ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ জিয়ার রাজনীতিক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন যাদু মিয়া: তথ্যমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ২৮ Time View
৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামরিক কর্মকর্তা থেকে জননন্দিত রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তর এবং দেশে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনের ভিত্তিমূল গঠনে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জননেতা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, তখন প্রায় সব রাজনৈতিক ধারাই এক ধরনের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মুখে পড়েছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির সঙ্গে শেরে বাংলার কৃষক প্রজা পার্টি যেমন কার্যকারিতা হারায়, তেমনি স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগের রাজনীতিও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামের মতো রাজনৈতিক দল পবিত্র ইসলাম এবং কোরআনের নামে যে সংগঠিত দর্শন এবং ইসলামের সংমিশ্রণ তৈরি করেছিল, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের যুদ্ধবিরোধী ও দেশবিরোধী ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে তারা দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকতে বাধ্য ছিল। সেই সময় জাসদের প্রতিক্রিয়াধর্মী উত্থান কিংবা মস্কোপন্থী-চীনপন্থী রাজনীতি যখন দিশেহারা, ঠিক সেই সময়ে সমসাময়িক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথরেখা তৈরি করার একক দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন কেবল যাদু মিয়া।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ। সামরিক বাহিনীর মনোজগত থেকে একজন সেনা কর্মকর্তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্বটি যাদু মিয়াই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। শহীদ জিয়ার রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা, তাঁর চিন্তা, দর্শন এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে যাদু মিয়ার অনন্য প্রজ্ঞা কাজ করেছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যাদু মিয়ার সেই সময়কার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাক্রম রচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সেদিন সামরিক কর্মকর্তা থেকে জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তরের সূচনা করেছিলেন বলেই পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার পথ পেয়েছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক।’

বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ক্যাপ্টেন এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ দিদার বখত, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান এবং মোস্তফা কামাল মজুমদার। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিটা রহমান।

বক্তারা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

শহীদ জিয়ার রাজনীতিক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন যাদু মিয়া: তথ্যমন্ত্রী

Update Time : ০৩:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামরিক কর্মকর্তা থেকে জননন্দিত রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তর এবং দেশে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনের ভিত্তিমূল গঠনে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জননেতা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, তখন প্রায় সব রাজনৈতিক ধারাই এক ধরনের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মুখে পড়েছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির সঙ্গে শেরে বাংলার কৃষক প্রজা পার্টি যেমন কার্যকারিতা হারায়, তেমনি স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগের রাজনীতিও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামের মতো রাজনৈতিক দল পবিত্র ইসলাম এবং কোরআনের নামে যে সংগঠিত দর্শন এবং ইসলামের সংমিশ্রণ তৈরি করেছিল, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের যুদ্ধবিরোধী ও দেশবিরোধী ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে তারা দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকতে বাধ্য ছিল। সেই সময় জাসদের প্রতিক্রিয়াধর্মী উত্থান কিংবা মস্কোপন্থী-চীনপন্থী রাজনীতি যখন দিশেহারা, ঠিক সেই সময়ে সমসাময়িক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথরেখা তৈরি করার একক দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন কেবল যাদু মিয়া।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ। সামরিক বাহিনীর মনোজগত থেকে একজন সেনা কর্মকর্তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্বটি যাদু মিয়াই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। শহীদ জিয়ার রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা, তাঁর চিন্তা, দর্শন এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে যাদু মিয়ার অনন্য প্রজ্ঞা কাজ করেছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যাদু মিয়ার সেই সময়কার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাক্রম রচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সেদিন সামরিক কর্মকর্তা থেকে জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তরের সূচনা করেছিলেন বলেই পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার পথ পেয়েছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক।’

বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ক্যাপ্টেন এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ দিদার বখত, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান এবং মোস্তফা কামাল মজুমদার। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিটা রহমান।

বক্তারা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।