
নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশালে আদালত কক্ষে হট্টগোল, বেঞ্চ ভাঙচুর ও বিচারকের সাথে অপেশাদার আচরণের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ ৯ আইনজীবীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
আদালত অবমাননার দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
আগামী ৯ মার্চ অভিযুক্তদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে একদল আইনজীবী এজলাসে প্রবেশ করেন। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন সংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা বিচারকের সামনে রাখা বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করে বিচারিক কাজে বিঘ্ন ঘটান। সিসিটিভি ফুটেজে আইনজীবীদের আগ্রাসী আচরণের প্রমাণ মেলায় উচ্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই পদক্ষেপ নেন।
অভিযুক্ত ৯ আইনজীবী হলেন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান (লিংকন), সাধারণ সম্পাদকসহ সমিতির আরও সাতজন কার্যকরী সদস্য ও আইনজীবী।
আদেশ দেওয়ার সময় আদালত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, বিচারকের এজলাস হলো ন্যায়বিচারের পবিত্র স্থান। সেখানে গিয়ে ভাঙচুর বা আক্রমণাত্মক আচরণ সরাসরি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই একজন আইনজীবীর পেশাদার আচরণ হতে পারে না। আইনের শাসন বজায় রাখতে এমন আচরণের বিচার হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান (লিংকন) বলেন, আমরা আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। সেদিন মূলত সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এখনো আদালতের আদেশের কপি হাতে পাইনি। তবে নির্ধারিত তারিখে আমরা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে আমাদের অবস্থান ও ব্যাখা তুলে ধরব।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য জানান, আইনজীবীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি (Code of Conduct) রয়েছে। আদালত অবমাননার বিষয়টি প্রমাণিত হলে হাইকোর্টের শাস্তির পাশাপাশি বার কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের লাইসেন্স বা সনদ বাতিলের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
এই ঘটনার পর থেকে বরিশালের আদালত পাড়ায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের বিশৃঙ্খলার ফলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আগামী ৯ মার্চ হাইকোর্টের শুনানির পর নির্ধারিত হবে অভিযুক্ত এই ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে। তা বিচারবিভাগের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
হাফেজ মোঃ জাকারিয়া।। 























