ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রিসভায় ফুটবলের মাঠ কাঁপানো ২ অধিনায়ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪ Time View
১১২

নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্বীপ জেলা ভোলার সন্তান ও ফুটবলের জাতীয় দলের সাবেক দুই অধিনায়ক এবার বিএনপি সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। তারা হলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অপরজন হলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)। জন্মস্থান ও পৈত্তিক বাড়ি ভোলার দৌলতখানে হলেও তিনি ঢাকা-১৬ আসনে নির্বাচন করেন।

 

মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হন মেজর (অব.) হাফিজ। ৮০ বছর বয়সে এবার সপ্তম বারের মতো ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের পূর্ণ মেয়াদে তিনি পাট, পানি সম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পৈত্রিক সূত্রে তার বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে। বর্তমানে লালমোহন পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজের বাড়ি আছে। ১৯৪৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নে কর্মরত থাকাকালে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ নেন। সিলেটের এমসি কলেজ যুদ্ধ, কামালপুর, ধলই বিওপি, কানাইঘাটের যুদ্ধে বীরত্বগাঁথা ভূমিকার জন্য স্বাধীনতার পর তিনি বীর বিক্রম উপাধি পান। সেনাবাহিনীতে থাকাকালে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন।

১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে ভোলা-৩ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে একই আসন থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম ও ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টানা ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার নিয়ে তিনি ১০ বার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৭ বার বিজয়ী হলেন।

আমিনুল হক

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক গোলরক্ষক ও জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আমিনুল হক ১৯৮০ সালের ৫ অক্টোবর ভোলার দৌলতখানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর গ্রামে। মেঘনা নদীতে বাড়ি ভেঙে গেলে তার দাদা ফের ভবানীপুর ইউনিয়নে বাড়ি করেন। ওই বাড়িও নদীতে ভেঙে গেলে দৌলতখান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন বাড়ি করেন। পরে ৩৫ বছর আগে বাবা এমরান হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। তখন থেকেই ঢাকার মীরপুরের পল্লবীতে বাস করেন আমিনুল।

১৯৯৪ সালে ঢাকা মোহামেডানে যুব ফুটবল খেলার মাধ্যমে ক্রীড়াবিদের জীবন শুরু হয় আমিনুলের। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে তিনি ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেন। দেশের এ যাবতকালের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। ছিলেন ২০০৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের নায়ক।

এছাড়া ২০১০ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে স্বর্ণপদক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ক্লাব ক্যারিয়ারেও ছিলেন বেশ উজ্জ্বল। ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সব শীর্ষ ক্লাবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। ছিলেন ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার।

ভোলার ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন বলেন, আমরা দুই গর্বিত সন্তানকে মন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি।

দৌলতখান পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম পলিন বলেন, দৌলতখানের সন্তান আমিনুল ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় দৌলতখানবাসী গর্ববোধ করছে। এলাকার পক্ষ থেকেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পলিন।

আমিনুল এ বছর ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তালতলীতে মর্গে মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি

মন্ত্রিসভায় ফুটবলের মাঠ কাঁপানো ২ অধিনায়ক

Update Time : ০৩:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১১২

নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্বীপ জেলা ভোলার সন্তান ও ফুটবলের জাতীয় দলের সাবেক দুই অধিনায়ক এবার বিএনপি সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। তারা হলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অপরজন হলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)। জন্মস্থান ও পৈত্তিক বাড়ি ভোলার দৌলতখানে হলেও তিনি ঢাকা-১৬ আসনে নির্বাচন করেন।

 

মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হন মেজর (অব.) হাফিজ। ৮০ বছর বয়সে এবার সপ্তম বারের মতো ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের পূর্ণ মেয়াদে তিনি পাট, পানি সম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পৈত্রিক সূত্রে তার বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে। বর্তমানে লালমোহন পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজের বাড়ি আছে। ১৯৪৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নে কর্মরত থাকাকালে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ নেন। সিলেটের এমসি কলেজ যুদ্ধ, কামালপুর, ধলই বিওপি, কানাইঘাটের যুদ্ধে বীরত্বগাঁথা ভূমিকার জন্য স্বাধীনতার পর তিনি বীর বিক্রম উপাধি পান। সেনাবাহিনীতে থাকাকালে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন।

১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে ভোলা-৩ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে একই আসন থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম ও ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টানা ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার নিয়ে তিনি ১০ বার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৭ বার বিজয়ী হলেন।

আমিনুল হক

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক গোলরক্ষক ও জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আমিনুল হক ১৯৮০ সালের ৫ অক্টোবর ভোলার দৌলতখানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর গ্রামে। মেঘনা নদীতে বাড়ি ভেঙে গেলে তার দাদা ফের ভবানীপুর ইউনিয়নে বাড়ি করেন। ওই বাড়িও নদীতে ভেঙে গেলে দৌলতখান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন বাড়ি করেন। পরে ৩৫ বছর আগে বাবা এমরান হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। তখন থেকেই ঢাকার মীরপুরের পল্লবীতে বাস করেন আমিনুল।

১৯৯৪ সালে ঢাকা মোহামেডানে যুব ফুটবল খেলার মাধ্যমে ক্রীড়াবিদের জীবন শুরু হয় আমিনুলের। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে তিনি ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেন। দেশের এ যাবতকালের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। ছিলেন ২০০৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের নায়ক।

এছাড়া ২০১০ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে স্বর্ণপদক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ক্লাব ক্যারিয়ারেও ছিলেন বেশ উজ্জ্বল। ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সব শীর্ষ ক্লাবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। ছিলেন ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার।

ভোলার ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন বলেন, আমরা দুই গর্বিত সন্তানকে মন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি।

দৌলতখান পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম পলিন বলেন, দৌলতখানের সন্তান আমিনুল ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় দৌলতখানবাসী গর্ববোধ করছে। এলাকার পক্ষ থেকেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পলিন।

আমিনুল এ বছর ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন।