
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের বেইজ কমান্ডার মরহুম আব্দুল ওহাব খানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হলরুমে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব খানের সমাধিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
১৯৮৯ সালের ১৫ আগস্ট আততায়ীদের গুলিতে বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরেই নির্মমভাবে নিহত হন আব্দুল ওহাব খান। তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুতে সে সময় বাবুগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পরও স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে তিনি একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, জনবান্ধব নেতা ও কর্মনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি হিসেবে অম্লান হয়ে আছেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আব্দুল ওহাব খান ৯ নম্বর সেক্টরের বেইজ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকা স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে জনসেবায় যুক্ত হন এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বক্তারা বলেন, আব্দুল ওহাব খান ছিলেন বাবুগঞ্জের একজন প্রবাদপ্রতিম জননেতা ও জনবান্ধব মানুষ। মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কৃষি, বৃক্ষরোপণ ও মৎস্যচাষের প্রতিও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
গাছপালা ও মাছের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং এসব নিয়ে কাজ করার কারণে সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি আলাদা পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
আব্দুল ওহাব খানের পারিবারিক জীবনও ছিল জনসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর স্ত্রী মরহুম খালেদা বেগম ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান। তাঁদের একমাত্র ছেলে নাদিম মাহমুদ বর্তমানে এনআরবিসি ব্যাংকের একটি শাখায় ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। মেয়ে ফারজানা বিনতে ওহাবও বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামসুল আলম ফকির, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোস্তফা মানিক, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. সোবাহান রাড়ী, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এইচ এম মিজানুর রহমান, কেদারপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ. মালেক হাজী, রহমতপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হালিম হাওলাদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল ইসলাম, চাঁদপাশা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম, মাধবপাশা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম জমাদ্দারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুল ওহাব খানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর আত্মার শান্তি ও জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থান কামনা করে দোয়া করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ, জনসেবা ও স্থানীয় উন্নয়নে অবদানের কারণে বাবুগঞ্জের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব খান আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
Reporter Name 



















