ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালতলীতে মর্গে মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭৬ Time View
২০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার তালতলীতে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ময়নাতদন্ত শেষে মর্গ থেকে মরদেহ নিতে গিয়ে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সোমবার গৃহবধূ রিমাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ অভিযোগের পর তালতলী থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্বজনদের অভিযোগ, মরদেহ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

 

নিহতের স্বজন আবু বকর বলেন, তাদের ধারণা রিমাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশকে প্রভাবিত করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পরিবারের আবেদনের পর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।

 

নিহতের ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি বাইরে ছিলেন। মোবাইল ফোনে জানতে পারেন তার বোনকে গ্যাসের ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার কয়েক দিন আগে তাকে মারধর করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, রিমার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করতেই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

তালতলীতে মর্গে মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি

Update Time : ০৫:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
২০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার তালতলীতে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ময়নাতদন্ত শেষে মর্গ থেকে মরদেহ নিতে গিয়ে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সোমবার গৃহবধূ রিমাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ অভিযোগের পর তালতলী থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্বজনদের অভিযোগ, মরদেহ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

 

নিহতের স্বজন আবু বকর বলেন, তাদের ধারণা রিমাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশকে প্রভাবিত করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পরিবারের আবেদনের পর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।

 

নিহতের ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি বাইরে ছিলেন। মোবাইল ফোনে জানতে পারেন তার বোনকে গ্যাসের ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার কয়েক দিন আগে তাকে মারধর করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, রিমার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করতেই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।