
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনা-১ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. সুলতান আহম্মদ (দাড়িপাল্লা প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও ঘটনার উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বরগুনা জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কার্যালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে প্রার্থী ডাক্তার সুলতান আহমেদ উল্লেখ করেন, গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত লোকজন এনে শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। আচরণবিধি উপেক্ষা করে মিছিল, শোডাউন, মোটরসাইকেল বহর ও উচ্চস্বরে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, (৯ ফেব্রুয়ারি) সোমবার কাকচিড়া, কালমেঘা, নাচনাপাড়া, চরদুয়ানি ও কাঠালতলীসহ একাধিক এলাকায় বড় ধরনের মিছিল ও শোডাউন করা হয়। বিভিন্ন সময় বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থানে অনুমতি ছাড়া মাইকিং করা হয়েছে। মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। উঠান বৈঠকের নামে বাইরের লোক এনে জটলা তৈরি এবং ভোটারদের উপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
ডা. সুলতান আহম্মদ দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ভোটার নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কিত। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালানো হলেও স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে অবৈধ শোডাউন বন্ধ, বহিরাগতদের অপসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে।
ডা. সুলতান আহম্মদ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। কিন্তু নিয়ম ভেঙে যেভাবে শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে, তাতে ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামের জেলা সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আল মামুন, জেলা মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুল মালেক, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এসএম আফজালুর রহমান, সৈয়দ মানজুর রব মুর্তাযা আহসান প্রমুখ।
Reporter Name 



















