বরিশাল মহানগরী যুড়েই সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত রিক্সা ভ্যনে করে মাইক যোগে দাম জানান দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছে বিক্রেতারা। এখন বরিশালের বাজারে এক কেজি গোল আলু ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সবজির মূল্যবৃদ্ধির ধকল থেকে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অনেকটাই স্বস্তি দিচ্ছে।

 

অপরদিকে গত এক দশকের মধ্যে বরিশালের খোলা বাজারে রমজান মাসে ৯০-৯৫ টাকায় চিনি বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ছোলা বুটের কেজি ৮৫-৯০ টাকার মধ্যে। খেশারী ডালও ৯৫-১শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা নিকট অতীতের যে-কোনো সময়ের তুলনায় অনেক কম বরের দোকানীগন জানিয়েছেন।

 

তবে ভোজ্যতেল এখনো বরিশালের মানুষকেও যথেষ্ট বিড়ম্বনায় রেখেছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। কোন কোন স্থানে তা ২শ টাকা লিটারেও বিক্রি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থা-টিসিবি এবারো রমজানের আগের দিন থেকে বরিশাল অঞ্চলে প্রতিদিন ৪০টি ট্রাকে ১৬ হাজার মানুষের মাঝে ১১৫ টাকা, লিটার দরে দুই লিটার করে ভোজ্য তেল বিক্রি করছে। পাশাপাশি ৮০ টাকা দরে ১ কেজি করে চিনি, ১৬০ টাকা দরে ৫শ গ্রাম খেজুর ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি করে মুসুর ডালও বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানটি ছোলা বুটও বিক্রি করছে ৭০ টাকা কেজি দরে।

 

এর বাইরে আরো প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজর ফ্যামিলি কার্ডধারীও প্রতিমাসে ৩০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি চাল ছাড়াও ১০৫ টাকা লিটারে ২ লিটার সয়াবিন বা রাইস ব্রান অয়েল, ৭০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি চিনি, ১৬০ টাকায় ১ কেজি খেজুর ও ৬০ টাকায় ১ কেজি ছোলা বুট পাবেন বলে জানা গেছে। তবে এ অঞ্চলের ফ্যামিলি ফেব্রুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসের পণ্য এখনো পাননি। খুব শীঘ্রই কার্ডধারীদের মাঝে পণ্য বিতরণ করা হবে বলে বরিশালে টিসিবি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এমনকি ঈদের আগে আরো একবার ফ্যামিলি কার্ডধারী টিসিবি পণ্য পাবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ঈদের আগে পর্যন্ত ৪০টি ট্রাকে প্রতিদিন ১৬ হাজার মানুষের মাঝে এসব নিত্যপণ্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানা গেছে।

 

পাশাপাশি খাদ্য বিভাগ থেকেও বরিশাল অঞ্চলে খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন ৯২ টন চাল ও ২৪ টাকা দরে ৫৬ টন করে আটা বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষ চাল ও সাড়ে ১১ হাজার জন আটা পাচ্ছেন। ফলে এবারের রমজানে বরিশালের চালের বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধের পাশাপাশি তা কিছুটা নি¤œমুখি রয়েছে।

 

তবে সবজির বাজারে এখনো তেমন সুখবর নেই। বরিশালের বাজারে এখনো টমেটোর কেজি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা কেজি। বাঁধা কপি’ও ৪০-৫০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের কেজি ১৮০ টাকা । অন্যান্য সবজির দামও কিছুটা চড়া। তবে পুরো সবজির বাজারেই পাইকারীর সাথে খুচরা পর্যায়ের দাে বিশঅল ফাড়াক ভোক্তাদের বাড়তি দুর্ভোগ অব্যাহত রেখেছে।

 

তবে এসব কিছুর মধ্যেও অতীত প্রথা অনুযায়ী রমজানের শুরুতে বেগুন ও শশার দাম যতটা বৃদ্ধি পেত, এবার সেসব কৃষিপণ্যের দাম বাড়লেও তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। বরিশালের বাজারে এবার রোজার শুরুতে ৮০ টাকা কেজি দরের বেগুন এখন ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শশার কেজি এখন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে । তবে অসময়ের লেবুর দাম এখনো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশী। মাঝারি সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা হালি।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বেগম জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত

রমজানে সবাইকে স্বস্তি দিয়ে বরিশালের বাজারে পেয়াঁজের কেজি ৩০ টাকা

Update Time : ০২:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে রমজানের অন্যতম অনুষঙ্গ পেয়াঁজের কেজি এখন ৩০ টাকা। পাশাপাশি চিনি, ছোলাবুট, গোলআলু, ডিম সহ অনেক নিত্যপণ্যের দামে জনজীবনে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এলেও সবজির দাম এখনো সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। তবে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলেই সবজির দামে পাইকারি আড়তের সাথে খোলাবাজারে খুচরা পর্যায়ে বিশাল ফাড়াক ভোক্তাদের পকেট খালি করছে। চালের বাজার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না নামলেও সরকারি নানা উদ্যোগ বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষণে।

