ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় গ্রেপ্তার নারী কর্মী বিবি সাওদার জামিন, মতপ্রকাশ নিয়ে নতুন বিতর্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৭ Time View
৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভোলার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠু শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তারের দুই দিনের মাথায় জামিন পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাইবার আইনের প্রয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছে।

এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ভোলা সদর পৌরসভার নিজ বাসা থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। পরদিন সোমবার (৬ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পুনরায় আদালতে তোলা হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়।

পুলিশ জানায়, ‘Sawoda Sumi’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। সাইবার প্যাট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পোস্টগুলোর সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেও জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একটি পোস্টে জ্বালানি তেল ইস্যুতে তিনি লেখেন, “আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি, তাহলে বেশি দামে ভারত থেকে কেন আনতে হবে?” এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বিবি সাওদার দাবি, একটি ভিডিও ও ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার ভাষ্য, “মত প্রকাশের কারণেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও কম নয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বোন সাওদা সুমি মুক্ত।” এর আগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিনি তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’ বলেও মন্তব্য করেন।

একইভাবে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে দাবি করেন, মতপ্রকাশের কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা সংবিধানস্বীকৃত অধিকারের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “সরকারবিরোধী মত প্রকাশ করলেই গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাইবার আইন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় গ্রেপ্তার নারী কর্মী বিবি সাওদার জামিন, মতপ্রকাশ নিয়ে নতুন বিতর্ক

Update Time : ০১:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভোলার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠু শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তারের দুই দিনের মাথায় জামিন পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাইবার আইনের প্রয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছে।

এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ভোলা সদর পৌরসভার নিজ বাসা থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। পরদিন সোমবার (৬ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পুনরায় আদালতে তোলা হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়।

পুলিশ জানায়, ‘Sawoda Sumi’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। সাইবার প্যাট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পোস্টগুলোর সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেও জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একটি পোস্টে জ্বালানি তেল ইস্যুতে তিনি লেখেন, “আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি, তাহলে বেশি দামে ভারত থেকে কেন আনতে হবে?” এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বিবি সাওদার দাবি, একটি ভিডিও ও ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার ভাষ্য, “মত প্রকাশের কারণেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও কম নয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বোন সাওদা সুমি মুক্ত।” এর আগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিনি তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’ বলেও মন্তব্য করেন।

একইভাবে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে দাবি করেন, মতপ্রকাশের কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা সংবিধানস্বীকৃত অধিকারের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “সরকারবিরোধী মত প্রকাশ করলেই গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাইবার আইন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।