ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ মুহূর্তে ঝালকাঠির ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ৩১ Time View
৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র তিনদিন। শেষ মুহূর্তে ঝালকাঠি শহরের বিপনি বিতান ও প্রসাধনীর মার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নতুন পোশাক কিনতে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিনই ক্রেতারা ভিড় করছেন ঝালকাঠির মার্কেটে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

সরেজমিনে মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিশেষ করে থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট এবং শিশুদের পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের উপস্থিতি। গত সপ্তাহের তুলনায় এখন মার্কেটে ক্রেতাদের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। সকাল থেকেই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয় এবং রাত ১২টা পর্যন্ত কেনাকাটা চলে।

এবছর ঈদ মার্কেটে মেয়েদের নায়রা, সারারা, গারারা, পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান, ফারসি বিভিন্ন নামে বেনামে পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সারারা, গারারা, ফারসি পোশাকে নজর বেশি ক্রেতাদের। এছাড়া জামদানি, সিল্ক জামদানি, বি প্লাস শাড়িতে বেশ আগ্রহ ক্রেতাদের। সুতির হাতে কাজ করা থ্রী পিচ, এ্যামব্রডারি থ্রি পিচও বেশ ভালো চলছে।

কুমারপট্টির কাপড় ব্যবসায়ী মনজুর মোরসেদ জানান, “ঈদ উপলক্ষে আমরা নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক এনেছি। গত কয়েক দিন ধরে ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মার্কেটে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। আশা করছি ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে বিক্রি আরও বাড়বে।

তিনি আরও জানান, মহিলা ও শিশুদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। থ্রি-পিস ও বাচ্চাদের বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাক ভালো বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আবদুস সবুরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঈদ মানেই নতুন পোশাকের আনন্দ। তাই পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে মার্কেটে এসেছেন।

ঝালকাঠি পৌর শহরের ইছানিল এলাকার বাসিন্দা নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, প্রতি বছরই ঈদের আগে মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসি। এখানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। তবে কিছু পোশাকের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে মনে হয়েছে। আগের তুলনায় এবছর বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের দাম বাড়ার প্রভাব বাজারেও পড়েছে।

তিনি বলেন, ছেলে মেয়ে পরিবারসহ সবার জন্যই কিছু না কিছু কিনতে হবে। কিস্তু মার্কেটে জামা কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় কেনাকাটায় হিমসিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে অনেক দোকানে অতিরিক্ত কর্মচারী রাখা হয়েছে এবং রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা হচ্ছে। মার্কেট এলাকায় ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও জোরদার করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ১/২ দিন আগে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে এবং এবারের ঈদ মৌসুমে তাদের বিক্রি সন্তোষজনক হবে। শুধু পোষাক বা প্রসাধন সামগ্রীর দোকানেই ভিড় নয়, ভিড় রয়েছে জুতা সেন্ডেলের দোকানেও। শুধু ঈদ সামগ্রী নয় অনেক পরিবার তৈজষপত্র কেনার জন্য ক্রোকারিজের দোকানেও ছোটাছুটি করছেন।

সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঈদ মার্কেটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঈদ বাজারে আসা নারী পুরুষের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সার্বক্ষিনক তৎপর রয়েছে। যানযট নিয়ন্ত্রণেও পুলিশ কাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

শেষ মুহূর্তে ঝালকাঠির ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

Update Time : ০২:১৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র তিনদিন। শেষ মুহূর্তে ঝালকাঠি শহরের বিপনি বিতান ও প্রসাধনীর মার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নতুন পোশাক কিনতে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিনই ক্রেতারা ভিড় করছেন ঝালকাঠির মার্কেটে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

সরেজমিনে মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিশেষ করে থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট এবং শিশুদের পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের উপস্থিতি। গত সপ্তাহের তুলনায় এখন মার্কেটে ক্রেতাদের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। সকাল থেকেই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয় এবং রাত ১২টা পর্যন্ত কেনাকাটা চলে।

এবছর ঈদ মার্কেটে মেয়েদের নায়রা, সারারা, গারারা, পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান, ফারসি বিভিন্ন নামে বেনামে পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সারারা, গারারা, ফারসি পোশাকে নজর বেশি ক্রেতাদের। এছাড়া জামদানি, সিল্ক জামদানি, বি প্লাস শাড়িতে বেশ আগ্রহ ক্রেতাদের। সুতির হাতে কাজ করা থ্রী পিচ, এ্যামব্রডারি থ্রি পিচও বেশ ভালো চলছে।

কুমারপট্টির কাপড় ব্যবসায়ী মনজুর মোরসেদ জানান, “ঈদ উপলক্ষে আমরা নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক এনেছি। গত কয়েক দিন ধরে ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মার্কেটে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। আশা করছি ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে বিক্রি আরও বাড়বে।

তিনি আরও জানান, মহিলা ও শিশুদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। থ্রি-পিস ও বাচ্চাদের বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাক ভালো বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আবদুস সবুরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঈদ মানেই নতুন পোশাকের আনন্দ। তাই পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে মার্কেটে এসেছেন।

ঝালকাঠি পৌর শহরের ইছানিল এলাকার বাসিন্দা নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, প্রতি বছরই ঈদের আগে মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসি। এখানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। তবে কিছু পোশাকের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে মনে হয়েছে। আগের তুলনায় এবছর বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের দাম বাড়ার প্রভাব বাজারেও পড়েছে।

তিনি বলেন, ছেলে মেয়ে পরিবারসহ সবার জন্যই কিছু না কিছু কিনতে হবে। কিস্তু মার্কেটে জামা কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় কেনাকাটায় হিমসিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে অনেক দোকানে অতিরিক্ত কর্মচারী রাখা হয়েছে এবং রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা হচ্ছে। মার্কেট এলাকায় ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও জোরদার করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ১/২ দিন আগে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে এবং এবারের ঈদ মৌসুমে তাদের বিক্রি সন্তোষজনক হবে। শুধু পোষাক বা প্রসাধন সামগ্রীর দোকানেই ভিড় নয়, ভিড় রয়েছে জুতা সেন্ডেলের দোকানেও। শুধু ঈদ সামগ্রী নয় অনেক পরিবার তৈজষপত্র কেনার জন্য ক্রোকারিজের দোকানেও ছোটাছুটি করছেন।

সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঈদ মার্কেটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঈদ বাজারে আসা নারী পুরুষের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সার্বক্ষিনক তৎপর রয়েছে। যানযট নিয়ন্ত্রণেও পুলিশ কাজ করছে।