রমজানের শুরুতে বরিশালের খোলাবাজারে যে পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হত, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ৪০টায় নামার পরে এখন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি খোদ বরিশাল মহানগরী যুড়েই সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত রিক্সা ভ্যনে করে মাইক যোগে দাম জানান দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছে বিক্রেতারা। এখন বরিশালের বাজারে এক কেজি গোল আলু ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সবজির মূল্যবৃদ্ধির ধকল থেকে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অনেকটাই স্বস্তি দিচ্ছে।

 

অপরদিকে গত এক দশকের মধ্যে বরিশালের খোলা বাজারে রমজান মাসে ৯০-৯৫ টাকায় চিনি বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ছোলা বুটের কেজি ৮৫-৯০ টাকার মধ্যে। খেশারী ডালও ৯৫-১শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা নিকট অতীতের যে-কোনো সময়ের তুলনায় অনেক কম বরের দোকানীগন জানিয়েছেন।

 

তবে ভোজ্যতেল এখনো বরিশালের মানুষকেও যথেষ্ট বিড়ম্বনায় রেখেছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। কোন কোন স্থানে তা ২শ টাকা লিটারেও বিক্রি হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থা-টিসিবি এবারো রমজানের আগের দিন থেকে বরিশাল অঞ্চলে প্রতিদিন ৪০টি ট্রাকে ১৬ হাজার মানুষের মাঝে ১১৫ টাকা, লিটার দরে দুই লিটার করে ভোজ্য তেল বিক্রি করছে। পাশাপাশি ৮০ টাকা দরে ১ কেজি করে চিনি, ১৬০ টাকা দরে ৫শ গ্রাম খেজুর ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি করে মুসুর ডালও বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানটি ছোলা বুটও বিক্রি করছে ৭০ টাকা কেজি দরে।

 

এর বাইরে আরো প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজর ফ্যামিলি কার্ডধারীও প্রতিমাসে ৩০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি চাল ছাড়াও ১০৫ টাকা লিটারে ২ লিটার সয়াবিন বা রাইস ব্রান অয়েল, ৭০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি চিনি, ১৬০ টাকায় ১ কেজি খেজুর ও ৬০ টাকায় ১ কেজি ছোলা বুট পাবেন বলে জানা গেছে। তবে এ অঞ্চলের ফ্যামিলি ফেব্রুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসের পণ্য এখনো পাননি। খুব শীঘ্রই কার্ডধারীদের মাঝে পণ্য বিতরণ করা হবে বলে বরিশালে টিসিবি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এমনকি ঈদের আগে আরো একবার ফ্যামিলি কার্ডধারী টিসিবি পণ্য পাবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ঈদের আগে পর্যন্ত ৪০টি ট্রাকে প্রতিদিন ১৬ হাজার মানুষের মাঝে এসব নিত্যপণ্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানা গেছে।

 

পাশাপাশি খাদ্য বিভাগ থেকেও বরিশাল অঞ্চলে খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন ৯২ টন চাল ও ২৪ টাকা দরে ৫৬ টন করে আটা বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষ চাল ও সাড়ে ১১ হাজার জন আটা পাচ্ছেন। ফলে এবারের রমজানে বরিশালের চালের বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধের পাশাপাশি তা কিছুটা নি¤œমুখি রয়েছে।

 

তবে সবজির বাজারে এখনো তেমন সুখবর নেই। বরিশালের বাজারে এখনো টমেটোর কেজি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা কেজি। বাঁধা কপি’ও ৪০-৫০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের কেজি ১৮০ টাকা । অন্যান্য সবজির দামও কিছুটা চড়া। তবে পুরো সবজির বাজারেই পাইকারীর সাথে খুচরা পর্যায়ের দাে বিশঅল ফাড়াক ভোক্তাদের বাড়তি দুর্ভোগ অব্যাহত রেখেছে।

 

তবে এসব কিছুর মধ্যেও অতীত প্রথা অনুযায়ী রমজানের শুরুতে বেগুন ও শশার দাম যতটা বৃদ্ধি পেত, এবার সেসব কৃষিপণ্যের দাম বাড়লেও তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। বরিশালের বাজারে এবার রোজার শুরুতে ৮০ টাকা কেজি দরের বেগুন এখন ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শশার কেজি এখন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে । তবে অসময়ের লেবুর দাম এখনো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশী। মাঝারি সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা হালি।