ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি জমি কেনাবেচার ‘হাট’: নেপথ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ৫১ Time View
৯০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারি জমি দখল পাইয়ে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যসহকারী মামুনের বিরুদ্ধে। পাউবোর এই এক কর্মচারীর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংড়া বাজার, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া, কাঞ্চুরহাট এবং চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার ও বান্ধাঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাউবোর বেড়িবাঁধের ওপর অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কার্যসহকারী মামুনকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে এসব জায়গায় বহুতল ভবন ও ছোট-বড় দোকানঘর তোলা হচ্ছে। প্রতিটি স্থাপনাভেদে ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দের নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেংড়া বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর বনায়নের হাজারো চারা গাছ কেটে ঘর তোলার অনুমতি দিয়েছেন মামুন। বন বিভাগ বাধা দিলেও মামুনের আশ্বাসে রাতের আঁধারে সেসব ঘর তোলা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, “ঘর তোলার জন্য মামুন আমার কাছে ২ লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি ৫০ হাজার টাকা দিতে চাওয়ায় আমাকে অনুমতি দেয়নি। পরে এমাদুল গাজী নামের একজন ২ লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে ঘর তোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”

পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, “পাউবোর মামুন টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি দখলে সহায়তা করেন। এমনকি সংরক্ষিত বনায়নের চারা গাছ নষ্ট করে দোকান তোলার প্লট দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছি।”

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর জানান, মামুনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও অবৈধ ঘর তোলার বিষয়ে অনেকেই তার কাছে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটা কার্যালয়ে গেলে কার্যসহকারী মো. মামুন সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা না বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, “আমাদের জমি বিভিন্ন জায়গায় দখল হওয়ার অভিযোগ পাচ্ছি। তবে আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নিচ্ছে কি না তা জানা নেই। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

সরকারি জমি কেনাবেচার ‘হাট’: নেপথ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী!

Update Time : ১০:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
৯০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারি জমি দখল পাইয়ে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যসহকারী মামুনের বিরুদ্ধে। পাউবোর এই এক কর্মচারীর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংড়া বাজার, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া, কাঞ্চুরহাট এবং চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার ও বান্ধাঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাউবোর বেড়িবাঁধের ওপর অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কার্যসহকারী মামুনকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে এসব জায়গায় বহুতল ভবন ও ছোট-বড় দোকানঘর তোলা হচ্ছে। প্রতিটি স্থাপনাভেদে ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দের নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেংড়া বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর বনায়নের হাজারো চারা গাছ কেটে ঘর তোলার অনুমতি দিয়েছেন মামুন। বন বিভাগ বাধা দিলেও মামুনের আশ্বাসে রাতের আঁধারে সেসব ঘর তোলা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, “ঘর তোলার জন্য মামুন আমার কাছে ২ লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি ৫০ হাজার টাকা দিতে চাওয়ায় আমাকে অনুমতি দেয়নি। পরে এমাদুল গাজী নামের একজন ২ লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে ঘর তোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”

পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, “পাউবোর মামুন টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি দখলে সহায়তা করেন। এমনকি সংরক্ষিত বনায়নের চারা গাছ নষ্ট করে দোকান তোলার প্লট দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছি।”

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর জানান, মামুনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও অবৈধ ঘর তোলার বিষয়ে অনেকেই তার কাছে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটা কার্যালয়ে গেলে কার্যসহকারী মো. মামুন সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা না বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, “আমাদের জমি বিভিন্ন জায়গায় দখল হওয়ার অভিযোগ পাচ্ছি। তবে আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নিচ্ছে কি না তা জানা নেই। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।