ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কোয়াশ চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪ Time View
১১১

কৃষি ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতকালে কৃষকের মাঠে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের শাকসবজি। এসব সবজির পাশাপাশি এবার জেলার নবীনগর উপজেলায় নতুন করে চাষ করা হয়েছে স্কোয়াশ। এটি একটি বিদেশি সবজি। দেখতে অনেকটা শসার মতো। এর চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। উচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই সবজি চাষে জেলায় সম্ভাবনার হাতিছানি দেখা দিয়েছে।

 

কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে সম্ভাবনাময় স্কোয়াশ সবজির সফল চাষ হয়েছে। উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর ব্লকের ধরাভাংগা গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া স্কোয়াশ চাষে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ আবাদ করেন। বীজ বপনের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই প্রথম দফায় ১০ কেজি স্কোয়াশ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ৪৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪৩ কেজি স্কোয়াশ উৎপাদন করতে সক্ষম হন। পাশাপাশি পৌরসভার আলমনগর গ্রামের কৃষক মুর্শেদা বেগম প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ এক বিঘায় চাষাবাদ বাবদ দশ হাজার টাকা খরচ করে ১০০ দিনের ব্যবধানে লাভ হতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

 

বড়িকান্দি ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়া বলেন, স্কোয়াশ চাষে খরচ কম, রোগবালাইও কম। অল্প সময়েই ফলন পাওয়া যায় ও বাজারে এই মূহুর্তে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে। দাম ভালো থাকায় লাভও হচ্ছে।

 

নবীনগর পৌরসভার আলমনগর গ্রামের কৃষাণী মুর্শেদা বেগম জানান, বড়িকান্দি ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়ার সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কোয়াশ আবাদ করা হয়। প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন। পারিবারিক উদ্যোগে এই সবজি চাষ শুরু করেছেন এবং কম সময়ে ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে স্কোয়াশের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে অল্প জায়গা ব্যবহার করেও কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারছেন।

 

বড়িকান্দি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার দেলোয়ার হোসাইন জানান, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে স্কোয়াশে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি, যাতে এই ফসল আরও বিস্তৃত হয়।

 

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, স্কোয়াশ একটি দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চমূল্যের সবজি। নবীনগরের মাটি ও আবহাওয়া এই ফসলের জন্য উপযোগী। জমির আইল, বসতবাড়ির আশপাশ ও পতিত জায়গায় স্কোয়াশ চাষ করে কৃষকরা সহজেই অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি নবীনগরের একটি লাভজনক সবজি ফসলে পরিণত হবে এবং কৃষকদের আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনে বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কোয়াশ চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

Update Time : ০১:৪২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
১১১

কৃষি ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতকালে কৃষকের মাঠে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের শাকসবজি। এসব সবজির পাশাপাশি এবার জেলার নবীনগর উপজেলায় নতুন করে চাষ করা হয়েছে স্কোয়াশ। এটি একটি বিদেশি সবজি। দেখতে অনেকটা শসার মতো। এর চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। উচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই সবজি চাষে জেলায় সম্ভাবনার হাতিছানি দেখা দিয়েছে।

 

কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে সম্ভাবনাময় স্কোয়াশ সবজির সফল চাষ হয়েছে। উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর ব্লকের ধরাভাংগা গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া স্কোয়াশ চাষে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ আবাদ করেন। বীজ বপনের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই প্রথম দফায় ১০ কেজি স্কোয়াশ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ৪৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪৩ কেজি স্কোয়াশ উৎপাদন করতে সক্ষম হন। পাশাপাশি পৌরসভার আলমনগর গ্রামের কৃষক মুর্শেদা বেগম প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ এক বিঘায় চাষাবাদ বাবদ দশ হাজার টাকা খরচ করে ১০০ দিনের ব্যবধানে লাভ হতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

 

বড়িকান্দি ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়া বলেন, স্কোয়াশ চাষে খরচ কম, রোগবালাইও কম। অল্প সময়েই ফলন পাওয়া যায় ও বাজারে এই মূহুর্তে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে। দাম ভালো থাকায় লাভও হচ্ছে।

 

নবীনগর পৌরসভার আলমনগর গ্রামের কৃষাণী মুর্শেদা বেগম জানান, বড়িকান্দি ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়ার সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কোয়াশ আবাদ করা হয়। প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন। পারিবারিক উদ্যোগে এই সবজি চাষ শুরু করেছেন এবং কম সময়ে ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে স্কোয়াশের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে অল্প জায়গা ব্যবহার করেও কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারছেন।

 

বড়িকান্দি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার দেলোয়ার হোসাইন জানান, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে স্কোয়াশে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি, যাতে এই ফসল আরও বিস্তৃত হয়।

 

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, স্কোয়াশ একটি দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চমূল্যের সবজি। নবীনগরের মাটি ও আবহাওয়া এই ফসলের জন্য উপযোগী। জমির আইল, বসতবাড়ির আশপাশ ও পতিত জায়গায় স্কোয়াশ চাষ করে কৃষকরা সহজেই অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি নবীনগরের একটি লাভজনক সবজি ফসলে পরিণত হবে এবং কৃষকদের আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।