ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের পর বরগুনায় এবার ডায়রিয়ার হানা, এক মাসে আক্রান্ত ১৫০০

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১৯ Time View
১৭৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : হামের প্রকোপ কাটিয়ে ওঠার আগেই বরগুনায় নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া। জেলায় গত এক মাসে প্রায় এক হাজার ৫০০ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা চলতি বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় মোট ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহেই ৪৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই (১,৫৯৭ জন) বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আমতলী, পাথরঘাটা ও তালতলীসহ অন্যান্য উপজেলা হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে।

সরেজমিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ২০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। ২০ জনের জায়গায় ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নারী ও পুরুষ রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, স্যালাইন মিললেও অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি নোংরা পরিবেশের কারণে সুস্থ হতে এসে উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, ডায়রিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর ও আমতলীতে ২২টি, বেতাগীতে ৫টি, বামনা ও পাথরঘাটায় ১৬টি এবং বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ২টি টিম রয়েছে।

মোরশেদা আক্তার কলি নামে এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, এখানে বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া নারী-পুরুষ একই ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নোংরা পরিবেশের কারণে সুস্থ হতে এসে উল্টো আমরা যারা রোগীর সঙ্গে এসেছি তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

সুজন মিয়া নামের এক রোগী বলেন, আমার হঠাৎ করেই পেটে সমস্যা দেখা দেয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি হই। এখানে চিকিৎসা সেবা পেতে এসে উল্টো আরও মনে হয় অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এক জায়গায় গাদাগাদি করে মেঝেতে সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ ও অনেক নোংরা।

এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে হামের প্রকোপের মধ্যে এখন আবার ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। এজন্য আমরা আলাদা একটি ডায়রিয়া বিভাগ তৈরি করেছি। এছাড়া ভর্তির রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন রয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লেও আমাদের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা নিরলসভাবে সেবা প্রদান করছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, প্রতি বছরই এই সময়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো সংকট নেই এবং বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

হামের পর বরগুনায় এবার ডায়রিয়ার হানা, এক মাসে আক্রান্ত ১৫০০

Update Time : ০২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
১৭৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : হামের প্রকোপ কাটিয়ে ওঠার আগেই বরগুনায় নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া। জেলায় গত এক মাসে প্রায় এক হাজার ৫০০ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা চলতি বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় মোট ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহেই ৪৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই (১,৫৯৭ জন) বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আমতলী, পাথরঘাটা ও তালতলীসহ অন্যান্য উপজেলা হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে।

সরেজমিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ২০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। ২০ জনের জায়গায় ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নারী ও পুরুষ রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, স্যালাইন মিললেও অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি নোংরা পরিবেশের কারণে সুস্থ হতে এসে উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, ডায়রিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর ও আমতলীতে ২২টি, বেতাগীতে ৫টি, বামনা ও পাথরঘাটায় ১৬টি এবং বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ২টি টিম রয়েছে।

মোরশেদা আক্তার কলি নামে এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, এখানে বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া নারী-পুরুষ একই ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নোংরা পরিবেশের কারণে সুস্থ হতে এসে উল্টো আমরা যারা রোগীর সঙ্গে এসেছি তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

সুজন মিয়া নামের এক রোগী বলেন, আমার হঠাৎ করেই পেটে সমস্যা দেখা দেয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি হই। এখানে চিকিৎসা সেবা পেতে এসে উল্টো আরও মনে হয় অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এক জায়গায় গাদাগাদি করে মেঝেতে সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ ও অনেক নোংরা।

এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে হামের প্রকোপের মধ্যে এখন আবার ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। এজন্য আমরা আলাদা একটি ডায়রিয়া বিভাগ তৈরি করেছি। এছাড়া ভর্তির রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন রয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লেও আমাদের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা নিরলসভাবে সেবা প্রদান করছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, প্রতি বছরই এই সময়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো সংকট নেই এবং বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।