ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল নগর ভবনে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ২৯ Time View
৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় অবস্থিত চারতলা নগর ভবনটি এখন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, আর দেওয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল।

সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে তৃতীয় তলায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেবের কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারার বড় একটি অংশ খসে পড়ে। সে সময় কক্ষে কেউ না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

ভবনটি সংস্কার বা নতুন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি প্রতিবার মেয়রের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনায় এলেও বাস্তবে তা যুগের পর যুগ ধরে কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সেবা দিচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং সেবা নিতে আসা নগরবাসী।

আশি ও নব্বইয়ের দশকের নকশা অনুযায়ী নির্মিত এ ভবনের ধারণক্ষমতা এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ৪৬ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ৩৫ কক্ষবিশিষ্ট দোতলা ভবনের নির্মাণ শুরু হলেও ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর নকশা বহির্ভূতভাবে একে তিন তলায় রূপান্তর করা হয়।

 

বর্তমানে এই ভবনে কক্ষ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে। মূলত সাড়ে ৪শ জনবলের জন্য নির্মিত এ ভবনে এখন প্রায় ১ হাজার ৬শ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রতিদিন গড়ে অন্তত সাড়ে চার হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে এখানে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবনটি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সেখানকার চারটি বিভাগের কার্যক্রমও এখন এ মূল ভবনে স্থনান্তর করা হয়েছে। এতে ভবনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল বাসার জানান, এ জরাজীর্ণ ভবনের কোনো কাঠামোগত নকশা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং মূল কলামের ফাটলগুলো অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

নগরভবনের স্টাফরা জানান, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ প্রথম নগর ভবন স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলেও তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা আর এগোয়নি। পরবর্তী মেয়ররা বিভিন্ন সময় সংস্কার ও নতুন পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তব কোনো সমাধান আসেনি।

 

বর্তমান বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বললেন, নথুল্লাবাদে ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন নগর ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে এবং এটি দ্রুত পাস হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ লাখ মানুষের সেবার এ প্রাণকেন্দ্রটি বর্তমানে প্রত্যেকের জন্যই পলেস্তারা হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

বরিশাল নগর ভবনে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা

Update Time : ০৯:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় অবস্থিত চারতলা নগর ভবনটি এখন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, আর দেওয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল।

সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে তৃতীয় তলায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেবের কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারার বড় একটি অংশ খসে পড়ে। সে সময় কক্ষে কেউ না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

ভবনটি সংস্কার বা নতুন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি প্রতিবার মেয়রের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনায় এলেও বাস্তবে তা যুগের পর যুগ ধরে কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সেবা দিচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং সেবা নিতে আসা নগরবাসী।

আশি ও নব্বইয়ের দশকের নকশা অনুযায়ী নির্মিত এ ভবনের ধারণক্ষমতা এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ৪৬ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ৩৫ কক্ষবিশিষ্ট দোতলা ভবনের নির্মাণ শুরু হলেও ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর নকশা বহির্ভূতভাবে একে তিন তলায় রূপান্তর করা হয়।

 

বর্তমানে এই ভবনে কক্ষ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে। মূলত সাড়ে ৪শ জনবলের জন্য নির্মিত এ ভবনে এখন প্রায় ১ হাজার ৬শ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রতিদিন গড়ে অন্তত সাড়ে চার হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে এখানে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবনটি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সেখানকার চারটি বিভাগের কার্যক্রমও এখন এ মূল ভবনে স্থনান্তর করা হয়েছে। এতে ভবনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল বাসার জানান, এ জরাজীর্ণ ভবনের কোনো কাঠামোগত নকশা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং মূল কলামের ফাটলগুলো অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

নগরভবনের স্টাফরা জানান, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ প্রথম নগর ভবন স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলেও তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা আর এগোয়নি। পরবর্তী মেয়ররা বিভিন্ন সময় সংস্কার ও নতুন পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তব কোনো সমাধান আসেনি।

 

বর্তমান বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বললেন, নথুল্লাবাদে ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন নগর ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে এবং এটি দ্রুত পাস হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ লাখ মানুষের সেবার এ প্রাণকেন্দ্রটি বর্তমানে প্রত্যেকের জন্যই পলেস্তারা হয়ে উঠেছে।