ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাড়া কমাতে বরিশালে সিটি বাস চালুর জোরালো দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ১৬ Time View
৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : চালকদের দাবি, খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের বিকল্প নেই। তবে যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে বরিশাল নগরীর জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। ত্রিমুখী এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগর পরিবহন ব্যবস্থায়। দীর্ঘদিন ধরে সিটি বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, আর সেই সুযোগে বাড়ছে যাত্রী ভাড়া। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

নগরজুড়ে এখন প্রধান বাহন হিসেবে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটো, রিকশা, গ্যাসচালিত সিএনজি ও তেলচালিত মাহিন্দ্রা। এসব যানবাহন জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভাড়ার ওপর। চালকদের দাবি, খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের বিকল্প নেই। তবে যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

জানা যায়, ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র অ্যাডভোকেট মো: মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীতে প্রথমবারের মতো সিটি বাস সার্ভিস চালু করেন। নথুল্লাবাদ-রুপাতলী-লঞ্চঘাট রুটে চলাচল করা বিআরটিসির দ্বিতল এই বাস সার্ভিস দ্রুতই নগরবাসীর আস্থার জায়গা করে নেয়। স্বল্প ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। কিন্তু দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর এই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরণের উদ্যোগে পুনরায় চালু করা হয় সিটি বাস। রুপাতলী বাস টার্মিনাল, নথুল্লাবাদ ও নদীবন্দর সংযোগে বাসগুলো চলাচল করলেও ২০১৩ সালে অজ্ঞাত কারণে আবারো বন্ধ হয়ে যায় এই গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা। এরপর দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সিটি বাস সার্ভিস আর চালু হয়নি, যা এখন নগরবাসীর অন্যতম প্রধান ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাটে যাতায়াতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লঞ্চঘাট থেকে রুপাতলী ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং লঞ্চঘাট থেকে চৌমাথা ২০ থেকে ২৫ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। একইভাবে রুপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ যাতায়াতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। যেখানে একসময় একই রুটে ৫ থেকে ১০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা সংঘর্ষেও রূপ নিচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। বিএম কলেজের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ২৫ টাকা দিয়ে কলেজে যেতে হয়। সিটি বাস চালু থাকলে কম খরচে যাতায়াত করা সম্ভব হতো।’

প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১২ সালে সিটি বাসে মাত্র পাঁচ টাকায় লঞ্চঘাট থেকে কলেজে যেতাম। এখন সেখানে ২৫ টাকা গুনতে হচ্ছে।’

রুপাতলীর বাসিন্দা ফারুক বলেন, ‘আগে পাঁচ টাকায় যাতায়াত করা যেত। এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে। দ্রুত সিটি সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরীন বলেন, ‘সিটি বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নগরীর সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় তা বাস্তবায়নে কিছুটা জটিলতা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মালিক-চালক ও বিআরটিএ’র সাথে শিগগিরই বৈঠক করা হবে এবং প্রতিটি যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক করা হবে।’

প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। বিভাগীয় সদর হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত এই নগরীর ওপর নির্ভরশীল।

নগরবাসীর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালু করা হলে ভাড়া কমবে এবং জনদুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাসহ ২৫ জনের ৩৩টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

ভাড়া কমাতে বরিশালে সিটি বাস চালুর জোরালো দাবি

Update Time : ০৪:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : চালকদের দাবি, খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের বিকল্প নেই। তবে যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে বরিশাল নগরীর জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। ত্রিমুখী এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগর পরিবহন ব্যবস্থায়। দীর্ঘদিন ধরে সিটি বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, আর সেই সুযোগে বাড়ছে যাত্রী ভাড়া। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

নগরজুড়ে এখন প্রধান বাহন হিসেবে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটো, রিকশা, গ্যাসচালিত সিএনজি ও তেলচালিত মাহিন্দ্রা। এসব যানবাহন জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভাড়ার ওপর। চালকদের দাবি, খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের বিকল্প নেই। তবে যাত্রীরা বলছেন, নির্ধারিত ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

জানা যায়, ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র অ্যাডভোকেট মো: মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীতে প্রথমবারের মতো সিটি বাস সার্ভিস চালু করেন। নথুল্লাবাদ-রুপাতলী-লঞ্চঘাট রুটে চলাচল করা বিআরটিসির দ্বিতল এই বাস সার্ভিস দ্রুতই নগরবাসীর আস্থার জায়গা করে নেয়। স্বল্প ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। কিন্তু দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর এই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরণের উদ্যোগে পুনরায় চালু করা হয় সিটি বাস। রুপাতলী বাস টার্মিনাল, নথুল্লাবাদ ও নদীবন্দর সংযোগে বাসগুলো চলাচল করলেও ২০১৩ সালে অজ্ঞাত কারণে আবারো বন্ধ হয়ে যায় এই গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা। এরপর দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সিটি বাস সার্ভিস আর চালু হয়নি, যা এখন নগরবাসীর অন্যতম প্রধান ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাটে যাতায়াতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লঞ্চঘাট থেকে রুপাতলী ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং লঞ্চঘাট থেকে চৌমাথা ২০ থেকে ২৫ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। একইভাবে রুপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ যাতায়াতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। যেখানে একসময় একই রুটে ৫ থেকে ১০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা সংঘর্ষেও রূপ নিচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। বিএম কলেজের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ২৫ টাকা দিয়ে কলেজে যেতে হয়। সিটি বাস চালু থাকলে কম খরচে যাতায়াত করা সম্ভব হতো।’

প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১২ সালে সিটি বাসে মাত্র পাঁচ টাকায় লঞ্চঘাট থেকে কলেজে যেতাম। এখন সেখানে ২৫ টাকা গুনতে হচ্ছে।’

রুপাতলীর বাসিন্দা ফারুক বলেন, ‘আগে পাঁচ টাকায় যাতায়াত করা যেত। এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে। দ্রুত সিটি সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরীন বলেন, ‘সিটি বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নগরীর সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় তা বাস্তবায়নে কিছুটা জটিলতা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মালিক-চালক ও বিআরটিএ’র সাথে শিগগিরই বৈঠক করা হবে এবং প্রতিটি যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক করা হবে।’

প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। বিভাগীয় সদর হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত এই নগরীর ওপর নির্ভরশীল।

নগরবাসীর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালু করা হলে ভাড়া কমবে এবং জনদুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।