ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল নগরীতে চাঁদা না পেয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর, মামলা দায়ের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৯ Time View
৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট এবং মাছের ঘের দখলের অভিযোগে আটজনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন-সুজা বিশ্বাস, শান্ত বিশ্বাস, জিহাদ বিশ্বাস, বিপ্লব বিশ্বাস, শামছু বিশ্বাস, আলামিন বিশ্বাস, জাহান আলী বিশ্বাস ও মেহেদী বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮  জন।

 

মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নগরীতে বসে মামলার বাদি পলাশী ইয়াসমিন (৫৫) অভিযোগ করে বলেন, তিনি বাগেরহাট জেলায় কার্তিকদিয়া পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রে মুলহোতা সুজা বিশ্বাস ও শান্ত বিশ্বাসের নেতৃত্বে তাদের সহযোগিরা দীর্ঘদিন থেকে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় উল্লেখিতরা সম্প্রতি সশস্ত্র অবস্থায় তাদের (বাদি) বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় আসামিরা ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা, প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

 

এছাড়াও আসামিরা টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, খাটসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর আসামিরা বাদীর স্বামী মল্লিক আবু তাহের উল্লাহর মালিকানাধীন ছয়টি মাছের ঘের দখল করে নেয়। ওই ঘেরে রুই, কাতলা, কোরালসহ গলদা, বাগদা চিংড়ি মাছ ছিল। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

মামলার বাদি আরও বলেন, সুজা বিশ্বাস এলাকার ক্ষমতাবান ব্যক্তি  হওয়ায় তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মামলা দায়েরের পর আসামিদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির মুখে মামলার বাদি ও তার স্বামী মল্লিক আবু তাহের উল্লাহসহ তাদের পরিবারের সদস্য এবং মামলার তিন নাম্বার সাক্ষী মো. শাহিন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

 

মামলায় বাদি আরো উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল আসামিরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে বাদির বসত ভিটা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

 

আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলার বাদি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা সত্বেও কোনো কার্যকরী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। অভিযোগের ব্যাপারে মামলার আসামি ও প্রধান অভিযুক্ত সুজা বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তালতলীতে মর্গে মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি

বরিশাল নগরীতে চাঁদা না পেয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর, মামলা দায়ের

Update Time : ১২:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট এবং মাছের ঘের দখলের অভিযোগে আটজনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন-সুজা বিশ্বাস, শান্ত বিশ্বাস, জিহাদ বিশ্বাস, বিপ্লব বিশ্বাস, শামছু বিশ্বাস, আলামিন বিশ্বাস, জাহান আলী বিশ্বাস ও মেহেদী বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮  জন।

 

মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নগরীতে বসে মামলার বাদি পলাশী ইয়াসমিন (৫৫) অভিযোগ করে বলেন, তিনি বাগেরহাট জেলায় কার্তিকদিয়া পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রে মুলহোতা সুজা বিশ্বাস ও শান্ত বিশ্বাসের নেতৃত্বে তাদের সহযোগিরা দীর্ঘদিন থেকে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় উল্লেখিতরা সম্প্রতি সশস্ত্র অবস্থায় তাদের (বাদি) বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় আসামিরা ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা, প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

 

এছাড়াও আসামিরা টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, খাটসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর আসামিরা বাদীর স্বামী মল্লিক আবু তাহের উল্লাহর মালিকানাধীন ছয়টি মাছের ঘের দখল করে নেয়। ওই ঘেরে রুই, কাতলা, কোরালসহ গলদা, বাগদা চিংড়ি মাছ ছিল। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

মামলার বাদি আরও বলেন, সুজা বিশ্বাস এলাকার ক্ষমতাবান ব্যক্তি  হওয়ায় তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মামলা দায়েরের পর আসামিদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির মুখে মামলার বাদি ও তার স্বামী মল্লিক আবু তাহের উল্লাহসহ তাদের পরিবারের সদস্য এবং মামলার তিন নাম্বার সাক্ষী মো. শাহিন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

 

মামলায় বাদি আরো উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল আসামিরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে বাদির বসত ভিটা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

 

আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলার বাদি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা সত্বেও কোনো কার্যকরী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। অভিযোগের ব্যাপারে মামলার আসামি ও প্রধান অভিযুক্ত সুজা বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।